শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আল্লাহ কোনো কিছুই অনর্থক সৃষ্টি করেননি

মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, وَ مَا خَلَقۡنَا السَّمَآءَ وَ الۡاَرۡضَ وَ مَا بَیۡنَهُمَا لٰعِبِیۡنَ ﴿۱۶﴾ لَوۡ اَرَدۡنَاۤ اَنۡ نَّتَّخِذَ لَهۡوًا لَّاتَّخَذۡنٰهُ مِنۡ لَّدُنَّاۤ اِنۡ كُنَّا فٰعِلِیۡنَ

সরল অনুবাদ:

আসমান-জমিন ও তাদের মধ্যখানে যা কিছু আছে তার কোনো কিছুই আমি খেলাচ্ছলে সৃষ্টি করিনি। আমি যদি খেলার উপকরণ গ্রহণ করতে চাইতাম, তাহলে আমার কাছে যা আছে তা দিয়েই করতাম। কিন্তু আমি তা করিনি। (সুরা : আম্বিয়া, আয়াত : ১৬-১৭)

সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা:

যারা পার্থিব জীবনকেই শেষ কথা মনে করে, আখেরাতের অস্তিত্ব স্বীকার করে না, তাদের কথার অর্থ দাঁড়ায়, আল্লাহ তাআলা বিশ্ব জগতকে এমনিই সৃষ্টি করেছেন, এর পেছনে তাঁর বিশেষ কোনো উদ্দেশ্য নেই।

এটা তার একটা খেলা মাত্র। তারা যেন বলছে, এ দুনিয়ায় যা-কিছু ঘটছে পরবর্তীতে কখনো এর কোনো ফলাফল প্রকাশ পাবে না। না কেউ তার সৎকাজের কোনো পুরস্কার পাবে, না কাউকে তার অসৎ কাজের শাস্তি ভোগ করতে হবে। আল্লাহ তাআলা সম্পর্কে এমন ধারণা পোষণ করা শুধু গুরুতর বেয়াদবি নয়, বরং চরম ধৃষ্টতাও বটে। (তাওজিহুল কোরআন, মুফতি তাকি উসমানি)

আল্লাহ তায়ালা বিভিন্ন উদ্দেশ্যে আসমান জমিন সৃষ্টি করেছেন, যেমন তাঁর বান্দারা যেন এসব নিদর্শন দেখে তার কথা স্মরণ করে, তার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ইত্যাদি। (তাফসিরে আহসানুল বায়ান)

لَهْوٌا শব্দের আসল অর্থ, কর্মহীনতার কর্ম, বা রং-তামাশার জন্য যা করা হয়। উদ্দেশ্য হলো, যারা বলে আল্লাহ তাআলা এসব খেলাচ্ছলে সৃষ্টি  করেছেন তারা কি বুঝে না যে, সুপরিকল্পিতভাবে সৃষ্টি করা এত বিরাট ও সুনিপুণ সৃষ্টি কখনো খেলাচ্ছলে সম্ভব নয়। তাছাড়া لَهْوٌا শব্দটি কোন কোন সময় স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততির অর্থেও ব্যবহৃত হয়।

এ অর্থ ধরা হলে আয়াতের উদ্দেশ্য হবে ইহুদি ও নাসারাদের দাবি খণ্ডন করা। তারা উজায়ের ও ঈসা (আ.)-কে আল্লাহর পুত্র বলে দাবি করতো। তাই বলা হচ্ছে যে, যদি আমাকে সন্তানই গ্রহণ করতে হত, তাহলে আমি মানুষকে কেন গ্রহণ করতাম, আমি তো আমার নিকটস্থ সৃষ্টিকেই গ্রহণ করতে পারতাম। (ইবন কাসির, ফাতহুল কাদির)
শিক্ষা ও বিধান:

১. আল্লাহ তাআলা কোনো কিছুই খেলাচ্ছলে সৃষ্টি করেননি। তিনি নিরর্থক কাজ থেকে পবিত্র।

তাঁর প্রতিটি কাজই পরিপূর্ণ জ্ঞান, ন্যায় ও প্রজ্ঞায় ভরপুর।

২. আল্লাহ তাআলা কারো মুখাপেক্ষী বা কারো উপর নির্ভরশীল নন, তিনি সম্পূর্ণ স্বয়ংসম্পূর্ণ। বরং সবকিছুই তার মুখাপেক্ষী।

৩. যেহেতু কোনো সৃষ্টি অর্থহীন নয়, তাই মানুষের জীবনও উদ্দেশ্যহীন হওয়া উচিত নয়।

৪. এই আয়াত ইঙ্গিত দেয় যে পৃথিবী খেলার জায়গা নয়, বরং পরীক্ষা। তাই সচেতনভাবে আল্লাহর আনুগত্যে জীবন পরিচালনা করা জরুরি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

আল্লাহ কোনো কিছুই অনর্থক সৃষ্টি করেননি

আল্লাহ কোনো কিছুই অনর্থক সৃষ্টি করেননি

প্রকাশিত সময় : ১০:০৪:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, وَ مَا خَلَقۡنَا السَّمَآءَ وَ الۡاَرۡضَ وَ مَا بَیۡنَهُمَا لٰعِبِیۡنَ ﴿۱۶﴾ لَوۡ اَرَدۡنَاۤ اَنۡ نَّتَّخِذَ لَهۡوًا لَّاتَّخَذۡنٰهُ مِنۡ لَّدُنَّاۤ اِنۡ كُنَّا فٰعِلِیۡنَ

সরল অনুবাদ:

আসমান-জমিন ও তাদের মধ্যখানে যা কিছু আছে তার কোনো কিছুই আমি খেলাচ্ছলে সৃষ্টি করিনি। আমি যদি খেলার উপকরণ গ্রহণ করতে চাইতাম, তাহলে আমার কাছে যা আছে তা দিয়েই করতাম। কিন্তু আমি তা করিনি। (সুরা : আম্বিয়া, আয়াত : ১৬-১৭)

সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা:

যারা পার্থিব জীবনকেই শেষ কথা মনে করে, আখেরাতের অস্তিত্ব স্বীকার করে না, তাদের কথার অর্থ দাঁড়ায়, আল্লাহ তাআলা বিশ্ব জগতকে এমনিই সৃষ্টি করেছেন, এর পেছনে তাঁর বিশেষ কোনো উদ্দেশ্য নেই।

এটা তার একটা খেলা মাত্র। তারা যেন বলছে, এ দুনিয়ায় যা-কিছু ঘটছে পরবর্তীতে কখনো এর কোনো ফলাফল প্রকাশ পাবে না। না কেউ তার সৎকাজের কোনো পুরস্কার পাবে, না কাউকে তার অসৎ কাজের শাস্তি ভোগ করতে হবে। আল্লাহ তাআলা সম্পর্কে এমন ধারণা পোষণ করা শুধু গুরুতর বেয়াদবি নয়, বরং চরম ধৃষ্টতাও বটে। (তাওজিহুল কোরআন, মুফতি তাকি উসমানি)

আল্লাহ তায়ালা বিভিন্ন উদ্দেশ্যে আসমান জমিন সৃষ্টি করেছেন, যেমন তাঁর বান্দারা যেন এসব নিদর্শন দেখে তার কথা স্মরণ করে, তার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ইত্যাদি। (তাফসিরে আহসানুল বায়ান)

لَهْوٌا শব্দের আসল অর্থ, কর্মহীনতার কর্ম, বা রং-তামাশার জন্য যা করা হয়। উদ্দেশ্য হলো, যারা বলে আল্লাহ তাআলা এসব খেলাচ্ছলে সৃষ্টি  করেছেন তারা কি বুঝে না যে, সুপরিকল্পিতভাবে সৃষ্টি করা এত বিরাট ও সুনিপুণ সৃষ্টি কখনো খেলাচ্ছলে সম্ভব নয়। তাছাড়া لَهْوٌا শব্দটি কোন কোন সময় স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততির অর্থেও ব্যবহৃত হয়।

এ অর্থ ধরা হলে আয়াতের উদ্দেশ্য হবে ইহুদি ও নাসারাদের দাবি খণ্ডন করা। তারা উজায়ের ও ঈসা (আ.)-কে আল্লাহর পুত্র বলে দাবি করতো। তাই বলা হচ্ছে যে, যদি আমাকে সন্তানই গ্রহণ করতে হত, তাহলে আমি মানুষকে কেন গ্রহণ করতাম, আমি তো আমার নিকটস্থ সৃষ্টিকেই গ্রহণ করতে পারতাম। (ইবন কাসির, ফাতহুল কাদির)
শিক্ষা ও বিধান:

১. আল্লাহ তাআলা কোনো কিছুই খেলাচ্ছলে সৃষ্টি করেননি। তিনি নিরর্থক কাজ থেকে পবিত্র।

তাঁর প্রতিটি কাজই পরিপূর্ণ জ্ঞান, ন্যায় ও প্রজ্ঞায় ভরপুর।

২. আল্লাহ তাআলা কারো মুখাপেক্ষী বা কারো উপর নির্ভরশীল নন, তিনি সম্পূর্ণ স্বয়ংসম্পূর্ণ। বরং সবকিছুই তার মুখাপেক্ষী।

৩. যেহেতু কোনো সৃষ্টি অর্থহীন নয়, তাই মানুষের জীবনও উদ্দেশ্যহীন হওয়া উচিত নয়।

৪. এই আয়াত ইঙ্গিত দেয় যে পৃথিবী খেলার জায়গা নয়, বরং পরীক্ষা। তাই সচেতনভাবে আল্লাহর আনুগত্যে জীবন পরিচালনা করা জরুরি।