মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দেশে ফিরেছেন ৫৭ হাজারের বেশি হাজি, ফিরতি ফ্লাইট চলবে ১ জুলাই পর্যন্ত

পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে সৌদি আরব থেকে এখন পর্যন্ত ৫৭ হাজার ৪২২ জন হাজি নিরাপদে দেশে ফিরেছেন। গতকাল সোমবার (১৫ জুন) পর্যন্ত আসা ফিরতি ফ্লাইটের পরিসংখ্যান থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

আজ মঙ্গলবার (১৬ জুন) ঢাকা হজ অফিসের পরিচালক গণমাধ্যমকে জানান, নির্দিষ্ট তিনটি বিমান সংস্থার মোট ১৩৮টি ফিরতি ফ্লাইটের মাধ্যমে হাজিরা দেশে প্রত্যাবর্তন করেছেন। এর মধ্যে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ৬৭টি, সৌদিয়া এয়ারলাইন্স ৫০টি এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স ২১টি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে।

হজ অফিসের হিসাব অনুযায়ী, দেশে ফেরা হাজিদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় এসেছেন ৪ হাজার ৩১৩ জন এবং বেসরকারি এজেন্সির মাধ্যমে এসেছেন ৫৩,১০৯ জন। বিমান সংস্থা ভিত্তিক যাত্রী পরিবহনের ক্ষেত্রে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সর্বোচ্চ ২৪ হাজার ৪৯৯ জন হাজি দেশে ফিরিয়ে এনেছে। এ ছাড়া সৌদিয়া ১৯ হাজার ৮২৭ জন এবং ফ্লাইনাস ৮ হাজার ৩৮০ জন হাজি পরিবহন করেছে। বাকি হাজিরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পর্যায়ক্রমে দেশে ফিরবেন বলে আশা করছে হজ প্রশাসন।

এদিকে, চলতি বছর হজের মৌসুম চলাকালে সৌদি আরবে মোট ৫২ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃতদের মধ্যে ৩৫ জন পুরুষ ও ১৭ জন নারী রয়েছেন। স্থানভিত্তিক তথ্যে জানা গেছে, মক্কায় ৩৭ জন, মদিনায় ১৪ জন এবং জেদ্দায় একজন মারা গেছেন। তবে মিনা বা মুজদালিফায় কোনো বাংলাদেশির মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

হজ বুলেটিনের তথ্যমতে, হজের সময় বিভিন্ন শারীরিক অসুস্থতার কারণে ৪১৫ জন বাংলাদেশি হাজি সৌদি আরবের স্থানীয় হাসপাতালগুলো থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন এবং ১৫ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এ ছাড়া সৌদি আরবের বাংলাদেশ মেডিকেল সেন্টারগুলো থেকে প্রায় ৬৪ হাজার ৭৫১ জন হাজিকে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মক্কা ও মদিনার আইটি হেল্প ডেস্ক থেকে বিভিন্ন বিষয়ে সেবা নিয়েছেন ২৭ হাজার ৯২০ জন হাজি।

উল্লেখ্য, গত ১৮ এপ্রিল প্রথম হজ ফ্লাইটের মাধ্যমে সৌদির উদ্দেশ্যে বাংলাদেশি যাত্রীদের পরিবহন শুরু হয়েছিল এবং ২১ মে প্রাক-হজ ফ্লাইট শেষ হয়। এরপর ২৬ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হয়। হজের যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে গত ৩০ মে থেকে ফিরতি হজ ফ্লাইট শুরু হয়েছে, যা আগামী ১ জুলাই পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। এবার সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে বাংলাদেশ থেকে মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জনের কোটা নির্ধারিত ছিল।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

অভিনেত্রীর আত্মহত্যা, মৃত্যুর আগে প্রেমিকের সঙ্গে স্ক্রীনশট ফাঁস

দেশে ফিরেছেন ৫৭ হাজারের বেশি হাজি, ফিরতি ফ্লাইট চলবে ১ জুলাই পর্যন্ত

প্রকাশিত সময় : ১১:০৭:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে সৌদি আরব থেকে এখন পর্যন্ত ৫৭ হাজার ৪২২ জন হাজি নিরাপদে দেশে ফিরেছেন। গতকাল সোমবার (১৫ জুন) পর্যন্ত আসা ফিরতি ফ্লাইটের পরিসংখ্যান থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

আজ মঙ্গলবার (১৬ জুন) ঢাকা হজ অফিসের পরিচালক গণমাধ্যমকে জানান, নির্দিষ্ট তিনটি বিমান সংস্থার মোট ১৩৮টি ফিরতি ফ্লাইটের মাধ্যমে হাজিরা দেশে প্রত্যাবর্তন করেছেন। এর মধ্যে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ৬৭টি, সৌদিয়া এয়ারলাইন্স ৫০টি এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স ২১টি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে।

হজ অফিসের হিসাব অনুযায়ী, দেশে ফেরা হাজিদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় এসেছেন ৪ হাজার ৩১৩ জন এবং বেসরকারি এজেন্সির মাধ্যমে এসেছেন ৫৩,১০৯ জন। বিমান সংস্থা ভিত্তিক যাত্রী পরিবহনের ক্ষেত্রে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সর্বোচ্চ ২৪ হাজার ৪৯৯ জন হাজি দেশে ফিরিয়ে এনেছে। এ ছাড়া সৌদিয়া ১৯ হাজার ৮২৭ জন এবং ফ্লাইনাস ৮ হাজার ৩৮০ জন হাজি পরিবহন করেছে। বাকি হাজিরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পর্যায়ক্রমে দেশে ফিরবেন বলে আশা করছে হজ প্রশাসন।

এদিকে, চলতি বছর হজের মৌসুম চলাকালে সৌদি আরবে মোট ৫২ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃতদের মধ্যে ৩৫ জন পুরুষ ও ১৭ জন নারী রয়েছেন। স্থানভিত্তিক তথ্যে জানা গেছে, মক্কায় ৩৭ জন, মদিনায় ১৪ জন এবং জেদ্দায় একজন মারা গেছেন। তবে মিনা বা মুজদালিফায় কোনো বাংলাদেশির মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

হজ বুলেটিনের তথ্যমতে, হজের সময় বিভিন্ন শারীরিক অসুস্থতার কারণে ৪১৫ জন বাংলাদেশি হাজি সৌদি আরবের স্থানীয় হাসপাতালগুলো থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন এবং ১৫ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এ ছাড়া সৌদি আরবের বাংলাদেশ মেডিকেল সেন্টারগুলো থেকে প্রায় ৬৪ হাজার ৭৫১ জন হাজিকে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মক্কা ও মদিনার আইটি হেল্প ডেস্ক থেকে বিভিন্ন বিষয়ে সেবা নিয়েছেন ২৭ হাজার ৯২০ জন হাজি।

উল্লেখ্য, গত ১৮ এপ্রিল প্রথম হজ ফ্লাইটের মাধ্যমে সৌদির উদ্দেশ্যে বাংলাদেশি যাত্রীদের পরিবহন শুরু হয়েছিল এবং ২১ মে প্রাক-হজ ফ্লাইট শেষ হয়। এরপর ২৬ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হয়। হজের যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে গত ৩০ মে থেকে ফিরতি হজ ফ্লাইট শুরু হয়েছে, যা আগামী ১ জুলাই পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। এবার সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে বাংলাদেশ থেকে মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জনের কোটা নির্ধারিত ছিল।