শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৮ ঘণ্টা ঘুমিয়েও লাভ নেই, যদি এই ভুল করেন!

প্রতিদিন ৭–৮ ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করেন? তবুও যদি ঘুমানোর ও ঘুম থেকে ওঠার সময় প্রতিদিন বদলে যায়, তাহলে মিলছে না ঘুমের পুরো উপকার। নতুন এক গবেষণা বলছে, শুধু পর্যাপ্ত ঘুম নয়, ঘুমের নিয়মিততাও সুস্থ থাকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

অর্থাৎ প্রতিদিন প্রায় একই সময়ে ঘুমানো এবং একই সময়ে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস ঘুমের মানের পাশাপাশি সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

 শুধু বেশি ঘুম নয়, নিয়ম মেনে ঘুমও জরুরি

যুক্তরাজ্যে ৬০ হাজার ৯৭৭ জন প্রাপ্তবয়স্কের ওপর করা এক গবেষণায় প্রায় এক কোটি ঘণ্টার ঘুমের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, যারা তুলনামূলকভাবে নিয়মিত সময়ে ঘুমাতেন, তাদের যেকোনো কারণে মৃত্যুর ঝুঁকি ২০ থেকে ৪৮ শতাংশ কম ছিল।

গবেষণায় আরও দেখা যায়, মৃত্যুঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে মোট কত ঘণ্টা ঘুম হয়েছে, তার চেয়েও ঘুমের নিয়মিততা বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

তবে এটি ছিল পর্যবেক্ষণভিত্তিক গবেষণা। ফলে ঘুমের নিয়মিততার কারণেই মৃত্যুঝুঁকি কমে—এমন সরাসরি কারণ-ফল সম্পর্ক গবেষণাটি প্রমাণ করে না।

 ঘুমের সময় বদলালে এলোমেলো হয় শরীরের ঘড়ি

এর পেছনে অন্যতম কারণ হতে পারে শরীরের নিজস্ব ২৪ ঘণ্টার জৈবিক ঘড়ি। ঘুম ও জাগরণের পাশাপাশি রক্তচাপ, হরমোন ও রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ শারীরবৃত্তীয় কার্যক্রমের সঙ্গেও এই ছন্দ জড়িত।

প্রতিদিন ঘুমানোর ও ওঠার সময় অনেকটা করে বদলে গেলে শরীরের স্বাভাবিক ছন্দ ব্যাহত হতে পারে। তাই নিয়মিত ঘুমের অভ্যাস শরীরের এই ছন্দ ধরে রাখতে সহায়তা করে।

ঘুমের রুটিন ঠিক রাখবেন যেভাবে

প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে উঠুন
ঘুমানোর সময় কিছুটা এদিক-সেদিক হলেও প্রতিদিন প্রায় একই সময়ে ঘুম থেকে ওঠার চেষ্টা করুন। কোনো দিন বেশি ক্লান্ত থাকলে রাতে একটু আগে ঘুমাতে পারেন।

ঘুমের আগে মোবাইল দূরে রাখুন
ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে মোবাইল, কম্পিউটার ও অন্যান্য উজ্জ্বল স্ক্রিন থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করুন। উজ্জ্বল আলো মস্তিষ্ককে জেগে থাকার সংকেত দিতে পারে এবং শরীরের স্বাভাবিক ঘড়িতে প্রভাব ফেলতে পারে।

এক ঘণ্টা সম্ভব না হলে শুরুতে ১৫ মিনিট করে স্ক্রিন টাইম কমানোর অভ্যাস করতে পারেন।

ছুটির দিনেও রুটিন ধরে রাখুন
ছুটির দিনে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক দেরিতে ঘুম থেকে উঠলে রাতে ঘুম আসতে দেরি হতে পারে। তাই ছুটির দিনেও ঘুমানো ও ওঠার সময় সাধারণ রুটিনের কাছাকাছি রাখুন।

সকালের আলোয় কিছু সময় কাটান
ঘুম থেকে ওঠার পর সকালের প্রাকৃতিক আলোয় কিছুটা সময় কাটানো শরীরের ঘুম-জাগরণের স্বাভাবিক ছন্দ ঠিক রাখতে সাহায্য করতে পারে। একই সঙ্গে এটি মন-মেজাজ ও মনোযোগের জন্যও উপকারী হতে পারে।

একদিন রুটিন নষ্ট হলে চিন্তার কিছু নেই

এর মানে এই নয় যে প্রতিদিন ঘড়ির কাঁটার মতো জীবনযাপন করতে হবে। সন্তান অসুস্থ হওয়া, কাজের চাপ কিংবা জরুরি পারিবারিক পরিস্থিতিতে কখনো ঘুমের সময় বদলাতেই পারে।

তাই এক-দুই দিন রুটিন নষ্ট হলে দুশ্চিন্তার কারণ নেই। লক্ষ্য হওয়া উচিত নিখুঁত রুটিন নয়, যতটা সম্ভব নিয়মিত থাকা।

ভালো ঘুমের শুরু দিনের অভ্যাসে

ভালো ঘুমের জন্য শুধু রাতের দিকে নজর দিলেই হবে না। দিনের অভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ। প্রায় একই সময়ে ঘুমানো ও ওঠা, সকালে প্রাকৃতিক আলোয় সময় কাটানো এবং ঘুমের আগে স্ক্রিন ব্যবহার কমানোর মতো ছোট অভ্যাস ধীরে ধীরে শরীরের স্বাভাবিক ছন্দ ধরে রাখতে সাহায্য করতে পারে।

তাই শুধু “কত ঘণ্টা ঘুমালেন”—এই হিসাব নয়। নজর দিন “কখন ঘুমালেন এবং কখন উঠলেন” সেদিকেও। নিয়মিত ঘুমের অভ্যাসই হতে পারে ভালো ঘুম ও সুস্থ জীবনের গুরুত্বপূর্ণ চাবিকাঠি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

৮ ঘণ্টা ঘুমিয়েও লাভ নেই, যদি এই ভুল করেন!

প্রকাশিত সময় : ১০:০১:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রতিদিন ৭–৮ ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করেন? তবুও যদি ঘুমানোর ও ঘুম থেকে ওঠার সময় প্রতিদিন বদলে যায়, তাহলে মিলছে না ঘুমের পুরো উপকার। নতুন এক গবেষণা বলছে, শুধু পর্যাপ্ত ঘুম নয়, ঘুমের নিয়মিততাও সুস্থ থাকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

অর্থাৎ প্রতিদিন প্রায় একই সময়ে ঘুমানো এবং একই সময়ে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস ঘুমের মানের পাশাপাশি সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

 শুধু বেশি ঘুম নয়, নিয়ম মেনে ঘুমও জরুরি

যুক্তরাজ্যে ৬০ হাজার ৯৭৭ জন প্রাপ্তবয়স্কের ওপর করা এক গবেষণায় প্রায় এক কোটি ঘণ্টার ঘুমের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, যারা তুলনামূলকভাবে নিয়মিত সময়ে ঘুমাতেন, তাদের যেকোনো কারণে মৃত্যুর ঝুঁকি ২০ থেকে ৪৮ শতাংশ কম ছিল।

গবেষণায় আরও দেখা যায়, মৃত্যুঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে মোট কত ঘণ্টা ঘুম হয়েছে, তার চেয়েও ঘুমের নিয়মিততা বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

তবে এটি ছিল পর্যবেক্ষণভিত্তিক গবেষণা। ফলে ঘুমের নিয়মিততার কারণেই মৃত্যুঝুঁকি কমে—এমন সরাসরি কারণ-ফল সম্পর্ক গবেষণাটি প্রমাণ করে না।

 ঘুমের সময় বদলালে এলোমেলো হয় শরীরের ঘড়ি

এর পেছনে অন্যতম কারণ হতে পারে শরীরের নিজস্ব ২৪ ঘণ্টার জৈবিক ঘড়ি। ঘুম ও জাগরণের পাশাপাশি রক্তচাপ, হরমোন ও রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ শারীরবৃত্তীয় কার্যক্রমের সঙ্গেও এই ছন্দ জড়িত।

প্রতিদিন ঘুমানোর ও ওঠার সময় অনেকটা করে বদলে গেলে শরীরের স্বাভাবিক ছন্দ ব্যাহত হতে পারে। তাই নিয়মিত ঘুমের অভ্যাস শরীরের এই ছন্দ ধরে রাখতে সহায়তা করে।

ঘুমের রুটিন ঠিক রাখবেন যেভাবে

প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে উঠুন
ঘুমানোর সময় কিছুটা এদিক-সেদিক হলেও প্রতিদিন প্রায় একই সময়ে ঘুম থেকে ওঠার চেষ্টা করুন। কোনো দিন বেশি ক্লান্ত থাকলে রাতে একটু আগে ঘুমাতে পারেন।

ঘুমের আগে মোবাইল দূরে রাখুন
ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে মোবাইল, কম্পিউটার ও অন্যান্য উজ্জ্বল স্ক্রিন থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করুন। উজ্জ্বল আলো মস্তিষ্ককে জেগে থাকার সংকেত দিতে পারে এবং শরীরের স্বাভাবিক ঘড়িতে প্রভাব ফেলতে পারে।

এক ঘণ্টা সম্ভব না হলে শুরুতে ১৫ মিনিট করে স্ক্রিন টাইম কমানোর অভ্যাস করতে পারেন।

ছুটির দিনেও রুটিন ধরে রাখুন
ছুটির দিনে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক দেরিতে ঘুম থেকে উঠলে রাতে ঘুম আসতে দেরি হতে পারে। তাই ছুটির দিনেও ঘুমানো ও ওঠার সময় সাধারণ রুটিনের কাছাকাছি রাখুন।

সকালের আলোয় কিছু সময় কাটান
ঘুম থেকে ওঠার পর সকালের প্রাকৃতিক আলোয় কিছুটা সময় কাটানো শরীরের ঘুম-জাগরণের স্বাভাবিক ছন্দ ঠিক রাখতে সাহায্য করতে পারে। একই সঙ্গে এটি মন-মেজাজ ও মনোযোগের জন্যও উপকারী হতে পারে।

একদিন রুটিন নষ্ট হলে চিন্তার কিছু নেই

এর মানে এই নয় যে প্রতিদিন ঘড়ির কাঁটার মতো জীবনযাপন করতে হবে। সন্তান অসুস্থ হওয়া, কাজের চাপ কিংবা জরুরি পারিবারিক পরিস্থিতিতে কখনো ঘুমের সময় বদলাতেই পারে।

তাই এক-দুই দিন রুটিন নষ্ট হলে দুশ্চিন্তার কারণ নেই। লক্ষ্য হওয়া উচিত নিখুঁত রুটিন নয়, যতটা সম্ভব নিয়মিত থাকা।

ভালো ঘুমের শুরু দিনের অভ্যাসে

ভালো ঘুমের জন্য শুধু রাতের দিকে নজর দিলেই হবে না। দিনের অভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ। প্রায় একই সময়ে ঘুমানো ও ওঠা, সকালে প্রাকৃতিক আলোয় সময় কাটানো এবং ঘুমের আগে স্ক্রিন ব্যবহার কমানোর মতো ছোট অভ্যাস ধীরে ধীরে শরীরের স্বাভাবিক ছন্দ ধরে রাখতে সাহায্য করতে পারে।

তাই শুধু “কত ঘণ্টা ঘুমালেন”—এই হিসাব নয়। নজর দিন “কখন ঘুমালেন এবং কখন উঠলেন” সেদিকেও। নিয়মিত ঘুমের অভ্যাসই হতে পারে ভালো ঘুম ও সুস্থ জীবনের গুরুত্বপূর্ণ চাবিকাঠি।