বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইসলামী ব্যাংক বিএনপির হাতেই সবচেয়ে নিরাপদ: অর্থমন্ত্রী

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের  ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং বর্তমান সরকারের হাতেই সবচেয়ে নিরাপদ বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংকটির গোড়াপত্তন করেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তাই ব্যাংকটির মর্যাদা ও আর্থিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে বর্তমান সরকার সর্বোচ্চ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠী ব্যাংকটিকে ব্যর্থ করার যে অপচেষ্টা চালাচ্ছে, তা রুখে দেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

মঙ্গলবার (৯ জুন) জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের বিভিন্ন নোটিশের জবাব ও ব্যাংকিং খাতের সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।

সংসদে বিরোধী দলীয় সদস্যদের বক্তব্যের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ইসলামী ব্যাংক থেকে অর্থ আত্মসাতের যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তার কোনও ভিত্তি নেই। তিনি বলেন, কিছু বিরোধী দলীয় নেতা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে পুরস্কারের দাবি করছেন, কিন্তু বাস্তবতা হলো যাদের বিরুদ্ধে অর্থ নেওয়ার কথা বলা হচ্ছে, তারা কেউ নিজেদের নামে টাকা নেননি।

তিনি বলেন, পুরো বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে বিগত নির্বাচনের সময় থেকে। নির্বাচনে কিছু প্রার্থী অবিশ্বাস্যভাবে বিপুল অর্থ ব্যয় করেছেন, যাদের দৃশ্যমান কোনও ব্যবসা বা আয়ের উৎস নেই। এই অবৈধ ও অপ্রদর্শিত অর্থ রাজনৈতিক ব্যবস্থার জন্য ক্ষতিকর বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

চেয়ারম্যান পরিবর্তন নিয়ে ব্যাংক থেকে অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বিশ্বের কোনও ব্যাংকের গ্রাহকই চেয়ারম্যান দেখে টাকা রাখে না বা তুলে নেয় না। গ্রাহকের মূল স্বার্থ থাকে আমানতের নিরাপত্তা ও লভ্যাংশ। তাই এ ধরনের দাবি অবান্তর।

তিনি আরও বলেন, ব্যাংকের ভেতরে ও বাইরে একটি গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে মিছিল ও বিশৃঙ্খল কর্মসূচি পরিচালনা করছে, যা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ব্যাংককে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে।

ইসলামী ব্যাংকের আর্থিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যাংকের মুনাফা নিয়ে যেসব তথ্য উপস্থাপন করা হচ্ছে তা ‘উইন্ডো ড্রেসিং’ বা কৃত্রিমভাবে দেখানো হিসাব। প্রকৃত চিত্র হলো ব্যাংকের শ্রেণিকৃত ঋণ ও প্রভিশন ঘাটতির কারণে আর্থিক চাপ বেড়েছে।

তিনি জানান, ২০২৫ সালের শেষে ব্যাংকের শ্রেণিকৃত ঋণ ৯৪ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যা মোট ঋণের প্রায় ৫১ শতাংশ। একই সঙ্গে প্রভিশন ডেফারেলও বেড়েছে। ফলে ব্যাংকটি ২০২৬ সালের প্রথম দিকে প্রায় ২৬৮ কোটি টাকা নিট লোকসানে পড়ে।

বিগত সময়ে ইসলামী ব্যাংক জোরপূর্বক দখল করা হলেও সাধারণ গ্রাহকরা তখন আমানত তুলে নেননি-এমন যুক্তি তুলে ধরে তিনি বলেন, এখন চেয়ারম্যান পরিবর্তনের কারণে টাকা তুলে নেওয়ার দাবি গ্রহণযোগ্য নয়।

বাংলাদেশ ব্যাংক বর্তমানে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যাংকটিকে তার প্রকৃত ও বৈধ মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার কাজ করছে বলেও জানান তিনি। এ প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করে দেশে ‘মবোক্রেসি’ বা বিশৃঙ্খলা তৈরি করার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেন মন্ত্রী।

বর্তমান বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের প্রশংসা করে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন পর একজন যোগ্য গভর্নর দায়িত্ব পেয়েছেন, যিনি নিয়মনীতি মেনে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।

ঋণগ্রস্ত থাকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংসদে উপস্থিত প্রায় সবাই কোনও না কোনোভাবে ব্যাংক ঋণের সঙ্গে যুক্ত। তাই ঋণ থাকা কোনও অপরাধ নয়।

মন্ত্রী আরও বলেন, বিএনপি সবসময় আর্থিক শৃঙ্খলায় বিশ্বাসী এবং অতীতেও সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় ছিল। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, তাই এই ব্যাংকের ভবিষ্যৎ বিএনপির হাতেই নিরাপদ।

তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন ও আর্থিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে এবং তুচ্ছ ইস্যুতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি থেকে বিরত থাকতে হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

ইসলামী ব্যাংক বিএনপির হাতেই সবচেয়ে নিরাপদ: অর্থমন্ত্রী

প্রকাশিত সময় : ০৯:৪৯:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের  ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং বর্তমান সরকারের হাতেই সবচেয়ে নিরাপদ বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংকটির গোড়াপত্তন করেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তাই ব্যাংকটির মর্যাদা ও আর্থিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে বর্তমান সরকার সর্বোচ্চ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠী ব্যাংকটিকে ব্যর্থ করার যে অপচেষ্টা চালাচ্ছে, তা রুখে দেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

মঙ্গলবার (৯ জুন) জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের বিভিন্ন নোটিশের জবাব ও ব্যাংকিং খাতের সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।

সংসদে বিরোধী দলীয় সদস্যদের বক্তব্যের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ইসলামী ব্যাংক থেকে অর্থ আত্মসাতের যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তার কোনও ভিত্তি নেই। তিনি বলেন, কিছু বিরোধী দলীয় নেতা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে পুরস্কারের দাবি করছেন, কিন্তু বাস্তবতা হলো যাদের বিরুদ্ধে অর্থ নেওয়ার কথা বলা হচ্ছে, তারা কেউ নিজেদের নামে টাকা নেননি।

তিনি বলেন, পুরো বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে বিগত নির্বাচনের সময় থেকে। নির্বাচনে কিছু প্রার্থী অবিশ্বাস্যভাবে বিপুল অর্থ ব্যয় করেছেন, যাদের দৃশ্যমান কোনও ব্যবসা বা আয়ের উৎস নেই। এই অবৈধ ও অপ্রদর্শিত অর্থ রাজনৈতিক ব্যবস্থার জন্য ক্ষতিকর বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

চেয়ারম্যান পরিবর্তন নিয়ে ব্যাংক থেকে অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বিশ্বের কোনও ব্যাংকের গ্রাহকই চেয়ারম্যান দেখে টাকা রাখে না বা তুলে নেয় না। গ্রাহকের মূল স্বার্থ থাকে আমানতের নিরাপত্তা ও লভ্যাংশ। তাই এ ধরনের দাবি অবান্তর।

তিনি আরও বলেন, ব্যাংকের ভেতরে ও বাইরে একটি গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে মিছিল ও বিশৃঙ্খল কর্মসূচি পরিচালনা করছে, যা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ব্যাংককে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে।

ইসলামী ব্যাংকের আর্থিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যাংকের মুনাফা নিয়ে যেসব তথ্য উপস্থাপন করা হচ্ছে তা ‘উইন্ডো ড্রেসিং’ বা কৃত্রিমভাবে দেখানো হিসাব। প্রকৃত চিত্র হলো ব্যাংকের শ্রেণিকৃত ঋণ ও প্রভিশন ঘাটতির কারণে আর্থিক চাপ বেড়েছে।

তিনি জানান, ২০২৫ সালের শেষে ব্যাংকের শ্রেণিকৃত ঋণ ৯৪ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যা মোট ঋণের প্রায় ৫১ শতাংশ। একই সঙ্গে প্রভিশন ডেফারেলও বেড়েছে। ফলে ব্যাংকটি ২০২৬ সালের প্রথম দিকে প্রায় ২৬৮ কোটি টাকা নিট লোকসানে পড়ে।

বিগত সময়ে ইসলামী ব্যাংক জোরপূর্বক দখল করা হলেও সাধারণ গ্রাহকরা তখন আমানত তুলে নেননি-এমন যুক্তি তুলে ধরে তিনি বলেন, এখন চেয়ারম্যান পরিবর্তনের কারণে টাকা তুলে নেওয়ার দাবি গ্রহণযোগ্য নয়।

বাংলাদেশ ব্যাংক বর্তমানে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যাংকটিকে তার প্রকৃত ও বৈধ মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার কাজ করছে বলেও জানান তিনি। এ প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করে দেশে ‘মবোক্রেসি’ বা বিশৃঙ্খলা তৈরি করার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেন মন্ত্রী।

বর্তমান বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের প্রশংসা করে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন পর একজন যোগ্য গভর্নর দায়িত্ব পেয়েছেন, যিনি নিয়মনীতি মেনে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।

ঋণগ্রস্ত থাকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংসদে উপস্থিত প্রায় সবাই কোনও না কোনোভাবে ব্যাংক ঋণের সঙ্গে যুক্ত। তাই ঋণ থাকা কোনও অপরাধ নয়।

মন্ত্রী আরও বলেন, বিএনপি সবসময় আর্থিক শৃঙ্খলায় বিশ্বাসী এবং অতীতেও সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় ছিল। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, তাই এই ব্যাংকের ভবিষ্যৎ বিএনপির হাতেই নিরাপদ।

তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন ও আর্থিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে এবং তুচ্ছ ইস্যুতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি থেকে বিরত থাকতে হবে।