শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশকে ম্যানুফ্যাকচারিং হাব বানাতে চীনা বিনিয়োগকারীদের প্রতি আহ্বান

বাংলাদেশকে ম্যানুফ্যাকচারিং হাব হিসেবে গড়ে তুলতে চীনা বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

রবিবার (১ জুন) চীনা বিনিয়োগকারীদের নিয়ে আয়োজিত দিনব্যাপী চীন-বাংলাদেশ ব্যবসা ও বিনিয়োগ সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।

বিনিয়োগ ভবনে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) ও বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) এবং চীন সরকারের পক্ষে চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও চীনা দূতাবাস যৌথভাবে এ আয়োজন করেছে। সম্মেলনে চীনের ১০০ কোম্পানির প্রায় ২৫০ বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ী অংশগ্রহণ করেছেন।

এ সময় চীনা ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে উৎসাহ দেওয়ায় দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে ধন্যবাদ জানান প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।

তিনি বলেন, “আমরা প্রথমবারের মতো এতো বিশালসংখ্যক বিদেশী বিনিয়োগকারী নিয়ে সম্মেলন করছি। এটি মাত্র শুরু, আগামীতে আমরা একসাথে আরো পথ হাঁটবো।”

প্রধান উপদেষ্টা চীনা বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে বলেন, “বাংলাদেশকে ম্যানুফ্যাকচারিং হাব বানাতে আপনারা এখানে বিনিয়োগ করুন। এখানে তৈরি পোশাক, জ্বালানি, কৃষি, পাট, তথ্য প্রযুক্তি সম্ভাবনাময় শিল্প।”

তিনি আরো বলেন, “বাংলাদেশের মোট জনশক্তির অর্ধেকের বয়স ৩০ বছরের নিচে। এই তরুণরা কাজে যোগ দিতে প্রস্তুত রয়েছে।” তিনি এই তরুণদের কাজ লাগানোর জন্য চীনা ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানান।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “চীন-বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি হয়েছে। উভয় দেশের সম্পর্ক আগামী দিনে আরো প্রসারিত হবে।”

বাংলাদেশে চীনের বিনিয়োগ সম্ভাবনা ও বাজার বিষয়ে বিস্তারিত ধারণা দিতে এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রায় ২৫০ জন চীনা বিনিয়োগকারী এবং ব্যবসায়িক প্রতিনিধি অংশ নেন। যারা প্রায় ১০০টি উদ্যোগের প্রতিনিধিত্ব করেন। যার মধ্যে ছয় থেকে সাতটি ফরচুন ৫০০ কোম্পানির ঊর্ধ্বতন নির্বাহীও ছিলেন।

সম্মেলন চলাকালীন চীনা ও বাংলাদেশি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা দিনব্যাপী পাঁচটি পৃথক ম্যাচমেকিং সেশনে অংশগ্রহণ করবেন, যার লক্ষ্য দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ।

সেশনগুলোতে তৈরি পোশাক ও বস্ত্র, কৃষি প্রক্রিয়াকরণ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, ইলেকট্রনিক্স এবং অন্যান্য খাত নিয়ে আলোচনা করা হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

বাংলাদেশকে ম্যানুফ্যাকচারিং হাব বানাতে চীনা বিনিয়োগকারীদের প্রতি আহ্বান

প্রকাশিত সময় : ০৬:৩৯:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ জুন ২০২৫

বাংলাদেশকে ম্যানুফ্যাকচারিং হাব হিসেবে গড়ে তুলতে চীনা বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

রবিবার (১ জুন) চীনা বিনিয়োগকারীদের নিয়ে আয়োজিত দিনব্যাপী চীন-বাংলাদেশ ব্যবসা ও বিনিয়োগ সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।

বিনিয়োগ ভবনে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) ও বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) এবং চীন সরকারের পক্ষে চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও চীনা দূতাবাস যৌথভাবে এ আয়োজন করেছে। সম্মেলনে চীনের ১০০ কোম্পানির প্রায় ২৫০ বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ী অংশগ্রহণ করেছেন।

এ সময় চীনা ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে উৎসাহ দেওয়ায় দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে ধন্যবাদ জানান প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।

তিনি বলেন, “আমরা প্রথমবারের মতো এতো বিশালসংখ্যক বিদেশী বিনিয়োগকারী নিয়ে সম্মেলন করছি। এটি মাত্র শুরু, আগামীতে আমরা একসাথে আরো পথ হাঁটবো।”

প্রধান উপদেষ্টা চীনা বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে বলেন, “বাংলাদেশকে ম্যানুফ্যাকচারিং হাব বানাতে আপনারা এখানে বিনিয়োগ করুন। এখানে তৈরি পোশাক, জ্বালানি, কৃষি, পাট, তথ্য প্রযুক্তি সম্ভাবনাময় শিল্প।”

তিনি আরো বলেন, “বাংলাদেশের মোট জনশক্তির অর্ধেকের বয়স ৩০ বছরের নিচে। এই তরুণরা কাজে যোগ দিতে প্রস্তুত রয়েছে।” তিনি এই তরুণদের কাজ লাগানোর জন্য চীনা ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানান।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “চীন-বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি হয়েছে। উভয় দেশের সম্পর্ক আগামী দিনে আরো প্রসারিত হবে।”

বাংলাদেশে চীনের বিনিয়োগ সম্ভাবনা ও বাজার বিষয়ে বিস্তারিত ধারণা দিতে এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রায় ২৫০ জন চীনা বিনিয়োগকারী এবং ব্যবসায়িক প্রতিনিধি অংশ নেন। যারা প্রায় ১০০টি উদ্যোগের প্রতিনিধিত্ব করেন। যার মধ্যে ছয় থেকে সাতটি ফরচুন ৫০০ কোম্পানির ঊর্ধ্বতন নির্বাহীও ছিলেন।

সম্মেলন চলাকালীন চীনা ও বাংলাদেশি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা দিনব্যাপী পাঁচটি পৃথক ম্যাচমেকিং সেশনে অংশগ্রহণ করবেন, যার লক্ষ্য দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ।

সেশনগুলোতে তৈরি পোশাক ও বস্ত্র, কৃষি প্রক্রিয়াকরণ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, ইলেকট্রনিক্স এবং অন্যান্য খাত নিয়ে আলোচনা করা হবে।