বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঢাকা দক্ষিণের যে ২৯ ওয়ার্ড ডেঙ্গুর উচ্চ ঝুঁকিতে

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ২৯টি ওয়ার্ডকে এডিস মশার লার্ভার ঘনত্ব বিবেচনায় অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ ছাড়া ২৮টি ওয়ার্ডকে মাঝারি এবং ১৮টি ওয়ার্ডকে সাধারণ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে সংস্থাটি।

বুধবার (৪ নভেম্বর) নগর ভবন অডিটোরিয়ামে ‘বর্ষাকালীন এডিস মশার লার্ভা জরিপ ২০২৬’-এর ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানানো হয়।

ডিএসসিসির জরিপ অনুযায়ী, অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ২৯টি ওয়ার্ড হলো- ১, ২, ৯, ১১, ১২, ১৩, ১৪, ১৫, ১৬, ১৯, ২০, ২১, ২২, ২৪, ২৫, ২৬, ২৭, ৩১, ৫৩, ৫৪, ৫৫, ৫৬, ৫৮, ৫৯, ৬০, ৬১, ৬২, ৬৫ ও ৭১ নম্বর ওয়ার্ড।

মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ ২৮টি ওয়ার্ড হলো- ৪, ৫, ৬, ৮, ১০, ১৮, ২৩, ২৯, ৩০, ৩২, ৩৩, ৩৫, ৩৬, ৩৭, ৩৮, ৩৯, ৪০, ৪৩, ৪৬, ৫১, ৫২, ৫৭, ৬৪, ৬৭, ৬৮, ৬৯, ৭৩ ও ৭৫ নম্বর ওয়ার্ড।

অন্যদিকে সাধারণ ঝুঁকিপূর্ণ ১৮টি ওয়ার্ড হলো- ৩, ৭, ১৭, ২৮, ৩৪, ৪১, ৪২, ৪৪, ৪৫, ৪৭, ৪৮, ৪৯, ৫০, ৬৩, ৬৬, ৭০, ৭২ ও ৭৪ নম্বর ওয়ার্ড।

ডিএসসিসি জানিয়েছে, গত ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত ১২ দিনব্যাপী এ জরিপ পরিচালনা করা হয়। করপোরেশনের ৭৫টি ওয়ার্ডের প্রতিটি থেকে দৈবচয়নের ভিত্তিতে ৩০টি করে মোট ২ হাজার ২৫০টি বাড়ি নমুনা হিসেবে নির্বাচন করা হয়। জরিপে ডিএসসিসি ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার ৩৬ জন মাঠকর্মী অংশ নেন।

জরিপে সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণে ব্রেটো ইনডেক্স (বিআই), হাউজ ইনডেক্স (এইচআই), কনটেইনার ইনডেক্স (সিআই) ও পিউপা ইনডেক্স (পিআই) ব্যবহার করা হয়েছে। তথ্য সংগ্রহে আধুনিক ‘কোবো টুলবক্স’ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেন, জরিপে পাওয়া ফলাফলের ভিত্তিতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিশেষ মশক নিধন অভিযান ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। নাগরিকদেরও বাসাবাড়ি ও কর্মস্থলের আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে। সপ্তাহে অন্তত একদিন জমে থাকা পানি অপসারণের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

এ ছাড়া প্রতি শনিবার ডিএসসিসির নিয়মিত ‘ক্লিনিং ডে’ কর্মসূচির আওতায় শিশুদের ডেঙ্গুর ঝুঁকি থেকে সুরক্ষায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আঙিনা ও টয়লেট পরিষ্কারের বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খয়বর রহমান, সচিব মো. মশিউর রহমান খান, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মো. মাহাবুবুর রহমান তালুকদার, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহানে ফেরদৌস বিনতে রহমানসহ বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা ও আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

ঢাকা দক্ষিণের যে ২৯ ওয়ার্ড ডেঙ্গুর উচ্চ ঝুঁকিতে

প্রকাশিত সময় : ১০:৪৩:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ২৯টি ওয়ার্ডকে এডিস মশার লার্ভার ঘনত্ব বিবেচনায় অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ ছাড়া ২৮টি ওয়ার্ডকে মাঝারি এবং ১৮টি ওয়ার্ডকে সাধারণ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে সংস্থাটি।

বুধবার (৪ নভেম্বর) নগর ভবন অডিটোরিয়ামে ‘বর্ষাকালীন এডিস মশার লার্ভা জরিপ ২০২৬’-এর ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানানো হয়।

ডিএসসিসির জরিপ অনুযায়ী, অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ২৯টি ওয়ার্ড হলো- ১, ২, ৯, ১১, ১২, ১৩, ১৪, ১৫, ১৬, ১৯, ২০, ২১, ২২, ২৪, ২৫, ২৬, ২৭, ৩১, ৫৩, ৫৪, ৫৫, ৫৬, ৫৮, ৫৯, ৬০, ৬১, ৬২, ৬৫ ও ৭১ নম্বর ওয়ার্ড।

মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ ২৮টি ওয়ার্ড হলো- ৪, ৫, ৬, ৮, ১০, ১৮, ২৩, ২৯, ৩০, ৩২, ৩৩, ৩৫, ৩৬, ৩৭, ৩৮, ৩৯, ৪০, ৪৩, ৪৬, ৫১, ৫২, ৫৭, ৬৪, ৬৭, ৬৮, ৬৯, ৭৩ ও ৭৫ নম্বর ওয়ার্ড।

অন্যদিকে সাধারণ ঝুঁকিপূর্ণ ১৮টি ওয়ার্ড হলো- ৩, ৭, ১৭, ২৮, ৩৪, ৪১, ৪২, ৪৪, ৪৫, ৪৭, ৪৮, ৪৯, ৫০, ৬৩, ৬৬, ৭০, ৭২ ও ৭৪ নম্বর ওয়ার্ড।

ডিএসসিসি জানিয়েছে, গত ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত ১২ দিনব্যাপী এ জরিপ পরিচালনা করা হয়। করপোরেশনের ৭৫টি ওয়ার্ডের প্রতিটি থেকে দৈবচয়নের ভিত্তিতে ৩০টি করে মোট ২ হাজার ২৫০টি বাড়ি নমুনা হিসেবে নির্বাচন করা হয়। জরিপে ডিএসসিসি ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার ৩৬ জন মাঠকর্মী অংশ নেন।

জরিপে সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণে ব্রেটো ইনডেক্স (বিআই), হাউজ ইনডেক্স (এইচআই), কনটেইনার ইনডেক্স (সিআই) ও পিউপা ইনডেক্স (পিআই) ব্যবহার করা হয়েছে। তথ্য সংগ্রহে আধুনিক ‘কোবো টুলবক্স’ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেন, জরিপে পাওয়া ফলাফলের ভিত্তিতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিশেষ মশক নিধন অভিযান ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। নাগরিকদেরও বাসাবাড়ি ও কর্মস্থলের আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে। সপ্তাহে অন্তত একদিন জমে থাকা পানি অপসারণের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

এ ছাড়া প্রতি শনিবার ডিএসসিসির নিয়মিত ‘ক্লিনিং ডে’ কর্মসূচির আওতায় শিশুদের ডেঙ্গুর ঝুঁকি থেকে সুরক্ষায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আঙিনা ও টয়লেট পরিষ্কারের বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খয়বর রহমান, সচিব মো. মশিউর রহমান খান, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মো. মাহাবুবুর রহমান তালুকদার, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহানে ফেরদৌস বিনতে রহমানসহ বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা ও আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।