বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সেনা সদস্য পরিচয়ে মেলায় চাঁদা দাবি, গ্রেপ্তার ২

মৌলভীবাজারে সেনাবাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে নারী উদ্যোক্তা মেলার স্টল মালিক ও ব্যবসায়ীদের কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে মৌলভীবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

এ সময় তাদের কাছ থেকে ১টি ওয়াকিটকি, সেনাবাহিনীর পোশাকের অনুরূপ ১টি প্যান্ট ও ১টি টি-শার্ট, আইডি কার্ডের ছবি ৩টি এবং ৩টি  মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।

গ্রেপ্তাররা হলেন—ইমরান আহমেদ (২০), পিতা সামছুদ্দিন মিয়া ও মাসুম আহমদ (১৯), পিতা বিলাল মিয়া। তাদের বাড়ি মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামে

জানা যায়, মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে গ্রেপ্তাররা মৌলভীবাজার পৌরসভাস্থ এম সাইফুর রহমান অডিটরিয়ামে চলমান নারী উদ্যোক্তা মেলায় প্রবেশ করে বিভিন্ন স্টলে যায়।

এ সময় তারা নিজেদের সেনাবাহিনীর সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন। তারা সঙ্গে থাকা একটি আইডি কার্ড ও ওয়াকিটকি প্রদর্শন করেন এবং  মোবাইল ফোনে থাকা সেনাবাহিনীর পোশাক পরিহিত ছবি, আইডি কার্ড ও ওয়াকিটকির ছবি মেলায় উপস্থিত স্টল মালিক, দোকানদার ও কর্মচারীদের দেখান। একপর্যায়ে তারা বিভিন্ন স্টল মালিক ও ব্যবসায়ীদের কাছে চাঁদা হিসেবে নগদ টাকা দাবি করেন। চাঁদা না দিলে গ্রেপ্তার ও হেনস্তার ভয়ভীতি দেখান।

বিষয়টি মেলায় উপস্থিত ব্যবসায়ী ও দর্শনার্থীদের সন্দেহ হলে তারা দুজনকে আটক করেন। এ সময় তাদের সঙ্গে থাকা অপর দুই সহযোগী সুযোগ বুঝে মেলা প্রাঙ্গণ থেকে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে মৌলভীবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুজনকে হেফাজতে নেয় এবং তাদের ব্যবহৃত বিভিন্ন আলামত জব্দ করে।

মৌলভীবাজার সদর মডেল থানার ওসি মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা নিজেদের সেনাবাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে মেলায় অবস্থানরত ব্যবসায়ীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে চাঁদা দাবি করেছে বলে জানা গেছে। তাদের কাছ থেকে ওয়াকিটকি, সেনাবাহিনীর পোশাকের অনুরূপ পোশাকসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়েছে।

মেলা আয়োজক কমিটির সদস্য নাহিদ আহমেদ একটি লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত অপর ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ভাংচুরে ক্ষতিগ্রস্ত রাজশাহী রেল স্টেশন পরিদর্শন করলেন ভূমিমন্ত্রী মিনু

সেনা সদস্য পরিচয়ে মেলায় চাঁদা দাবি, গ্রেপ্তার ২

প্রকাশিত সময় : ০৯:২১:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬

মৌলভীবাজারে সেনাবাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে নারী উদ্যোক্তা মেলার স্টল মালিক ও ব্যবসায়ীদের কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে মৌলভীবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

এ সময় তাদের কাছ থেকে ১টি ওয়াকিটকি, সেনাবাহিনীর পোশাকের অনুরূপ ১টি প্যান্ট ও ১টি টি-শার্ট, আইডি কার্ডের ছবি ৩টি এবং ৩টি  মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।

গ্রেপ্তাররা হলেন—ইমরান আহমেদ (২০), পিতা সামছুদ্দিন মিয়া ও মাসুম আহমদ (১৯), পিতা বিলাল মিয়া। তাদের বাড়ি মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামে

জানা যায়, মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে গ্রেপ্তাররা মৌলভীবাজার পৌরসভাস্থ এম সাইফুর রহমান অডিটরিয়ামে চলমান নারী উদ্যোক্তা মেলায় প্রবেশ করে বিভিন্ন স্টলে যায়।

এ সময় তারা নিজেদের সেনাবাহিনীর সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন। তারা সঙ্গে থাকা একটি আইডি কার্ড ও ওয়াকিটকি প্রদর্শন করেন এবং  মোবাইল ফোনে থাকা সেনাবাহিনীর পোশাক পরিহিত ছবি, আইডি কার্ড ও ওয়াকিটকির ছবি মেলায় উপস্থিত স্টল মালিক, দোকানদার ও কর্মচারীদের দেখান। একপর্যায়ে তারা বিভিন্ন স্টল মালিক ও ব্যবসায়ীদের কাছে চাঁদা হিসেবে নগদ টাকা দাবি করেন। চাঁদা না দিলে গ্রেপ্তার ও হেনস্তার ভয়ভীতি দেখান।

বিষয়টি মেলায় উপস্থিত ব্যবসায়ী ও দর্শনার্থীদের সন্দেহ হলে তারা দুজনকে আটক করেন। এ সময় তাদের সঙ্গে থাকা অপর দুই সহযোগী সুযোগ বুঝে মেলা প্রাঙ্গণ থেকে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে মৌলভীবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুজনকে হেফাজতে নেয় এবং তাদের ব্যবহৃত বিভিন্ন আলামত জব্দ করে।

মৌলভীবাজার সদর মডেল থানার ওসি মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা নিজেদের সেনাবাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে মেলায় অবস্থানরত ব্যবসায়ীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে চাঁদা দাবি করেছে বলে জানা গেছে। তাদের কাছ থেকে ওয়াকিটকি, সেনাবাহিনীর পোশাকের অনুরূপ পোশাকসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়েছে।

মেলা আয়োজক কমিটির সদস্য নাহিদ আহমেদ একটি লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত অপর ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।’