সিলেটের আলোচিত এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে তরুণীকে তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত আটজনের মধ্যে একজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বাকি চারজনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। দণ্ড ও খালাসপ্রাপ্ত সবাই নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের কর্মী।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার এ রায় দেন। এর আগে, মামলার ৮ আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। সকাল ১১টার দিকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যদিয়ে তাদের সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। মামলার পরবর্তী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আদালতে তাদের উপস্থিত করা হয়। এ সময় আদালত প্রাঙ্গণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ছিল।
জানা যায়, ২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে এই ঘটনার পর দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ ও র্যাব অভিযান চালিয়ে মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার করে। ২০২১ সালের ১৭ জানুয়ারি অপহরণ ও ধর্ষণ মামলায় অভিযোগ গঠন করে আসামিদের বিচার শুরুর আদেশ দেন সিলেটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। পরে দুটি মামলার বিচারকাজ একই আদালতে করার নির্দেশনা চেয়ে উচ্চ আদালতে আবেদন করে বাদীপক্ষ।
মামলাটি নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনাল থেকে গত বছরের মে মাসে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর হয়ে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। মামলায় ২৪ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। তাদের মধ্যে গৃহবধূ, তার স্বামী, আসামিদের স্বীকারোক্তি নেওয়া ম্যাজিস্ট্রেট, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, এমসি কলেজের অধ্যাপক, ওসমানী হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক রয়েছেন। দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া শেষে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে আজ মঙ্গলবার মামলাটির রায় ঘোষণা করা হয়।

রিপোর্টারের নাম 
























