বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইসরায়েলের পরবর্তী লক্ষ্য হতে পারে তুরস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মাঝে এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, ইরান-ইসরায়েল চলমান দ্বন্দ্বের পর ইসরায়েল এখন তুরস্ককে তাদের নতুন প্রতিপক্ষ বা শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা করতে পারে।

তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলু-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ফিদান বলেন— ইসরায়েল এমন একটি রাষ্ট্র যা শত্রু ছাড়া টিকে থাকতে পারে না। ইরানের সাথে চলমান উত্তেজনার পর তারা এখন তুরস্ককে তাদের নতুন লক্ষ্যবস্তু বা প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করাতে চাইতে পারে।

সাক্ষাৎকারে ফিদান ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার পরোক্ষ আলোচনার বিষয়েও আলোকপাত করেন। তিনি জানান, সম্প্রতি পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি, তবে ফিদান মনে করেন দুই পক্ষই একটি যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছানোর বিষয়ে আন্তরিক।

আঞ্চলিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে পারমাণবিক ইস্যুটিকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী। বিশেষ করে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের বিষয়টি নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

ফিদান সতর্ক করে বলেন— পারমাণবিক ইস্যুতে সমঝোতা যদি ‘সব পাওয়া অথবা কিছুই না’ এমন একরোখা অবস্থানে চলে যায়, তবে বিশ্ব এক গুরুতর বাধার সম্মুখীন হবে।

ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের বর্তমান গতি বজায় থাকলে কূটনৈতিক সমাধান আরও কঠিন হয়ে পড়বে।

উল্লেখ্য, গত কয়েক মাস ধরেই গাজা ও লেবানন ইস্যুতে ইসরায়েলের কড়া সমালোচনা করে আসছে তুরস্ক। হাকান ফিদানের এই মন্তব্য আঙ্কারা ও তেল আবিবের মধ্যকার বিদ্যমান কূটনৈতিক টানাপড়েনকে আরও উসকে দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সূত্র- আল জাজিরা

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

ইসরায়েলের পরবর্তী লক্ষ্য হতে পারে তুরস্ক

প্রকাশিত সময় : ০৪:২২:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মাঝে এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, ইরান-ইসরায়েল চলমান দ্বন্দ্বের পর ইসরায়েল এখন তুরস্ককে তাদের নতুন প্রতিপক্ষ বা শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা করতে পারে।

তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলু-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ফিদান বলেন— ইসরায়েল এমন একটি রাষ্ট্র যা শত্রু ছাড়া টিকে থাকতে পারে না। ইরানের সাথে চলমান উত্তেজনার পর তারা এখন তুরস্ককে তাদের নতুন লক্ষ্যবস্তু বা প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করাতে চাইতে পারে।

সাক্ষাৎকারে ফিদান ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার পরোক্ষ আলোচনার বিষয়েও আলোকপাত করেন। তিনি জানান, সম্প্রতি পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি, তবে ফিদান মনে করেন দুই পক্ষই একটি যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছানোর বিষয়ে আন্তরিক।

আঞ্চলিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে পারমাণবিক ইস্যুটিকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী। বিশেষ করে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের বিষয়টি নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

ফিদান সতর্ক করে বলেন— পারমাণবিক ইস্যুতে সমঝোতা যদি ‘সব পাওয়া অথবা কিছুই না’ এমন একরোখা অবস্থানে চলে যায়, তবে বিশ্ব এক গুরুতর বাধার সম্মুখীন হবে।

ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের বর্তমান গতি বজায় থাকলে কূটনৈতিক সমাধান আরও কঠিন হয়ে পড়বে।

উল্লেখ্য, গত কয়েক মাস ধরেই গাজা ও লেবানন ইস্যুতে ইসরায়েলের কড়া সমালোচনা করে আসছে তুরস্ক। হাকান ফিদানের এই মন্তব্য আঙ্কারা ও তেল আবিবের মধ্যকার বিদ্যমান কূটনৈতিক টানাপড়েনকে আরও উসকে দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সূত্র- আল জাজিরা