শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অস্ট্রেলিয়াকে ৩০৭ রানের টার্গেট দিয়েছে বাংলাদেশ

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলার স্বপ্ন বাস্তবায়নে আজ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ। টস হেরে আগে ব্যাটিং করে বাংলাদেশ ৩০৬ রান সংগ্রহ করেছে। এরফলে অস্ট্রেলিয়ার টার্গেট দাঁড়িয়েছে ৩০৭ রান। তিনশো ছাড়ালেও সেঞ্চুরি নেই কারো ব্যাটে। ফিফটি করেছেন কেবল তাওহিদ হৃদয়। ৭৯ বলে সর্বোচ্চ ৭৪ এসেছে তার ব্যাটে। এছাড়া নাজমুল হোসেন শান্ত, লিটন দাস, তানজিদ হাসান তামিম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ইনিংস থেমেছে ভুল সময়ে। প্রত্যেকেই দারুণ ছন্দে খেলেও টানতে পারেননি।

ব্যাট করার জন্য দারুণ উইকেটে টস জিতে আগে ব্যাটিং পাওয়ায় অস্ট্রেলিয়াকে শুরুতে একটা ধন্যবাদ দিতে পারত বাংলাদেশ। এই মাঠে ভারতের বিপক্ষে খেলা ম্যাচটাতেও শুরু হয়েছিল দারুণ, এবারও তাই হলো। তানজিদ হাসান তামিম কিছু ফ্লেয়ার দেখালেন আবার, লিটন দাস শুরুতে সতর্ক থেকে পরে মেলে ধরলেন ডানা। সহজেই আসতে থাকল রান

দ্বাদশ ওভারে শন অ্যাবটের শর্ট বল ক্যাচ উঠিয়ে বিদায় তামিমের। লিটনকে এরপর মনে হলো দিশেহারা। সহজ রান যেখানে বেরুচ্ছে তিনি তিনি গেলেন ঝুঁকি। ৩৫ রানে একবার জীবন পেয়ে অ্যাডাম জাম্পাকে উড়াতে গেলেন লং অন দিয়ে। কিন্তু জায়গায় দাঁড়িয়ে খেলা শটে থাকল না গায়ের জোর। ফলাফল অতি সহজ ক্যাচ, আরও একবার থিতু ইনিংস আত্মাহুতি দিয়ে ফেরত যান লিটন। উইকেটের সহায়ক পরিস্থিতি দেখে দ্রুতই থিতু হয়ে গিয়েছিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। তার বিদায় রান আউটে। দারুণ এক থ্রোয়ে শান্তকে ফেরান মারনাশ লাবুশানে।

টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের সেরা ব্যাটার মাহমুদউল্লাহ নেমেই মারেন ছক্কা। আগ্রাসী মেজাজে রান বাড়াতে থাকেন তিনি। তবে তার বিদায়ও লাবুশানের কৃতিত্বে। হৃদয়ের ডাকে সাড়া দিতে গিয়ে স্ট্রাইক প্রান্তে পৌঁছাতে পারেননি। ২৮ বলে ১ চার ৩ ছক্কায় থামেন অভিজ্ঞ ব্যাটার। মুশফিকুর রহিম এমন আদর্শ কন্ডিশনে ছিলেন আড়ষ্ট। নিজের শেষ বিশ্বকাপ ইনিংস স্মরণীয় করে রাখা হয়নি তার। জাম্পাকে চার্জড করতে গিয়ে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ২১ করে।

বাকিদের ব্যর্থতায় বিশ্বকাপে নিজের প্রথম ফিফটি করে হৃদয় টেনে নিচ্ছিলেন ইনিংস। তবে স্লগ ওভারে মেরে খেলার চাহিদা মেটাতে গিয়ে কাবু তিনি। মার্কাস স্টয়নিসের মিডিয়াম পেস উড়াতে গিয়ে ধরা দেন বাউন্ডারি লাইনে। ৭৯ বলে ৭৪ করে থামে ডানহাতি তরুণের বিশ্বকাপ যাত্রা। নাসুম আহমেদকে নিয়ে দলের রান তিনশো পার করান মেহেদী হাসান মিরাজ (২০ বলে ২৯)। তবে এই উইকেটে পুঁজিটা নিয়ে কতটা লড়াই করা যাবে দেখার বিষয়।

কার্ডিফে ২০০৫ সালে ইংল্যান্ডে ন্যাটওয়েস্ট ট্রফিতে মোহাম্মদ আশরাফুলের মহাকাব্যিক সেঞ্চুরিতে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। তাদের বিপক্ষে এখন পর্যন্ত একমাত্র জয় বাংলাদেশের। গত ১৮ বছরের বেশি সময়ে ওয়ানডেতে আর হারানো যায়নি। এবার সেই আক্ষেপ মেটাতে আজ পুনের মহারাষ্ট্র ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়ামে অজিদের মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ। এছাড়া বাংলাদেশের মূল ভাবনা চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি। তবে অজিদের বিপক্ষে বড় হার এড়াতে পারলেই কাজটা হয়ে যায়। জিতলে তো কথাই নেই।

বাংলাদেশ একাদশ: তানজিদ হাসান, লিটন দাস, নাজমুল হাসান শান্ত, মাহমুদউল্লাহ, মুশফিকুর রহিম, তাওহিদ হৃদয়, মেহেদী হাসান মিরাজ, নাসুম আহমেদ, শেখ মেহেদী হাসান, মোস্তাফিজুর রহমান ও তাসকিন আহমেদ।

অস্ট্রেলিয়া একাদশ: ডেভিড ওয়ার্নার, ট্রাভিস হেড, মিচেল মার্শ, স্টিভেন স্মিথ, মার্নাস লাবুশেন, জস ইংলিস, মার্কাস স্টয়নিস, শেন অ্যাবট, প্যাট কামিন্স, অ্যাডাম জ্যাম্পা ও জস হ্যাজলউড।

এআই
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

অস্ট্রেলিয়াকে ৩০৭ রানের টার্গেট দিয়েছে বাংলাদেশ

প্রকাশিত সময় : ০৩:৫৪:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ নভেম্বর ২০২৩

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলার স্বপ্ন বাস্তবায়নে আজ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ। টস হেরে আগে ব্যাটিং করে বাংলাদেশ ৩০৬ রান সংগ্রহ করেছে। এরফলে অস্ট্রেলিয়ার টার্গেট দাঁড়িয়েছে ৩০৭ রান। তিনশো ছাড়ালেও সেঞ্চুরি নেই কারো ব্যাটে। ফিফটি করেছেন কেবল তাওহিদ হৃদয়। ৭৯ বলে সর্বোচ্চ ৭৪ এসেছে তার ব্যাটে। এছাড়া নাজমুল হোসেন শান্ত, লিটন দাস, তানজিদ হাসান তামিম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ইনিংস থেমেছে ভুল সময়ে। প্রত্যেকেই দারুণ ছন্দে খেলেও টানতে পারেননি।

ব্যাট করার জন্য দারুণ উইকেটে টস জিতে আগে ব্যাটিং পাওয়ায় অস্ট্রেলিয়াকে শুরুতে একটা ধন্যবাদ দিতে পারত বাংলাদেশ। এই মাঠে ভারতের বিপক্ষে খেলা ম্যাচটাতেও শুরু হয়েছিল দারুণ, এবারও তাই হলো। তানজিদ হাসান তামিম কিছু ফ্লেয়ার দেখালেন আবার, লিটন দাস শুরুতে সতর্ক থেকে পরে মেলে ধরলেন ডানা। সহজেই আসতে থাকল রান

দ্বাদশ ওভারে শন অ্যাবটের শর্ট বল ক্যাচ উঠিয়ে বিদায় তামিমের। লিটনকে এরপর মনে হলো দিশেহারা। সহজ রান যেখানে বেরুচ্ছে তিনি তিনি গেলেন ঝুঁকি। ৩৫ রানে একবার জীবন পেয়ে অ্যাডাম জাম্পাকে উড়াতে গেলেন লং অন দিয়ে। কিন্তু জায়গায় দাঁড়িয়ে খেলা শটে থাকল না গায়ের জোর। ফলাফল অতি সহজ ক্যাচ, আরও একবার থিতু ইনিংস আত্মাহুতি দিয়ে ফেরত যান লিটন। উইকেটের সহায়ক পরিস্থিতি দেখে দ্রুতই থিতু হয়ে গিয়েছিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। তার বিদায় রান আউটে। দারুণ এক থ্রোয়ে শান্তকে ফেরান মারনাশ লাবুশানে।

টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের সেরা ব্যাটার মাহমুদউল্লাহ নেমেই মারেন ছক্কা। আগ্রাসী মেজাজে রান বাড়াতে থাকেন তিনি। তবে তার বিদায়ও লাবুশানের কৃতিত্বে। হৃদয়ের ডাকে সাড়া দিতে গিয়ে স্ট্রাইক প্রান্তে পৌঁছাতে পারেননি। ২৮ বলে ১ চার ৩ ছক্কায় থামেন অভিজ্ঞ ব্যাটার। মুশফিকুর রহিম এমন আদর্শ কন্ডিশনে ছিলেন আড়ষ্ট। নিজের শেষ বিশ্বকাপ ইনিংস স্মরণীয় করে রাখা হয়নি তার। জাম্পাকে চার্জড করতে গিয়ে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ২১ করে।

বাকিদের ব্যর্থতায় বিশ্বকাপে নিজের প্রথম ফিফটি করে হৃদয় টেনে নিচ্ছিলেন ইনিংস। তবে স্লগ ওভারে মেরে খেলার চাহিদা মেটাতে গিয়ে কাবু তিনি। মার্কাস স্টয়নিসের মিডিয়াম পেস উড়াতে গিয়ে ধরা দেন বাউন্ডারি লাইনে। ৭৯ বলে ৭৪ করে থামে ডানহাতি তরুণের বিশ্বকাপ যাত্রা। নাসুম আহমেদকে নিয়ে দলের রান তিনশো পার করান মেহেদী হাসান মিরাজ (২০ বলে ২৯)। তবে এই উইকেটে পুঁজিটা নিয়ে কতটা লড়াই করা যাবে দেখার বিষয়।

কার্ডিফে ২০০৫ সালে ইংল্যান্ডে ন্যাটওয়েস্ট ট্রফিতে মোহাম্মদ আশরাফুলের মহাকাব্যিক সেঞ্চুরিতে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। তাদের বিপক্ষে এখন পর্যন্ত একমাত্র জয় বাংলাদেশের। গত ১৮ বছরের বেশি সময়ে ওয়ানডেতে আর হারানো যায়নি। এবার সেই আক্ষেপ মেটাতে আজ পুনের মহারাষ্ট্র ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়ামে অজিদের মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ। এছাড়া বাংলাদেশের মূল ভাবনা চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি। তবে অজিদের বিপক্ষে বড় হার এড়াতে পারলেই কাজটা হয়ে যায়। জিতলে তো কথাই নেই।

বাংলাদেশ একাদশ: তানজিদ হাসান, লিটন দাস, নাজমুল হাসান শান্ত, মাহমুদউল্লাহ, মুশফিকুর রহিম, তাওহিদ হৃদয়, মেহেদী হাসান মিরাজ, নাসুম আহমেদ, শেখ মেহেদী হাসান, মোস্তাফিজুর রহমান ও তাসকিন আহমেদ।

অস্ট্রেলিয়া একাদশ: ডেভিড ওয়ার্নার, ট্রাভিস হেড, মিচেল মার্শ, স্টিভেন স্মিথ, মার্নাস লাবুশেন, জস ইংলিস, মার্কাস স্টয়নিস, শেন অ্যাবট, প্যাট কামিন্স, অ্যাডাম জ্যাম্পা ও জস হ্যাজলউড।

এআই