রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চীনের আগে ভারত যেতে চেয়েছিলেন ড. ইউনূস, কিন্তু সাড়া দেননি মোদি সরকার

বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস চীন সফর চূড়ান্ত করার আগেই প্রথমে ভারত সফরের আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন, কিন্তু ভারত থেকে কোনো ইতিবাচক সাড়া মেলেনি। বুধবার (২৬ মার্চ) ভারতের ইংরেজি দৈনিক ‘দ্য হিন্দু’-তে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

তিনি জানান, গত ডিসেম্বরেই অন্তর্বর্তী সরকার ভারতকে বার্তা পাঠিয়েছিল, কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক জবাব আসেনি। অপরদিকে, চীন সফর নিয়ে ইতিমধ্যেই সবকিছু চূড়ান্ত হয়েছে। বুধবার (২৬ মার্চ) থেকে শুরু হওয়া এই সফরে চীনের প্রেসিডেন্ট শি-জিন পিং-য়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন অধ্যাপক ইউনূস।

প্রেস সচিব বলেন, প্রধান উপদেষ্টা চান, চীন বাংলাদেশকে বিনিয়োগের প্রধান গন্তব্য হিসেবে বিবেচনা করুক, বিশেষ করে উৎপাদনশিল্পে। চীনের শীর্ষ বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি বাংলাদেশকে ব্যবসাবান্ধব দেশ হিসেবে তুলে ধরবেন এবং চীনা শিল্পোদ্যোক্তাদের জন্য আকর্ষণীয় বিনিয়োগ পরিবেশ তৈরির পরিকল্পনা প্রকাশ করবেন। দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় সরকারপ্রধান হিসেবে মুহাম্মদ ইউনূস চীন সফরে গেলেন। এর আগে, গত ডিসেম্বরে নেপালের প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা চীন সফর করেন। চীন সফর শেষে ব্যাংককে বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেবেন অধ্যাপক ইউনূস, যা ৩ ও ৪ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে। ওই সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকের ইচ্ছা প্রকাশ করলেও ভারত এখনো এ বিষয়ে কিছু জানায়নি বলে জানান প্রেস সচিব।

বিশ্বের অনেক দেশ চীনা বিনিয়োগ নিয়ে দ্বিধায় থাকলেও বাংলাদেশ এই সুযোগ গ্রহণ করতে প্রস্তুত বলে জানান শফিকুল আলম। এ বিষয়ে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ উপকূলবর্তী এলাকা দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।” গত সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ফাঁকে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-এর সঙ্গে ইউনূসের বৈঠক হয়। সেই বৈঠকে বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য চীনের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগের প্রস্তাব দেন তিনি।

অধ্যাপক ইউনূস ইতোমধ্যে মালয়েশিয়ার দ্বিপাক্ষিক সফরের আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন। তবে তার মূল লক্ষ্য বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার ‘গ্রোথ ইঞ্জিন’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা, যা তিনি জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণেও তুলে ধরেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

চীনের আগে ভারত যেতে চেয়েছিলেন ড. ইউনূস, কিন্তু সাড়া দেননি মোদি সরকার

প্রকাশিত সময় : ১১:৪০:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ মার্চ ২০২৫

বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস চীন সফর চূড়ান্ত করার আগেই প্রথমে ভারত সফরের আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন, কিন্তু ভারত থেকে কোনো ইতিবাচক সাড়া মেলেনি। বুধবার (২৬ মার্চ) ভারতের ইংরেজি দৈনিক ‘দ্য হিন্দু’-তে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

তিনি জানান, গত ডিসেম্বরেই অন্তর্বর্তী সরকার ভারতকে বার্তা পাঠিয়েছিল, কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক জবাব আসেনি। অপরদিকে, চীন সফর নিয়ে ইতিমধ্যেই সবকিছু চূড়ান্ত হয়েছে। বুধবার (২৬ মার্চ) থেকে শুরু হওয়া এই সফরে চীনের প্রেসিডেন্ট শি-জিন পিং-য়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন অধ্যাপক ইউনূস।

প্রেস সচিব বলেন, প্রধান উপদেষ্টা চান, চীন বাংলাদেশকে বিনিয়োগের প্রধান গন্তব্য হিসেবে বিবেচনা করুক, বিশেষ করে উৎপাদনশিল্পে। চীনের শীর্ষ বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি বাংলাদেশকে ব্যবসাবান্ধব দেশ হিসেবে তুলে ধরবেন এবং চীনা শিল্পোদ্যোক্তাদের জন্য আকর্ষণীয় বিনিয়োগ পরিবেশ তৈরির পরিকল্পনা প্রকাশ করবেন। দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় সরকারপ্রধান হিসেবে মুহাম্মদ ইউনূস চীন সফরে গেলেন। এর আগে, গত ডিসেম্বরে নেপালের প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা চীন সফর করেন। চীন সফর শেষে ব্যাংককে বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেবেন অধ্যাপক ইউনূস, যা ৩ ও ৪ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে। ওই সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকের ইচ্ছা প্রকাশ করলেও ভারত এখনো এ বিষয়ে কিছু জানায়নি বলে জানান প্রেস সচিব।

বিশ্বের অনেক দেশ চীনা বিনিয়োগ নিয়ে দ্বিধায় থাকলেও বাংলাদেশ এই সুযোগ গ্রহণ করতে প্রস্তুত বলে জানান শফিকুল আলম। এ বিষয়ে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ উপকূলবর্তী এলাকা দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।” গত সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ফাঁকে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-এর সঙ্গে ইউনূসের বৈঠক হয়। সেই বৈঠকে বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য চীনের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগের প্রস্তাব দেন তিনি।

অধ্যাপক ইউনূস ইতোমধ্যে মালয়েশিয়ার দ্বিপাক্ষিক সফরের আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন। তবে তার মূল লক্ষ্য বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার ‘গ্রোথ ইঞ্জিন’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা, যা তিনি জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণেও তুলে ধরেন।