বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড দিবস আজ

আজ ৫ মে। ২০১৩ সালের এই দিনে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সংঘটিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে দিনটি বিভিন্ন পক্ষ ‘শাপলা চত্বর ঘটনা’ বা ‘শাপলা চত্বর অভিযান’ দিবস হিসেবে স্মরণ করে। দিনটিকে ঘিরে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সংগঠনগুলো ভিন্ন ভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে।

২০১৩ সালে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ও পবিত্র কোরআনের অবমাননার প্রতিবাদ এবং ১৩ দফা দাবিতে রাজধানীতে কর্মসূচি দেয় কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। সংগঠনটির তৎকালীন আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী-এর নেতৃত্বে দেশজুড়ে আন্দোলন গড়ে ওঠে।

৬ এপ্রিল লংমার্চ কর্মসূচির পর ৫ মে ঢাকায় অবস্থান কর্মসূচি দেয় সংগঠনটি। ওই দিন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা বিপুলসংখ্যক মানুষ মতিঝিল ও আশপাশের এলাকায় জড়ো হন। সন্ধ্যার পর শাপলা চত্বরে অবস্থান নেয় আন্দোলনকারীরা।

৫ মে দিবাগত রাতে (৬ মে ভোরে) পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবির সমন্বয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে মতিঝিল এলাকা অন্ধকারে ঢেকে যায়। সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ার শেল ও অন্যান্য উপকরণ ব্যবহার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হয় বলে বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্যে উঠে আসে

অভিযানকে কেন্দ্র করে ওই সময় হতাহতের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন দাবি ওঠে। মানবাধিকার সংগঠন অধিকার-এর এক প্রতিবেদনে ৬১ জন নিহত হওয়ার দাবি করা হলেও সরকারি পর্যায়ে ভিন্ন বক্তব্য দেওয়া হয়।

ঘটনার পর কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধ হওয়ার বিষয়টিও তখন আলোচনায় আসে। একই সঙ্গে অভিযানের প্রয়োজনীয়তা ও প্রেক্ষাপট নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলে আসছে।

২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ঘটনাটির তদন্তে নতুন অগ্রগতি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, তদন্তের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং একটি প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হচ্ছে।

এদিকে দিনটি উপলক্ষে বিভিন্ন ধর্মীয় ও রাজনৈতিক সংগঠন দোয়া, আলোচনা সভা ও কর্মসূচি পালন করছে। শাপলা চত্বর এলাকায় মানববন্ধনেরও আয়োজন করা হয়েছে।

এক যুগ পরও ঘটনাটিকে ঘিরে বিচার ও প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়ে আসছেন বিভিন্ন পক্ষ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড দিবস আজ

প্রকাশিত সময় : ১০:৩০:৫৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬

আজ ৫ মে। ২০১৩ সালের এই দিনে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সংঘটিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে দিনটি বিভিন্ন পক্ষ ‘শাপলা চত্বর ঘটনা’ বা ‘শাপলা চত্বর অভিযান’ দিবস হিসেবে স্মরণ করে। দিনটিকে ঘিরে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সংগঠনগুলো ভিন্ন ভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে।

২০১৩ সালে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ও পবিত্র কোরআনের অবমাননার প্রতিবাদ এবং ১৩ দফা দাবিতে রাজধানীতে কর্মসূচি দেয় কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। সংগঠনটির তৎকালীন আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী-এর নেতৃত্বে দেশজুড়ে আন্দোলন গড়ে ওঠে।

৬ এপ্রিল লংমার্চ কর্মসূচির পর ৫ মে ঢাকায় অবস্থান কর্মসূচি দেয় সংগঠনটি। ওই দিন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা বিপুলসংখ্যক মানুষ মতিঝিল ও আশপাশের এলাকায় জড়ো হন। সন্ধ্যার পর শাপলা চত্বরে অবস্থান নেয় আন্দোলনকারীরা।

৫ মে দিবাগত রাতে (৬ মে ভোরে) পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবির সমন্বয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে মতিঝিল এলাকা অন্ধকারে ঢেকে যায়। সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ার শেল ও অন্যান্য উপকরণ ব্যবহার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হয় বলে বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্যে উঠে আসে

অভিযানকে কেন্দ্র করে ওই সময় হতাহতের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন দাবি ওঠে। মানবাধিকার সংগঠন অধিকার-এর এক প্রতিবেদনে ৬১ জন নিহত হওয়ার দাবি করা হলেও সরকারি পর্যায়ে ভিন্ন বক্তব্য দেওয়া হয়।

ঘটনার পর কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধ হওয়ার বিষয়টিও তখন আলোচনায় আসে। একই সঙ্গে অভিযানের প্রয়োজনীয়তা ও প্রেক্ষাপট নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলে আসছে।

২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ঘটনাটির তদন্তে নতুন অগ্রগতি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, তদন্তের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং একটি প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হচ্ছে।

এদিকে দিনটি উপলক্ষে বিভিন্ন ধর্মীয় ও রাজনৈতিক সংগঠন দোয়া, আলোচনা সভা ও কর্মসূচি পালন করছে। শাপলা চত্বর এলাকায় মানববন্ধনেরও আয়োজন করা হয়েছে।

এক যুগ পরও ঘটনাটিকে ঘিরে বিচার ও প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়ে আসছেন বিভিন্ন পক্ষ।