প্রকাশিত সময় :
১১:০০:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬
৪২
রাঙামাটির সাজেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অনিয়ম ও শিক্ষকদের অনুপস্থিতির চিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরার জেরে এক নারী কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে মারধর ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী রিতা চাকমা অভিযোগ করেছেন, বিদ্যালয়ের নানা অনিয়ম প্রকাশ্যে আনায় তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে এবং পরিবারসহ এলাকা ছাড়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে।
জানা যায়, রাঙামাটির সাজেক ভ্যালি এলাকার বাঘাইছড়ি উপজেলার ছয়নালছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষাব্যবস্থার বেহাল চিত্র নিয়ে সম্প্রতি একটি ভিডিও প্রকাশ করেন রিতা চাকমা। সেখানে বিদ্যালয়টিতে শিক্ষকদের অনুপস্থিতি, ভাড়াটে শিক্ষক দিয়ে বিদ্যালয় ও শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনাসহ দীর্ঘদিনের অনিয়ম, দায়িত্বে অবহেলা ও অব্যবস্থাপনা রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
১৯৬৪ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টিতে এখনো জরাজীর্ণ টিনশেড ভবনে পাঠদান চলছে বলেও ভিডিওতে তুলে ধরা হয়। তার দাবি, অনুমোদিত শিক্ষকসংখ্যা থাকলেও অধিকাংশ সময় বিদ্যালয়ে শিক্ষক উপস্থিত থাকেন না।
ভিডিওটি প্রকাশের পর তা দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ভিডিওটি কয়েক লাখ মানুষ দেখেছেন এবং ব্যাপক শেয়ার ও মন্তব্য হয়েছে।
এরপর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। রিতা চাকমা আরেকটি ভিডিও বার্তায় দাবি করেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি তার ওপর ক্ষুব্ধ হন। পরে তাকে ডেকে নিয়ে মারধর ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়।
স্থানীয় সূত্র বলছে, দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরেই অনেক বিদ্যালয়ে বিকল্প বা বর্গা শিক্ষক দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চালানোর অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব বিষয় অনেক সময় প্রশাসনের নজরে আসে না।
এ বিষয়ে বাঘাইছড়ি উপজেলা শিক্ষা অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সঞ্চয়ন চাকমা গণমাধ্যমকে জানান, সাজেকের অনেক বিদ্যালয় দুর্গম এলাকায় হওয়ায় নিয়মিত তদারকি কঠিন হয়ে পড়ে। সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ে অনুমোদিত চারজন শিক্ষকের মধ্যে একজন সংযুক্তিতে রয়েছেন এবং আরেকজন দীর্ঘদিন ধরে সাময়িক বরখাস্ত অবস্থায় আছেন। বর্তমানে দুইজন শিক্ষক দিয়ে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে বলে তিনি জানান।
তিনি আরও বলেন, ২০২২ সালের পর নতুন শিক্ষক নিয়োগ না হওয়ায় পুরো উপজেলাজুড়ে শিক্ষক সংকট রয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগকারী তরুণীর সঙ্গে স্থানীয় কিছু ব্যক্তির ব্যক্তিগত বিরোধের বিষয়ও শুনেছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন মহল থেকে সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি উঠেছে।