বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এই জয় ম্যারাডোনার জন্য একটি উপহার: মেসি

আরেকটি রুদ্ধশ্বাস জয়। শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পিছিয়ে থেকেও ম্যাচ ঘুরিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠে গেছে আর্জেন্টিনা। এমন এক জয়ের পর লিওনেল মেসির প্রথম কথাই ছিল দিয়েগো আরমান্দো ম্যারাডোনাকে নিয়ে।

ম্যাচ শেষে টিওয়াইসি স্পোর্টসকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে মেসি বলেন, ‘নিঃসন্দেহে ওপর থেকে ম্যারাডোনা আজ দারুণ উপভোগ করছেন। আজকের দিনটা তার জন্য খুবই বিশেষ। তাকে এই আনন্দ দিতে পেরে আমরা খুশি। যেভাবেই হোক, ওপর থেকে তিনি এটা উপভোগ করুন। এই জয় তার জন্যও একটি উপহার।’

সাক্ষাৎকারের সময় সাংবাদিক মাতিয়াস পেল্লিচিওনি মেসির হাতে তুলে দেন ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যারাডোনার পরিহিত জার্সির একটি রেপ্লিকা জার্সি।

আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড লড়াই মানেই ফুটবলের গণ্ডি ছাড়িয়ে ইতিহাসের আবেগ। ১৯৮৬ সালের ২২ জুন, মেক্সিকোর আজতেকা স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে ম্যারাডোনা যা করেছিলেন, তা আজও ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায়।

প্রথমে লাফিয়ে উঠে ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল, এরপর কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে প্রায় মাঝ মাঠ থেকে দৌড়ে গিয়ে একক নৈপুণ্যে সেই শতাব্দী সেরা গোল- যেটিকে অনেকেই এখনও বিশ্বকাপ ইতিহাসের সেরা গোল বলে মনে করেন।

ম্যারাডোনার ওই স্মরণীয় পারফরম্যান্স ছাড়াও ইংল্যান্ডের সঙ্গে রয়েছে আর্জেন্টিনার ফকল্যান্ড যুদ্ধের ইতিহাস। প্রায় চার দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ আর্জেন্টিনার মানুষের কাছে এখনও বাড়তি আবেগের।

বর্তমান প্রজন্মের ফুটবলারদের সঙ্গে সেই যুদ্ধের সরাসরি সম্পর্ক না থাকলেও ম্যাচটির গুরুত্ব তারা অনুভব করেছেন নিজেদের মতো করেই। গ্যালারিতে উড়েছে ‘ফকল্যান্ড আর্জেন্টিনার’ লেখা ব্যানার, দর্শকদের কণ্ঠেও ছিল ভিন্ন রকম আবেগ।

মেসি বলেন, ‘জাতীয় সংগীতের সময়ই বিশেষ কিছু অনুভব করছিলাম। দর্শকদের গলা ছিল অন্য রকম। আমরা একে অন্যের দিকে তাকিয়ে সেটা বুঝতে পারছিলাম। জানতাম এটা একটা ফুটবল ম্যাচ, কিন্তু আবেগ সব সময় নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। আমরা সেই অনুভূতি নিয়েই খেলেছি।’

আর্জেন্টিনার গ্যালারিতে এখন প্রায়ই শোনা যায় একটি গান- ‘ফকল্যান্ডের জন্য, দিয়েগোর জন্য, আর লিওর শেষ লক্ষ্যের জন্য।’ ইংল্যান্ডকে হারিয়ে সেই গানের প্রথম দুটি যেন পূর্ণতা পেল। শেষ অংশের অপেক্ষা এখন রোববারের ফাইনাল।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

এই জয় ম্যারাডোনার জন্য একটি উপহার: মেসি

প্রকাশিত সময় : ১১:৪৫:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
আরেকটি রুদ্ধশ্বাস জয়। শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পিছিয়ে থেকেও ম্যাচ ঘুরিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠে গেছে আর্জেন্টিনা। এমন এক জয়ের পর লিওনেল মেসির প্রথম কথাই ছিল দিয়েগো আরমান্দো ম্যারাডোনাকে নিয়ে।

ম্যাচ শেষে টিওয়াইসি স্পোর্টসকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে মেসি বলেন, ‘নিঃসন্দেহে ওপর থেকে ম্যারাডোনা আজ দারুণ উপভোগ করছেন। আজকের দিনটা তার জন্য খুবই বিশেষ। তাকে এই আনন্দ দিতে পেরে আমরা খুশি। যেভাবেই হোক, ওপর থেকে তিনি এটা উপভোগ করুন। এই জয় তার জন্যও একটি উপহার।’

সাক্ষাৎকারের সময় সাংবাদিক মাতিয়াস পেল্লিচিওনি মেসির হাতে তুলে দেন ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যারাডোনার পরিহিত জার্সির একটি রেপ্লিকা জার্সি।

আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড লড়াই মানেই ফুটবলের গণ্ডি ছাড়িয়ে ইতিহাসের আবেগ। ১৯৮৬ সালের ২২ জুন, মেক্সিকোর আজতেকা স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে ম্যারাডোনা যা করেছিলেন, তা আজও ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায়।

প্রথমে লাফিয়ে উঠে ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল, এরপর কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে প্রায় মাঝ মাঠ থেকে দৌড়ে গিয়ে একক নৈপুণ্যে সেই শতাব্দী সেরা গোল- যেটিকে অনেকেই এখনও বিশ্বকাপ ইতিহাসের সেরা গোল বলে মনে করেন।

ম্যারাডোনার ওই স্মরণীয় পারফরম্যান্স ছাড়াও ইংল্যান্ডের সঙ্গে রয়েছে আর্জেন্টিনার ফকল্যান্ড যুদ্ধের ইতিহাস। প্রায় চার দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ আর্জেন্টিনার মানুষের কাছে এখনও বাড়তি আবেগের।

বর্তমান প্রজন্মের ফুটবলারদের সঙ্গে সেই যুদ্ধের সরাসরি সম্পর্ক না থাকলেও ম্যাচটির গুরুত্ব তারা অনুভব করেছেন নিজেদের মতো করেই। গ্যালারিতে উড়েছে ‘ফকল্যান্ড আর্জেন্টিনার’ লেখা ব্যানার, দর্শকদের কণ্ঠেও ছিল ভিন্ন রকম আবেগ।

মেসি বলেন, ‘জাতীয় সংগীতের সময়ই বিশেষ কিছু অনুভব করছিলাম। দর্শকদের গলা ছিল অন্য রকম। আমরা একে অন্যের দিকে তাকিয়ে সেটা বুঝতে পারছিলাম। জানতাম এটা একটা ফুটবল ম্যাচ, কিন্তু আবেগ সব সময় নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। আমরা সেই অনুভূতি নিয়েই খেলেছি।’

আর্জেন্টিনার গ্যালারিতে এখন প্রায়ই শোনা যায় একটি গান- ‘ফকল্যান্ডের জন্য, দিয়েগোর জন্য, আর লিওর শেষ লক্ষ্যের জন্য।’ ইংল্যান্ডকে হারিয়ে সেই গানের প্রথম দুটি যেন পূর্ণতা পেল। শেষ অংশের অপেক্ষা এখন রোববারের ফাইনাল।