রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় শনিবার এতিম ও আলেম-ওলামাদের সম্মানে এক বিশেষ ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই অনুষ্ঠানে এক অনন্য নজির স্থাপন করে তিনি দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থেকে উপস্থিত আলেমদের পরামর্শ শোনেন। ইসলামের মর্মবাণী এবং দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলেম-ওলামাদের সাথে তার এই আলাপচারিতা মাহফিলে উপস্থিত সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। বিনয় ও শ্রদ্ধার সাথে ধর্মীয় নেতাদের কথা শুনে তিনি সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণে তাদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন।
ইফতারের আগে দেওয়া সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তারেক রহমান পবিত্র রমজানকে ত্যাগ ও সংযমের মাস হিসেবে উল্লেখ করে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন যে রমজান এলেই আমাদের মধ্যে কেউ কেউ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়ে দিয়ে এই মাসকে লোভ-লাভের মাস বানিয়ে ফেলেন। যারা এই মাসে অসাধু পন্থা অবলম্বন করছেন তাদের প্রতি বিনীত আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন যে দয়া করে আপনারা সাধারণ মানুষের কষ্টের কারণ হবেন না। সংযমের এই মাসে মানুষের দুর্ভোগ কমানোর জন্য তিনি ব্যবসায়ীদের প্রতি বিশেষভাবে অনুরোধ জানান।
যাকাত ব্যবস্থাপনা নিয়ে নিজের এক সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার কথা আলেমদের সামনে তুলে ধরেন সরকারপ্রধান। তিনি উল্লেখ করেন যে ইসলামের বিধান অনুযায়ী অনেক বিত্তবান নিজ উদ্যোগে বা সরকারি যাকাত বোর্ডের মাধ্যমে অর্থ প্রদান করলেও তা দারিদ্র্য বিমোচনে কতটা কার্যকর হচ্ছে তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বিভিন্ন গবেষণা প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি জানান যে বাংলাদেশে প্রতি বছর যাকাতের পরিমাণ ২০ থেকে ২৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি হয়ে থাকে। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ সুপরিকল্পিত ও সুসংগঠিতভাবে বণ্টন করা গেলে দেশের দারিদ্র্য নিরসনে তা বৈপ্লবিক ভূমিকা রাখতে পারবে বলে তিনি মনে করেন।

রিপোর্টারের নাম 






















