শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যে ৬ শর্তে লেবানন-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি

১০ দিনের একটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে লেবানন ও ইসরায়েল। যা মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) থেকে কার্যকর হয়েছে। যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, দুদেশের নেতাদের মধ্যে প্রথমবারের মতো বৈঠক আয়োজনের চেষ্টা চলছে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের সঙ্গে ফোনালাপের পর ট্রাম্প জানান, কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে।

পরে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর যুদ্ধবিরতির ছয়টি শর্ত প্রকাশ করে, যা উভয় দেশ মেনে নিয়েছে বলে জানানো হয়।

যুদ্ধবিরতির শর্তগুলো হলো—

১. ২০২৬ সালের ১৬ এপ্রিল বিকাল ৫টা থেকে লেবানন ও ইসরায়েল সব ধরনের শত্রুতা বন্ধ রাখবে। প্রাথমিকভাবে এই যুদ্ধবিরতি ১০ দিনের জন্য কার্যকর থাকবে, যা স্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তা চুক্তির লক্ষ্যে আলোচনার সুযোগ তৈরির জন্য নেওয়া হয়েছে।

২. আলোচনায় অগ্রগতি হলে এবং লেবানন তার সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ভূমিকা দেখাতে পারলে, পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো যেতে পারে।

৩. ইসরায়েল আত্মরক্ষার অধিকার সংরক্ষণ করবে এবং সম্ভাব্য বা চলমান হামলার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবে। তবে এ সময় লেবাননের ভেতরে স্থল, আকাশ ও সমুদ্রপথে কোনো ধরনের আক্রমণাত্মক সামরিক অভিযান চালাবে না।

৪. আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় লেবানন সরকার হিজবুল্লাহসহ অন্যান্য অনিয়ন্ত্রিত সশস্ত্র গোষ্ঠীকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কোনো হামলা বা বৈরী কর্মকাণ্ড চালানো থেকে বিরত রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।

৫. লেবাননের নিরাপত্তা বাহিনীই দেশটির সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় প্রতিরক্ষার একমাত্র দায়িত্বশীল শক্তি হিসেবে স্বীকৃত হবে; অন্য কোনো দেশ বা গোষ্ঠী এ দাবিদার হতে পারবে না।

৬. বাকি অমীমাংসিত বিষয়—বিশেষ করে আন্তর্জাতিক স্থলসীমা নির্ধারণসহ অন্যান্য ইস্যু সমাধানের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় সরাসরি আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে দুই দেশ, যাতে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।

সূত্র: আল-এরাবিয়া

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

যে ৬ শর্তে লেবানন-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি

প্রকাশিত সময় : ০৯:১৮:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
১০ দিনের একটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে লেবানন ও ইসরায়েল। যা মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) থেকে কার্যকর হয়েছে। যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, দুদেশের নেতাদের মধ্যে প্রথমবারের মতো বৈঠক আয়োজনের চেষ্টা চলছে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের সঙ্গে ফোনালাপের পর ট্রাম্প জানান, কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে।

পরে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর যুদ্ধবিরতির ছয়টি শর্ত প্রকাশ করে, যা উভয় দেশ মেনে নিয়েছে বলে জানানো হয়।

যুদ্ধবিরতির শর্তগুলো হলো—

১. ২০২৬ সালের ১৬ এপ্রিল বিকাল ৫টা থেকে লেবানন ও ইসরায়েল সব ধরনের শত্রুতা বন্ধ রাখবে। প্রাথমিকভাবে এই যুদ্ধবিরতি ১০ দিনের জন্য কার্যকর থাকবে, যা স্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তা চুক্তির লক্ষ্যে আলোচনার সুযোগ তৈরির জন্য নেওয়া হয়েছে।

২. আলোচনায় অগ্রগতি হলে এবং লেবানন তার সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ভূমিকা দেখাতে পারলে, পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো যেতে পারে।

৩. ইসরায়েল আত্মরক্ষার অধিকার সংরক্ষণ করবে এবং সম্ভাব্য বা চলমান হামলার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবে। তবে এ সময় লেবাননের ভেতরে স্থল, আকাশ ও সমুদ্রপথে কোনো ধরনের আক্রমণাত্মক সামরিক অভিযান চালাবে না।

৪. আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় লেবানন সরকার হিজবুল্লাহসহ অন্যান্য অনিয়ন্ত্রিত সশস্ত্র গোষ্ঠীকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কোনো হামলা বা বৈরী কর্মকাণ্ড চালানো থেকে বিরত রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।

৫. লেবাননের নিরাপত্তা বাহিনীই দেশটির সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় প্রতিরক্ষার একমাত্র দায়িত্বশীল শক্তি হিসেবে স্বীকৃত হবে; অন্য কোনো দেশ বা গোষ্ঠী এ দাবিদার হতে পারবে না।

৬. বাকি অমীমাংসিত বিষয়—বিশেষ করে আন্তর্জাতিক স্থলসীমা নির্ধারণসহ অন্যান্য ইস্যু সমাধানের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় সরাসরি আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে দুই দেশ, যাতে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।

সূত্র: আল-এরাবিয়া