শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে সারা দেশে জামায়াতের বিক্ষোভ আজ

বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের সব মহানগরে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। বর্ধিত দাম প্রত্যাহার এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণের দাবিতে আজ (বৃহস্পতিবার) এ কর্মসূচি পালন করবে দলটি।

এদিন ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে বিকেল ৫টায় বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে বিক্ষোভ হবে। বুধবার (৩ জুন) দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে এ কথা জানান।

সরকার সাধারণ মানুষের পকেট কাটার ‘চরম ও নিষ্ঠুর খেলায়’ মেতে উঠেছে উল্লেখ করে বিবৃতিতে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আসন্ন বাজেটকে সামনে রেখে তড়িঘড়ি করে বিদ্যুতের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি করা সাধারণ মানুষের ওপর এক বড় ধরনের জুলুম।

এমনিতেই নিত্যপ্রয়োজনীয় সব জিনিসপত্রের দামের ঊর্ধ্বগতিতে মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। তার ওপর বিদ্যুতের এই মূল্যবৃদ্ধি ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হিসেবে মনে করছে জামায়াতে ইসলামী।

দলটির সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, বিইআরসির আদেশ অনুযায়ী পাইকারিতে গড় দাম ৭ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮ টাকা ৩৯ পয়সা এবং খুচরা পর্যায়ে প্রতি ইউনিটের গড় দাম ৯ টাকা ১১ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১০ টাকা ৬৩ পয়সা করা হয়েছে। একইসঙ্গে সঞ্চালন চার্জও প্রায় ২৪ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে।

বিদ্যুতের এই দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশের শিল্প ও কৃষি উৎপাদন খরচ ব্যাপক আকারে বৃদ্ধি পাবে। কলকারখানা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও কৃষি খাতে স্থবিরতা নেমে আসবে বলে বিবৃতিতে বলা হয়।

জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, চাল, ডাল, তেলসহ সব নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম আরও বাড়বে। এতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে উঠবে।

তিনি বলেন, মূলত বিদ্যুৎ খাতের সীমাহীন দুর্নীতি, অপচয় এবং কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ক্যাপাসিটি চার্জের নামে জনগণের হাজার হাজার কোটি টাকা লুটের খেসারত দিতেই বারবার জনগণের ওপর এই মূল্যবৃদ্ধির বোঝা চাপানো হচ্ছে।

জনগণের প্রতি সরকারের কোনো দায়বদ্ধতা থাকলে এমন অমানবিক সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব হতো না বলেও মনে করছে জামায়াতে ইসলামী।

সরকারের এমন সিদ্ধান্ত ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’, ‘গণবিরোধী’ ও ‘অযৌক্তিক’ উল্লেখ করে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী।

জনস্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে অবিলম্বে জনসাধারণের চরম দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করার জোর দাবি জানিয়েছে দলটি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

কারামুক্ত হয়ে বাড়িতে ফিরলেও আইভীকে থাকতে হবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারিতে

বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে সারা দেশে জামায়াতের বিক্ষোভ আজ

প্রকাশিত সময় : ০৪:৪১:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের সব মহানগরে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। বর্ধিত দাম প্রত্যাহার এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণের দাবিতে আজ (বৃহস্পতিবার) এ কর্মসূচি পালন করবে দলটি।

এদিন ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে বিকেল ৫টায় বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে বিক্ষোভ হবে। বুধবার (৩ জুন) দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে এ কথা জানান।

সরকার সাধারণ মানুষের পকেট কাটার ‘চরম ও নিষ্ঠুর খেলায়’ মেতে উঠেছে উল্লেখ করে বিবৃতিতে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আসন্ন বাজেটকে সামনে রেখে তড়িঘড়ি করে বিদ্যুতের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি করা সাধারণ মানুষের ওপর এক বড় ধরনের জুলুম।

এমনিতেই নিত্যপ্রয়োজনীয় সব জিনিসপত্রের দামের ঊর্ধ্বগতিতে মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। তার ওপর বিদ্যুতের এই মূল্যবৃদ্ধি ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হিসেবে মনে করছে জামায়াতে ইসলামী।

দলটির সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, বিইআরসির আদেশ অনুযায়ী পাইকারিতে গড় দাম ৭ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮ টাকা ৩৯ পয়সা এবং খুচরা পর্যায়ে প্রতি ইউনিটের গড় দাম ৯ টাকা ১১ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১০ টাকা ৬৩ পয়সা করা হয়েছে। একইসঙ্গে সঞ্চালন চার্জও প্রায় ২৪ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে।

বিদ্যুতের এই দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশের শিল্প ও কৃষি উৎপাদন খরচ ব্যাপক আকারে বৃদ্ধি পাবে। কলকারখানা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও কৃষি খাতে স্থবিরতা নেমে আসবে বলে বিবৃতিতে বলা হয়।

জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, চাল, ডাল, তেলসহ সব নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম আরও বাড়বে। এতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে উঠবে।

তিনি বলেন, মূলত বিদ্যুৎ খাতের সীমাহীন দুর্নীতি, অপচয় এবং কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ক্যাপাসিটি চার্জের নামে জনগণের হাজার হাজার কোটি টাকা লুটের খেসারত দিতেই বারবার জনগণের ওপর এই মূল্যবৃদ্ধির বোঝা চাপানো হচ্ছে।

জনগণের প্রতি সরকারের কোনো দায়বদ্ধতা থাকলে এমন অমানবিক সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব হতো না বলেও মনে করছে জামায়াতে ইসলামী।

সরকারের এমন সিদ্ধান্ত ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’, ‘গণবিরোধী’ ও ‘অযৌক্তিক’ উল্লেখ করে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী।

জনস্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে অবিলম্বে জনসাধারণের চরম দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করার জোর দাবি জানিয়েছে দলটি।