রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বেনজীরকে দ্রুত দে‌শে আনার উদ্যোগ নি‌চ্ছে দুদক

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই‌য়ে গ্রেপ্তার বহুল আলোচিত সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দ্রুত দে‌শে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নি‌চ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় দুর্নী‌তি মামলার এ আসা‌মি‌কে ফি‌রি‌য়ে আনতে শিগগির কাজ শুরু কর‌বে সংস্থা‌টি।

র‌বিবার (১৪ জুন) ‌রাজধনাীর সেগুনবা‌গিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে ব্রিফিংয়ে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা (উপ-পরিচালক) মো. আকতারুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন।

এর আগে র‌বিবার (১৪ জুন) বিকেলে সংসদ অধিবেশনের শুরুতে ৩০০ বিধিতে দেওয়া বক্তব্যে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি অবগত করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা (উপ-পরিচালক) মো. আকতারুল ইসলাম বলেছেন, “পাসপোর্ট জালিয়াতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকের দায়ের করা মামলায় তার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ ইস্যু করা হয়েছিল। এর মধ্যে পাসপোর্ট জালিয়াতির মামলায় তাকে দুবাই পুলিশ গ্রেপ্তার করে বলে জেনেছি। সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ইন্টারপোলের কাছে সহযোগিতা চেয়েছিলাম। সেই ধারাবাহিকতায় গ্রেপ্তার হয়েছে বলে জানতে পেরেছি।”

২০২৫ সালের ১০ এপ্রিল বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ‘রেড নোটিশ’ জারি করে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল পুলিশ অর্গানাইজেশন (ইন্টারপোল)।

দুদক জানায়, ২০২৪ সালের ১৪ অক্টোবর পরিচয় গোপন করে পাসপোর্ট নবায়ন ও জালিয়াতির অভিযোগে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। বাকি আসামিরা হলেন— পাসপোর্টের সাবেক পরিচালক ফজলুল হক, মুন্সী মুয়ীদ ইকরাম, টেকনিক্যাল ম্যানেজার সাহেনা হক ও বিভাগীয় পরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন।

ওই মামলার এজাহারে বলা হয়, বেনজীর আহমেদ ২০১০ সালের ১১ অক্টোবর ডিআইজি হিসেবে কর্মরত থাকা অবস্থায় হাতে লেখা পাসপোর্ট সমর্পণ করে বিভাগীয় অনাপত্তিপত্র ছাড়া অফিসিয়াল মেশিন রিডেবল পাসপোর্টের (এমআরপি) জন্য আবেদন করেন। আবেদন ফরমে ‘অফিসিয়াল’ হিসেবে মার্ক করা হয়। তার আবেদনপত্রের প্রফেশনের ক্রমিকে সরকারি চাকরিজীবী হওয়া সত্ত্বেও প্রাইভেট সার্ভিস উল্লেখ করা হয়। পরে র‌্যাবের মহাপরিচালক হিসেবে কর্মরত থাকা অবস্থাতেও পাসপোর্টের আবেদনপত্রে জালিয়াতি-প্রতারণা, অপরাধমূলক অসদাচরণ ও মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে ‘প্রাইভেট সার্ভিস’ উল্লেখ করেন। অন্য সময়েও বিভাগীয় অনাপত্তিপত্র ছাড়া মেশিন রিডেবল পাসপোর্টের (এমআরপি)/ই-পাসপোর্ট (ইলেক্ট্রনিক পাসপোর্ট) জন্য আবেদন করেছেন।

পাসপোর্ট অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বেনজীর আহমেদের দাপ্তরিক পরিচয় সম্পর্কে সম্পূর্ণভাবে জ্ঞাত থেকেও বিভাগীয় অনাপত্তি সনদ সংগ্রহ না করে কিংবা যাচাই না করে স্বেচ্ছায় স্বজ্ঞানে তার নামে সাধারণ পাসপোর্ট কিংবা ই-পাসপোর্ট ইস্যুর চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছেন। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/১০৯ ও ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা এবং দ্য বাংলাদেশ পাসপোর্ট অর্ডার ১৯৭৩ এর ১১ ধারায় অপরাধ করেছেন।

অন্যদিকে, ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ১২ কোটি বেশি টাকার অবৈধ সম্পদ ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছিল দুদক। ওই মামলায় আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়। এই মামলার বাদী দুদকের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ জয়নাল আবেদিনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালতের গ্রেপ্তার পরোয়ানা জারি করে। এরই ধারাবাহিকতায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ ইস্যু করা হয়।

দুদকের অনুসন্ধানকালে বেনজীরকে সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ দেওয়া হলে তিনি আইনজীবীর মাধ্যমে ২০২৪ সালের ২৭ আগস্ট দুদকে সম্পদ বিবরণী জমা দেন। সেখানে তিনি ৫ কোটি ৬৭ লাখ ৩৭ হাজার ৩৬৫ টাকার স্থাবর সম্পদ ও ৫ কোটি ৭৪ লাখ ৮৯ হাজার ৯৬৬ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য দেন।

তবে তদন্তে দেখা যায়, বেনজীর আহমেদ তার ঘোষণাকৃত সম্পদের মধ্যে ২ কোটি ৬২ লাখ ৮৯ হাজার ৬০ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন এবং ৯ কোটি ৪৪ লাখ ৬৪ হাজার ৭৫১ টাকার সম্পদের বৈধ উৎস দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন। তা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ বলে দুদকের কাছে প্রমাণিত হওয়ায় ২০০৪ সালের দুদক আইনের ২৬ (২) ও ২৭ (১) ধারায় অভিযোগ আনা হয়।

বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদের আরো চারটি মামলা চলছে। এর মধ্যে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দায়ের করা মামলার চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

বেনজীরকে দ্রুত দে‌শে আনার উদ্যোগ নি‌চ্ছে দুদক

প্রকাশিত সময় : ১১:০৯:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই‌য়ে গ্রেপ্তার বহুল আলোচিত সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দ্রুত দে‌শে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নি‌চ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় দুর্নী‌তি মামলার এ আসা‌মি‌কে ফি‌রি‌য়ে আনতে শিগগির কাজ শুরু কর‌বে সংস্থা‌টি।

র‌বিবার (১৪ জুন) ‌রাজধনাীর সেগুনবা‌গিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে ব্রিফিংয়ে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা (উপ-পরিচালক) মো. আকতারুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন।

এর আগে র‌বিবার (১৪ জুন) বিকেলে সংসদ অধিবেশনের শুরুতে ৩০০ বিধিতে দেওয়া বক্তব্যে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি অবগত করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা (উপ-পরিচালক) মো. আকতারুল ইসলাম বলেছেন, “পাসপোর্ট জালিয়াতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকের দায়ের করা মামলায় তার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ ইস্যু করা হয়েছিল। এর মধ্যে পাসপোর্ট জালিয়াতির মামলায় তাকে দুবাই পুলিশ গ্রেপ্তার করে বলে জেনেছি। সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ইন্টারপোলের কাছে সহযোগিতা চেয়েছিলাম। সেই ধারাবাহিকতায় গ্রেপ্তার হয়েছে বলে জানতে পেরেছি।”

২০২৫ সালের ১০ এপ্রিল বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ‘রেড নোটিশ’ জারি করে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল পুলিশ অর্গানাইজেশন (ইন্টারপোল)।

দুদক জানায়, ২০২৪ সালের ১৪ অক্টোবর পরিচয় গোপন করে পাসপোর্ট নবায়ন ও জালিয়াতির অভিযোগে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। বাকি আসামিরা হলেন— পাসপোর্টের সাবেক পরিচালক ফজলুল হক, মুন্সী মুয়ীদ ইকরাম, টেকনিক্যাল ম্যানেজার সাহেনা হক ও বিভাগীয় পরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন।

ওই মামলার এজাহারে বলা হয়, বেনজীর আহমেদ ২০১০ সালের ১১ অক্টোবর ডিআইজি হিসেবে কর্মরত থাকা অবস্থায় হাতে লেখা পাসপোর্ট সমর্পণ করে বিভাগীয় অনাপত্তিপত্র ছাড়া অফিসিয়াল মেশিন রিডেবল পাসপোর্টের (এমআরপি) জন্য আবেদন করেন। আবেদন ফরমে ‘অফিসিয়াল’ হিসেবে মার্ক করা হয়। তার আবেদনপত্রের প্রফেশনের ক্রমিকে সরকারি চাকরিজীবী হওয়া সত্ত্বেও প্রাইভেট সার্ভিস উল্লেখ করা হয়। পরে র‌্যাবের মহাপরিচালক হিসেবে কর্মরত থাকা অবস্থাতেও পাসপোর্টের আবেদনপত্রে জালিয়াতি-প্রতারণা, অপরাধমূলক অসদাচরণ ও মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে ‘প্রাইভেট সার্ভিস’ উল্লেখ করেন। অন্য সময়েও বিভাগীয় অনাপত্তিপত্র ছাড়া মেশিন রিডেবল পাসপোর্টের (এমআরপি)/ই-পাসপোর্ট (ইলেক্ট্রনিক পাসপোর্ট) জন্য আবেদন করেছেন।

পাসপোর্ট অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বেনজীর আহমেদের দাপ্তরিক পরিচয় সম্পর্কে সম্পূর্ণভাবে জ্ঞাত থেকেও বিভাগীয় অনাপত্তি সনদ সংগ্রহ না করে কিংবা যাচাই না করে স্বেচ্ছায় স্বজ্ঞানে তার নামে সাধারণ পাসপোর্ট কিংবা ই-পাসপোর্ট ইস্যুর চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছেন। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/১০৯ ও ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা এবং দ্য বাংলাদেশ পাসপোর্ট অর্ডার ১৯৭৩ এর ১১ ধারায় অপরাধ করেছেন।

অন্যদিকে, ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ১২ কোটি বেশি টাকার অবৈধ সম্পদ ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছিল দুদক। ওই মামলায় আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়। এই মামলার বাদী দুদকের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ জয়নাল আবেদিনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালতের গ্রেপ্তার পরোয়ানা জারি করে। এরই ধারাবাহিকতায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ ইস্যু করা হয়।

দুদকের অনুসন্ধানকালে বেনজীরকে সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ দেওয়া হলে তিনি আইনজীবীর মাধ্যমে ২০২৪ সালের ২৭ আগস্ট দুদকে সম্পদ বিবরণী জমা দেন। সেখানে তিনি ৫ কোটি ৬৭ লাখ ৩৭ হাজার ৩৬৫ টাকার স্থাবর সম্পদ ও ৫ কোটি ৭৪ লাখ ৮৯ হাজার ৯৬৬ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য দেন।

তবে তদন্তে দেখা যায়, বেনজীর আহমেদ তার ঘোষণাকৃত সম্পদের মধ্যে ২ কোটি ৬২ লাখ ৮৯ হাজার ৬০ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন এবং ৯ কোটি ৪৪ লাখ ৬৪ হাজার ৭৫১ টাকার সম্পদের বৈধ উৎস দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন। তা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ বলে দুদকের কাছে প্রমাণিত হওয়ায় ২০০৪ সালের দুদক আইনের ২৬ (২) ও ২৭ (১) ধারায় অভিযোগ আনা হয়।

বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদের আরো চারটি মামলা চলছে। এর মধ্যে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দায়ের করা মামলার চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।