বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঈদ উপলক্ষে টানা ৭ দিনের ছুটি শুরু

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সাত দিনের ছুটি আজ মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে। এর আগে গতকাল সোমবার ছিল ঈদের আগের শেষ কর্মদিবস, যার ফলে বিকেল থেকেই রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছে মানুষ।

বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন এবং লঞ্চ ঘাটগুলোতে ঘরমুখো মানুষের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। সবার চোখেমুখে এখন নাড়ির টানে বাড়ি ফেরার আনন্দ।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২১ মার্চ (শনিবার) দেশে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই সম্ভাব্য তারিখকে সামনে রেখে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় আগে থেকেই ১৯ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত পাঁচ দিনের ছুটি নির্ধারণ করে রেখেছিল।

তবে ঈদযাত্রা আরও নির্বিঘ্ন করতে এবং মানুষের ভোগান্তি কমাতে মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তে ১৮ মার্চও নির্বাহী আদেশে ছুটি ঘোষণা করা হয়। এর সঙ্গে ১৭ মার্চের শবে কদরের ছুটি যোগ হয়ে মোট ছুটির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে সাত দিনে।

ঈদযাত্রায় মানুষের দুর্ভোগ লাঘবের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে গত ৫ মার্চ মন্ত্রিসভার বৈঠকে ১৮ মার্চ বাড়তি ছুটির প্রস্তাব করা হয়। পরবর্তী সময়ে ৮ মার্চ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, কার্যপ্রণালী বিধিমালা, ১৯৯৬-এর তফসিল অনুযায়ী অর্পিত ক্ষমতাবলে সরকার এই বিশেষ ছুটি ঘোষণা করেছে। এর ফলে সরকারি চাকরিজীবীরা টানা এক সপ্তাহ ঈদের আনন্দ উপভোগ করার সুযোগ পাচ্ছেন।

টানা ছুটির ঘোষণা থাকলেও জনস্বার্থে বেশ কিছু জরুরি সেবা এই ছুটির আওতামুক্ত রাখা হয়েছে। বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সার্বক্ষণিক সচল থাকবে। এ ছাড়া ফায়ার সার্ভিস, বন্দর কার্যক্রম, পরিচ্ছন্নতা অভিযান, টেলিফোন ও ইন্টারনেট সেবা এবং ডাক বিভাগের কর্মীরা বরাবরের মতো দায়িত্ব পালন করবেন। এসব সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যানবাহনগুলোও সড়কে চলাচলের অনুমতি পাবে।

ছুটির দিনগুলোতে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল এবং জরুরি চিকিৎসা সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো খোলা থাকবে। চিকিৎসক, নার্স ও সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকর্মীরা কর্মস্থলে উপস্থিত থেকে সেবা প্রদান করবেন। পাশাপাশি ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম বহনকারী যানবাহনগুলো ছুটির আওতার বাইরে থাকবে। জরুরি কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সরকারি অফিসগুলোও সীমিত পরিসরে খোলা রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

ঈদ উপলক্ষে টানা ৭ দিনের ছুটি শুরু

প্রকাশিত সময় : ১১:২৫:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সাত দিনের ছুটি আজ মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে। এর আগে গতকাল সোমবার ছিল ঈদের আগের শেষ কর্মদিবস, যার ফলে বিকেল থেকেই রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছে মানুষ।

বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন এবং লঞ্চ ঘাটগুলোতে ঘরমুখো মানুষের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। সবার চোখেমুখে এখন নাড়ির টানে বাড়ি ফেরার আনন্দ।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২১ মার্চ (শনিবার) দেশে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই সম্ভাব্য তারিখকে সামনে রেখে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় আগে থেকেই ১৯ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত পাঁচ দিনের ছুটি নির্ধারণ করে রেখেছিল।

তবে ঈদযাত্রা আরও নির্বিঘ্ন করতে এবং মানুষের ভোগান্তি কমাতে মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তে ১৮ মার্চও নির্বাহী আদেশে ছুটি ঘোষণা করা হয়। এর সঙ্গে ১৭ মার্চের শবে কদরের ছুটি যোগ হয়ে মোট ছুটির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে সাত দিনে।

ঈদযাত্রায় মানুষের দুর্ভোগ লাঘবের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে গত ৫ মার্চ মন্ত্রিসভার বৈঠকে ১৮ মার্চ বাড়তি ছুটির প্রস্তাব করা হয়। পরবর্তী সময়ে ৮ মার্চ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, কার্যপ্রণালী বিধিমালা, ১৯৯৬-এর তফসিল অনুযায়ী অর্পিত ক্ষমতাবলে সরকার এই বিশেষ ছুটি ঘোষণা করেছে। এর ফলে সরকারি চাকরিজীবীরা টানা এক সপ্তাহ ঈদের আনন্দ উপভোগ করার সুযোগ পাচ্ছেন।

টানা ছুটির ঘোষণা থাকলেও জনস্বার্থে বেশ কিছু জরুরি সেবা এই ছুটির আওতামুক্ত রাখা হয়েছে। বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সার্বক্ষণিক সচল থাকবে। এ ছাড়া ফায়ার সার্ভিস, বন্দর কার্যক্রম, পরিচ্ছন্নতা অভিযান, টেলিফোন ও ইন্টারনেট সেবা এবং ডাক বিভাগের কর্মীরা বরাবরের মতো দায়িত্ব পালন করবেন। এসব সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যানবাহনগুলোও সড়কে চলাচলের অনুমতি পাবে।

ছুটির দিনগুলোতে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল এবং জরুরি চিকিৎসা সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো খোলা থাকবে। চিকিৎসক, নার্স ও সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকর্মীরা কর্মস্থলে উপস্থিত থেকে সেবা প্রদান করবেন। পাশাপাশি ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম বহনকারী যানবাহনগুলো ছুটির আওতার বাইরে থাকবে। জরুরি কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সরকারি অফিসগুলোও সীমিত পরিসরে খোলা রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।