বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিক্ষিত জাতি ছাড়া দেশ দারিদ্র্যমুক্ত হয় না : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা বাংলাদেশকে দারিদ্র্যমুক্ত দেশ হিসেবে গড়তে চাই। একমাত্র শিক্ষাই পারে। শিক্ষিত জাতি ছাড়া দারিদ্র্যমুক্ত হয় না। এ জন্য আমরা শিক্ষাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। আমরা বাজেটেও বেশি টাকা রাখি। সেটাকে বহুমুখী করার ব্যবস্থাটা করে দিচ্ছি। আজ রোববার (৩১ ডিসেম্বর) সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পাঠ্যবই বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে শিক্ষা কারিকুলামে পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্রযুক্তিজ্ঞানসম্পন্ন জাতি গড়তে করণীয় সবই সরকার করে দিয়েছে। স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে প্রয়োজন স্মার্ট জনশক্তি।

শেখ হাসিনা বলেন, আমার জীবনের একটা স্বপ্ন ছিল যে শিক্ষক হব। সেটাও আবার প্রাইমারি স্কুলের। আমি তাই হতে চেয়েছিলাম। ওটা আমার খুব পছন্দের ছিল। কিন্তু আর হলো না।

কেন স্বপ্ন পূরণ হয়নি তা-ও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, কারণ আমার বাবা সারাজীবন সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে গেছেন। এ বাংলাদেশের মানুষের কথা বললেই তখনকার সরকার তাকে গ্রেফতার করতো, জেলে নিয়ে যেতো। বারবার আমাদের পড়াশোনায়ও বাধাগ্রস্ত হতো। তারপরও চেষ্টা করতাম। তবে পড়াশোনা শেষপর্যন্ত আর শেষই করতে পারিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন মাস্টার্সে ভর্তি ছিলাম। তখনই আমার বাবা-মা, ভাই সবাইকে মেরে ফেলা হলো। আমার ছোটবোন শেখ রেহানারও তখন পড়াশোনা চলছিল। আমরা দুজন ছিলাম বিদেশে। কিন্তু তখন আর দেশে ফিরতে পারিনি। সে সময় যে সরকার ছিল, তারা আমাদের দেশে আসতেও দেয়নি।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, প্রায় ছয় বছর আমাদের বিদেশে থাকতে হয়েছিল, রিফিউজি হিসেবে। ফলে আমার মাস্টার্সটাও শেষ করতে পারিনি, আমার ছোটবোনও পড়াশোনা শেষ করতে পারেনি। তারপরও আমরা শিক্ষাটাকে গুরুত্ব দেই। আমাদের ছেলেমেয়েদের শিক্ষা দেই, তোমাদের কোনো সম্পদ আমরা রাখব না। একটাই তোমাদের সম্পদ সেটা হলো শিক্ষা।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দিয়ে বই উৎসবের উদ্বোধন করেন। এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন। স্বাগত বক্তব্য দেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।

অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব সোলেমান খান, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব ফরিদ আহাম্মদ, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. ফরহাদুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

পাঠ্যপুস্তক বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী সংখ্যা ধরা হয়েছে তিন কোটি ৮১ লাখ ২৭ হাজার ৬৩০ জন। তাদের জন্য বই ছাপা হয়েছে মোট ৩০ কোটি ৭০ লাখ ৮৩ হাজার ৫১৭টি। সোমবার (১ জানুয়ারি) বছরের প্রথম দিনে সারাদেশে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বই উৎসব অনুষ্ঠিত হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

শিক্ষিত জাতি ছাড়া দেশ দারিদ্র্যমুক্ত হয় না : প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত সময় : ০৬:৪৯:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা বাংলাদেশকে দারিদ্র্যমুক্ত দেশ হিসেবে গড়তে চাই। একমাত্র শিক্ষাই পারে। শিক্ষিত জাতি ছাড়া দারিদ্র্যমুক্ত হয় না। এ জন্য আমরা শিক্ষাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। আমরা বাজেটেও বেশি টাকা রাখি। সেটাকে বহুমুখী করার ব্যবস্থাটা করে দিচ্ছি। আজ রোববার (৩১ ডিসেম্বর) সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পাঠ্যবই বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে শিক্ষা কারিকুলামে পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্রযুক্তিজ্ঞানসম্পন্ন জাতি গড়তে করণীয় সবই সরকার করে দিয়েছে। স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে প্রয়োজন স্মার্ট জনশক্তি।

শেখ হাসিনা বলেন, আমার জীবনের একটা স্বপ্ন ছিল যে শিক্ষক হব। সেটাও আবার প্রাইমারি স্কুলের। আমি তাই হতে চেয়েছিলাম। ওটা আমার খুব পছন্দের ছিল। কিন্তু আর হলো না।

কেন স্বপ্ন পূরণ হয়নি তা-ও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, কারণ আমার বাবা সারাজীবন সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে গেছেন। এ বাংলাদেশের মানুষের কথা বললেই তখনকার সরকার তাকে গ্রেফতার করতো, জেলে নিয়ে যেতো। বারবার আমাদের পড়াশোনায়ও বাধাগ্রস্ত হতো। তারপরও চেষ্টা করতাম। তবে পড়াশোনা শেষপর্যন্ত আর শেষই করতে পারিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন মাস্টার্সে ভর্তি ছিলাম। তখনই আমার বাবা-মা, ভাই সবাইকে মেরে ফেলা হলো। আমার ছোটবোন শেখ রেহানারও তখন পড়াশোনা চলছিল। আমরা দুজন ছিলাম বিদেশে। কিন্তু তখন আর দেশে ফিরতে পারিনি। সে সময় যে সরকার ছিল, তারা আমাদের দেশে আসতেও দেয়নি।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, প্রায় ছয় বছর আমাদের বিদেশে থাকতে হয়েছিল, রিফিউজি হিসেবে। ফলে আমার মাস্টার্সটাও শেষ করতে পারিনি, আমার ছোটবোনও পড়াশোনা শেষ করতে পারেনি। তারপরও আমরা শিক্ষাটাকে গুরুত্ব দেই। আমাদের ছেলেমেয়েদের শিক্ষা দেই, তোমাদের কোনো সম্পদ আমরা রাখব না। একটাই তোমাদের সম্পদ সেটা হলো শিক্ষা।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দিয়ে বই উৎসবের উদ্বোধন করেন। এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন। স্বাগত বক্তব্য দেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।

অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব সোলেমান খান, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব ফরিদ আহাম্মদ, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. ফরহাদুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

পাঠ্যপুস্তক বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী সংখ্যা ধরা হয়েছে তিন কোটি ৮১ লাখ ২৭ হাজার ৬৩০ জন। তাদের জন্য বই ছাপা হয়েছে মোট ৩০ কোটি ৭০ লাখ ৮৩ হাজার ৫১৭টি। সোমবার (১ জানুয়ারি) বছরের প্রথম দিনে সারাদেশে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বই উৎসব অনুষ্ঠিত হবে।