হজরত আবদুল্লাহ উন্দুলুসি (রহ.)-এর ঘটনা : তিনি একবার তাঁর মুরিদানদের নিয়ে সফরে বের হন। পথিমধ্যে খ্রিস্টানদের একটি উপাসনালয় দেখে তাদের প্রতি মনে ঘৃণার উদ্রেক হয়। আর ঘৃণা সৃষ্টি হয় অহংকার থেকে। কাজেই আল্লাহ তাঁকে শিক্ষা দিতে চাইলেন। আল্লাহর দয়া ও অনুগ্রহেই তো তিনি এত বড় ওলি হতে পেরেছেন। এখানে দায়িত্ব ছিল, ওই খ্রিস্টানদের দাওয়াত ও বোঝানোর মাধ্যমে কীভাবে ইসলামের ছায়াতলে আনা যায় সেই কোশেশ করা। কিন্তু তিনি এসব না করে নিজেকে উত্তম মনে করে তাদের ঘৃণিত মনে করলেন। যার পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহপাক শাস্তি দিতে শুরু করলেন। যারা প্রিয় হয় তাদের ছোট ত্রুটিই বড় ত্রুটি হিসেবে ধরা হয়। উন্দুলুসি তাঁর সাথিদের নিয়ে সামনে অগ্রসর হচ্ছিলেন। হঠাৎ পরমাসুন্দরী এক খ্রিস্টান নারীর প্রতি দৃষ্টি পড়ে গেলে তিনি তার প্রতি আসক্ত হয়ে পড়লেন। সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহপাক তাঁর বুজুর্গি উঠিয়ে নিলেন। এখন আর তাঁর সিনায় কোরআন-হাদিসের ইলম নেই। নামাজ-রোজার জ্ঞান নেই। ইলমহীন এ মানুষটি শেষ পর্যন্ত খ্রিস্টান হয়ে তিন বছর শূকর চরিয়েছেন খ্রিস্টানের বাড়িতে। শেষমেশ নিজ ভক্ত-মুরিদ ও খলিফাদের তওবা আর কান্নাকাটির দরুন আল্লাহপাক তাঁর বুজুর্গি ফিরিয়ে দিয়েছিলেন।
তারা মারাত্মক দুটি আত্মিক ব্যাধিতে আক্রান্ত : অনেকের মনে এরকম নিন্দনীয় বাসনা জাগ্রত হয় যে আমিই শুধু বুজুর্গ হতে পারতাম, অন্য কেউ না হতো! মনে রাখবেন যাদের মনে এমন আশা জন্ম নেয়, বুঝতে হবে তারা মারাত্মক দুটি আত্মিক ব্যাধিতে আক্রান্ত; তা হলো হিংসা ও ঘৃণা। এসব লোক দুনিয়ায় কোনো দিনও শান্তিতে বসবাস করতে পারবে না। আল্লাহপাক যদি দয়া করে আমাদের সবাইকে মুত্তাকি-বুজুর্গ বানিয়ে দেন তাহলে কার কী অসুবিধা?
হজরত হারদুই (রহ.) বলতেন : কামেল বুজুর্গদের এজন্যই আল্লাহওয়ালাদের সোহবতে থাকতে বলা হয়েছে, যাতে তাদের মধ্যে হিংসা, ঘৃণা, অহংকারসহ অন্যান্য আত্মিক ব্যাধি বাসা বাঁধতে না পারে। হজরত হারদুই (রহ.) বলতেন, হে আমার খলিফারা, তোমরা সর্বদা কোনো সালেহ মুরুব্বির নেগরানিতে থাকবে। কারণ কার বেলায়েত কখন উঠে যায় তা বলা যায় না। সোহবত হলো আল্লাহপাকের রশি অর্থাৎ বান্দা ও আল্লাহর মাঝে সম্পর্ক সৃষ্টির মাধ্যম। এই রশিকে কোটি মানুষ মিলেও ছিঁড়তে পারবে না। এ আয়াতে বিশেষ করে যারা আলেম, মুফতি, মুহাদ্দিস তাঁদের বুজুর্গদের সান্নিধ্য অবলম্বন করতে বলা হয়েছে। বুজুর্গদের সোহবত ছাড়া ইমানের মাঝে পরিপূর্ণতা ও সৌন্দর্য আসে না। আয়না যতই দামি হোক তা ময়লা যুক্ত হলে চেহারা দেখা সম্ভব হবে না। মানুষ যতই শিক্ষিত ও সম্মানিত হোক, তার দিল যদি ময়লাযুক্ত হয়, তাহলে জীবনের সব লক্ষ্য ভেস্তে যাবে। সাহাবায়ে কেরামের অন্তর পরিশুদ্ধ হওয়ার মাধ্যম ছিল রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সোহবত।

ডেইলি দেশ নিউজ ডটকম ডেস্ক 
























