বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লুটপাটের বাজেট, অনেকে চানাচুর মার্কা বাজেট বলছে: আমির হামজা

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘লুটপাটের বাজেট’ আখ্যা দিয়ে জাতীয় সংসদে তীব্র সমালোচনা করেছেন কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. আমির হামজা। তিনি বলেন, “বাইরে অনেকে এই বাজেটকে চানাচুর মার্কা বাজেট বলছে। শুনতে ভালো লাগলেও খেলে পেট খারাপ হয়।”

বুধবার (১৭ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

আমির হামজা বলেন, জাতীয় বাজেট একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা ও জনকল্যাণ নিশ্চিত করার অন্যতম প্রধান মাধ্যম। তাই রাষ্ট্রের আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি ব্যয়ের ক্ষেত্রেও আরও সতর্কতা ও দক্ষতা প্রয়োজন। কর প্রশাসনের আধুনিকায়ন, কর ফাঁকি ও অর্থপাচার রোধ, রপ্তানি বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে রাজস্ব আয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

তিনি বলেন, দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা বেকারত্ব। এ সমস্যা সমাধানে শিল্পায়নের প্রতি অধিক গুরুত্ব এবং বৈদেশিক রেমিট্যান্স বৃদ্ধিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, যোগাযোগ, সামাজিক নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থান খাতকে বাজেটে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। কৃষকদের স্বল্পমূল্যে সার-বীজ সরবরাহ এবং কৃষি যন্ত্রপাতি শুল্কমুক্ত করার দাবি জানান তিনি।

শিক্ষা খাত প্রসঙ্গে আমির হামজা বলেন, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণার জন্য বরাদ্দ বাড়ানো প্রয়োজন। বর্তমান বাজেটে গবেষণার জন্য বরাদ্দ যথেষ্ট নয় বলে গবেষকদের অভিমত তুলে ধরেন তিনি।

মাদ্রাসা শিক্ষার উন্নয়নের দাবিতে তিনি বলেন, ইবতেদায়ি মাদ্রাসা এবং প্রতিটি জেলা শহরে অন্তত একটি ফাজিল ও কামিল মাদ্রাসা জাতীয়করণ করা উচিত।

যোগাযোগ খাতের উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, রেল যোগাযোগ সম্প্রসারণ দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ অঞ্চলের মধ্যে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণ এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ট্রেন চলাচলের উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানান তিনি।

সরকারের অর্থপাচার রোধে সুনির্দিষ্ট নীতির অভাব রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন এই সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, এত বড় বাজেট বাস্তবায়নের সময় অতীতের মতো অর্থপাচার হবে না, সেই নিশ্চয়তা কে দেবে? বাজেট উপস্থাপনের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি হয়েছে। এসব প্রতিক্রিয়া উপেক্ষা না করে জনগণের উদ্বেগকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

লুটপাটের বাজেট, অনেকে চানাচুর মার্কা বাজেট বলছে: আমির হামজা

প্রকাশিত সময় : ১০:৩৭:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘লুটপাটের বাজেট’ আখ্যা দিয়ে জাতীয় সংসদে তীব্র সমালোচনা করেছেন কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. আমির হামজা। তিনি বলেন, “বাইরে অনেকে এই বাজেটকে চানাচুর মার্কা বাজেট বলছে। শুনতে ভালো লাগলেও খেলে পেট খারাপ হয়।”

বুধবার (১৭ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

আমির হামজা বলেন, জাতীয় বাজেট একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা ও জনকল্যাণ নিশ্চিত করার অন্যতম প্রধান মাধ্যম। তাই রাষ্ট্রের আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি ব্যয়ের ক্ষেত্রেও আরও সতর্কতা ও দক্ষতা প্রয়োজন। কর প্রশাসনের আধুনিকায়ন, কর ফাঁকি ও অর্থপাচার রোধ, রপ্তানি বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে রাজস্ব আয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

তিনি বলেন, দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা বেকারত্ব। এ সমস্যা সমাধানে শিল্পায়নের প্রতি অধিক গুরুত্ব এবং বৈদেশিক রেমিট্যান্স বৃদ্ধিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, যোগাযোগ, সামাজিক নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থান খাতকে বাজেটে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। কৃষকদের স্বল্পমূল্যে সার-বীজ সরবরাহ এবং কৃষি যন্ত্রপাতি শুল্কমুক্ত করার দাবি জানান তিনি।

শিক্ষা খাত প্রসঙ্গে আমির হামজা বলেন, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণার জন্য বরাদ্দ বাড়ানো প্রয়োজন। বর্তমান বাজেটে গবেষণার জন্য বরাদ্দ যথেষ্ট নয় বলে গবেষকদের অভিমত তুলে ধরেন তিনি।

মাদ্রাসা শিক্ষার উন্নয়নের দাবিতে তিনি বলেন, ইবতেদায়ি মাদ্রাসা এবং প্রতিটি জেলা শহরে অন্তত একটি ফাজিল ও কামিল মাদ্রাসা জাতীয়করণ করা উচিত।

যোগাযোগ খাতের উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, রেল যোগাযোগ সম্প্রসারণ দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ অঞ্চলের মধ্যে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণ এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ট্রেন চলাচলের উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানান তিনি।

সরকারের অর্থপাচার রোধে সুনির্দিষ্ট নীতির অভাব রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন এই সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, এত বড় বাজেট বাস্তবায়নের সময় অতীতের মতো অর্থপাচার হবে না, সেই নিশ্চয়তা কে দেবে? বাজেট উপস্থাপনের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি হয়েছে। এসব প্রতিক্রিয়া উপেক্ষা না করে জনগণের উদ্বেগকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।