প্রকাশিত সময় :
০৮:৪৩:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
১১
ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে সতর্ক করেছেন বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। একই সময়ে কূটনৈতিক অগ্রগতির ইঙ্গিত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, ইরান-এর সঙ্গে দ্বিতীয় দফা আলোচনার সম্ভাবনা বাড়ছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) টাইমস অব ইসরায়েল-এর বরাতে জানা যায়, মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন পাকিস্তানে আবারও যুক্তরাষ্ট্র–ইরান বৈঠক আয়োজনের বিষয়ে আলোচনা চলছে এবং একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়ে তারা আশাবাদী।
একজন জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা জানান, আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হলেও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে মতবিরোধ রয়ে গেছে। বিশেষ করে ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভবিষ্যৎ এবং পারমাণবিক কর্মসূচির সীমাবদ্ধতার সময়সীমা নিয়ে এখনো সমাধান হয়নি।
ক্যারোলিন লেভিট বলেন, পরবর্তী আলোচনা সম্ভবত পাকিস্তানের রাজধানীতেই অনুষ্ঠিত হবে এবং একটি সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে ওয়াশিংটন ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে।
জেডি ভ্যান্স জানান, ইরানের সামনে একটি বড় সমঝোতা প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে ছয় সপ্তাহের যুদ্ধ পরিস্থিতি স্থিতিশীল করা এবং দীর্ঘদিনের পারমাণবিক বিরোধ সমাধানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
অন্যদিকে নেতানিয়াহু বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ বিষয়ে ইসরায়েলকে নিয়মিত অবহিত করছে এবং দুই দেশের লক্ষ্য একই। তার দাবি, ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় পুরোপুরি খুলে দিতে হবে।
বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ অপরিশোধিত তেল এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। বর্তমানে এটি আঞ্চলিক উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা সতর্ক করে বলেছেন, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক অর্থনীতি চাপের মুখে পড়বে এবং তেলের দাম বৃদ্ধি খাদ্য মূল্যস্ফীতিকে আরও বাড়াতে পারে।
তবে কূটনৈতিক অগ্রগতির খবরে আন্তর্জাতিক বাজারে ইতিবাচক প্রভাব দেখা গেছে—শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বগতি এবং তেলের দামে কিছুটা পতন হয়েছে।
আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীরা তিনটি প্রধান বিষয় নিয়ে কাজ করছেন—ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি এবং যুদ্ধকালীন ক্ষতিপূরণ। ইরান বলছে, তারা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের বিষয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত, তবে নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী এ কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার অধিকার বজায় রাখতে চায়।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, তাদের অবরোধের কারণে ইরানের সমুদ্রপথে বাণিজ্য প্রায় স্থবির হয়ে গেছে, যদিও ইরানি সূত্রগুলো বলছে কিছু জাহাজ চলাচল এখনো অব্যাহত রয়েছে।
ইরানের সামরিক কর্তৃপক্ষ আবারও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, অবরোধ প্রত্যাহার না হলে পারস্য উপসাগর, ওমান সাগর ও লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচল লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে—যা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে।