শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দ্বিতীয় যমুনা ও দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণে সম্ভাব্যতা সমীক্ষার চুক্তি স্বাক্ষর

দেশের যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়ন, আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে দ্বিতীয় যমুনা ও দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষার জন্য পরামর্শক সেবা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ।

গতকাল বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের সম্মেলন কক্ষে ‘কনসালটেন্সি সার্ভিসেস ফর ফিজিবিলিটি স্টাডি ফর কনস্ট্রাকশন অব সেকেন্ড যমুনা অ্যান্ড পদ্মা ব্রিজ ওভার দ্য রিভার যমুনা এ্যান্ড পদ্মা’— শীর্ষক এ চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ।

চুক্তিতে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পক্ষে প্রধান প্রকৌশলী মো. আবুল হোসেন এবং পরামর্শক প্রতিষ্ঠান সার্ম অ্যাসোসিয়েট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও অথরাইজড সিগনেটরি প্রকৌশলী মিয়া মোহাম্মদ কাইয়ুম স্বাক্ষর করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোহাম্মদ আবদুর রউফ বলেন, দেশের যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়ন, আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে সরকার ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন মেগা অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এরই ধারাবাহিকতায় দ্বিতীয় যমুনা ও দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষার চুক্তি স্বাক্ষর দেশের সেতু অবকাঠামো উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।

সেতু বিভাগের সচিব বলেন, দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার বহুমুখীকরণ ও নিরবচ্ছিন্ন আঞ্চলিক সংযোগ নিশ্চিতকরণ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি ত্বরান্বিত করতে সম্ভাব্যতা সমীক্ষার মাধ্যমে প্রাপ্ত সঠিক ও অনুমোদিত স্থানে নতুন সেতু নির্মাণ একটি দূরদর্শী উদ্যোগ।

তিনি আরও বলেন, প্রস্তাবিত সেতু দুটি নির্মাণ করা হলে দেশের উত্তর, দক্ষিণ-পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলের মধ্যে যোগাযোগ আরও সহজ, দ্রুত ও কার্যকর হবে  এবং একই সঙ্গে বিদ্যমান সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর চাপ কমবে। এতে পণ্য ও যাত্রী পরিবহন ব্যবস্থায় নতুন গতির সঞ্চার হবে।

এই সম্ভাব্যতা সমীক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি যোগাযোগ চাহিদা পূরণে টেকসই, নিরাপদ ও অর্থনৈতিকভাবে সুফলদায়ক সেতু নির্মাণের জন্য উপযুক্ত অ্যালাইনমেন্ট ও স্থান চিহ্নিত করা। পাশাপাশি সেতু নির্মাণের কারিগরি ও কাঠামোগত বিভিন্ন বিকল্প পর্যালোচনা করে সর্বোত্তম বিকল্পের বিষয়ে সুপারিশ প্রণয়ন করা হবে।

সমীক্ষার আওতায় প্রস্তাবিত প্রকল্পের কারিগরি, অর্থনৈতিক, পরিবেশগত, সামাজিক এবং আর্থিক বিষয়াদি বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হবে।  এসব মূল্যায়নের মাধ্যমে দ্বিতীয় যমুনা ও দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নের উপযোগিতা যাচাই করা হবে।

এ পরামর্শক সেবার সঙ্গে যৌথভাবে সম্পৃক্ত রয়েছে— নেপালের এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট কনসালট্যান্ট (প্রাইভেট) লিমিটেড (ইআরএমসি), সুইডেনের সুইডিশ ন্যাশনাল রোড কনসালটিং এ বি (সুইরোড), দক্ষিণ কোরিয়ার দাসান কনসালট্যান্টস কোম্পানি লিমিটেড (দাসান), বাংলাদেশের দেশ উপদেশ লিমিটেড (ডিইউএল) ও জেস সার্ম অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেড (সার্ম)।

এ ছাড়া সাব-কনসালট্যান্ট হিসেবে কাজ করবে বাংলাদেশের টিলার। চুক্তি অনুযায়ী, সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পন্ন করার মোট মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ মাস।

তবে সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ গুণগত মান বজায় রেখে আগামী ৮ থেকে ৯ মাসের মধ্যে সমীক্ষার কাজ সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট পরামর্শক প্রতিষ্ঠানকে অনুরোধ জানিয়েছেন। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে সেতু বিভাগ ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং সংশ্লিষ্ট পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

দ্বিতীয় যমুনা ও দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের এ উদ্যোগ দেশের ভবিষ্যৎ সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।  সমীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে উপযুক্ত স্থান ও কারিগরি বিকল্প নির্ধারণের মাধ্যমে ভবিষ্যতে সেতু দুটি নির্মাণের বিষয়ে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। সূত্র: বাসস

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

দ্বিতীয় যমুনা ও দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণে সম্ভাব্যতা সমীক্ষার চুক্তি স্বাক্ষর

প্রকাশিত সময় : ০৬:১২:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দেশের যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়ন, আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে দ্বিতীয় যমুনা ও দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষার জন্য পরামর্শক সেবা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ।

গতকাল বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের সম্মেলন কক্ষে ‘কনসালটেন্সি সার্ভিসেস ফর ফিজিবিলিটি স্টাডি ফর কনস্ট্রাকশন অব সেকেন্ড যমুনা অ্যান্ড পদ্মা ব্রিজ ওভার দ্য রিভার যমুনা এ্যান্ড পদ্মা’— শীর্ষক এ চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ।

চুক্তিতে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পক্ষে প্রধান প্রকৌশলী মো. আবুল হোসেন এবং পরামর্শক প্রতিষ্ঠান সার্ম অ্যাসোসিয়েট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও অথরাইজড সিগনেটরি প্রকৌশলী মিয়া মোহাম্মদ কাইয়ুম স্বাক্ষর করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোহাম্মদ আবদুর রউফ বলেন, দেশের যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়ন, আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে সরকার ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন মেগা অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এরই ধারাবাহিকতায় দ্বিতীয় যমুনা ও দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষার চুক্তি স্বাক্ষর দেশের সেতু অবকাঠামো উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।

সেতু বিভাগের সচিব বলেন, দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার বহুমুখীকরণ ও নিরবচ্ছিন্ন আঞ্চলিক সংযোগ নিশ্চিতকরণ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি ত্বরান্বিত করতে সম্ভাব্যতা সমীক্ষার মাধ্যমে প্রাপ্ত সঠিক ও অনুমোদিত স্থানে নতুন সেতু নির্মাণ একটি দূরদর্শী উদ্যোগ।

তিনি আরও বলেন, প্রস্তাবিত সেতু দুটি নির্মাণ করা হলে দেশের উত্তর, দক্ষিণ-পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলের মধ্যে যোগাযোগ আরও সহজ, দ্রুত ও কার্যকর হবে  এবং একই সঙ্গে বিদ্যমান সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর চাপ কমবে। এতে পণ্য ও যাত্রী পরিবহন ব্যবস্থায় নতুন গতির সঞ্চার হবে।

এই সম্ভাব্যতা সমীক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি যোগাযোগ চাহিদা পূরণে টেকসই, নিরাপদ ও অর্থনৈতিকভাবে সুফলদায়ক সেতু নির্মাণের জন্য উপযুক্ত অ্যালাইনমেন্ট ও স্থান চিহ্নিত করা। পাশাপাশি সেতু নির্মাণের কারিগরি ও কাঠামোগত বিভিন্ন বিকল্প পর্যালোচনা করে সর্বোত্তম বিকল্পের বিষয়ে সুপারিশ প্রণয়ন করা হবে।

সমীক্ষার আওতায় প্রস্তাবিত প্রকল্পের কারিগরি, অর্থনৈতিক, পরিবেশগত, সামাজিক এবং আর্থিক বিষয়াদি বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হবে।  এসব মূল্যায়নের মাধ্যমে দ্বিতীয় যমুনা ও দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নের উপযোগিতা যাচাই করা হবে।

এ পরামর্শক সেবার সঙ্গে যৌথভাবে সম্পৃক্ত রয়েছে— নেপালের এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট কনসালট্যান্ট (প্রাইভেট) লিমিটেড (ইআরএমসি), সুইডেনের সুইডিশ ন্যাশনাল রোড কনসালটিং এ বি (সুইরোড), দক্ষিণ কোরিয়ার দাসান কনসালট্যান্টস কোম্পানি লিমিটেড (দাসান), বাংলাদেশের দেশ উপদেশ লিমিটেড (ডিইউএল) ও জেস সার্ম অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেড (সার্ম)।

এ ছাড়া সাব-কনসালট্যান্ট হিসেবে কাজ করবে বাংলাদেশের টিলার। চুক্তি অনুযায়ী, সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পন্ন করার মোট মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ মাস।

তবে সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ গুণগত মান বজায় রেখে আগামী ৮ থেকে ৯ মাসের মধ্যে সমীক্ষার কাজ সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট পরামর্শক প্রতিষ্ঠানকে অনুরোধ জানিয়েছেন। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে সেতু বিভাগ ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং সংশ্লিষ্ট পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

দ্বিতীয় যমুনা ও দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের এ উদ্যোগ দেশের ভবিষ্যৎ সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।  সমীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে উপযুক্ত স্থান ও কারিগরি বিকল্প নির্ধারণের মাধ্যমে ভবিষ্যতে সেতু দুটি নির্মাণের বিষয়ে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। সূত্র: বাসস