বিশ্ব বাবা দিবস উপলক্ষে ডেইলি দেশ নিউজ ডটকম-এর প্রকাশক রায়হান রোহান পৃথিবীর সকল বাবার প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা, গভীর শ্রদ্ধা ও অফুরন্ত ভালোবাসা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, একজন বাবা শুধু পরিবারের কর্তা নন; তিনি একজন সন্তানের জীবনে সাহস, সততা, দায়িত্ববোধ, আত্মবিশ্বাস ও মানবিকতার প্রথম শিক্ষক।
একজন বাবা নীরবে, নিরলস পরিশ্রম আর আত্মত্যাগের মাধ্যমে পরিবারকে আগলে রাখেন, সন্তানের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে নিজের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বিসর্জন দেন।
বিশ্ব বাবা দিবসের এই বিশেষ দিনে দেওয়া এক বার্তায় রায়হান রোহান বলেন, “বাবা এমন এক মহৎ নাম, যার ভেতরে লুকিয়ে থাকে ভালোবাসা, ত্যাগ, শাসন, দায়িত্ব, নিরাপত্তা ও নির্ভরতার এক বিশাল জগৎ।
জীবনের প্রতিটি কঠিন সময়ে বাবা সন্তানের পাশে থাকেন ছায়ার মতো।
তাঁর হাত ধরেই সন্তান প্রথম জীবনকে চিনতে শেখে, সংগ্রামকে মোকাবিলা করতে শেখে, স্বপ্ন দেখতে শেখে এবং সেই স্বপ্ন পূরণের সাহস পায়।”
তিনি আরও বলেন, “একজন বাবার অবদান শুধু একটি পরিবারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; একজন দায়িত্বশীল, সৎ ও আদর্শ বাবা একটি সুন্দর সমাজ ও সমৃদ্ধ জাতি গঠনের পেছনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
কারণ একটি শিশুর চরিত্র, মূল্যবোধ, শৃঙ্খলা, দেশপ্রেম ও নৈতিক শিক্ষার ভিত অনেকাংশেই পরিবার থেকে তৈরি হয়, আর সেই ভিত্তি নির্মাণে বাবার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
” বার্তায় রায়হান রোহান উল্লেখ করেন, আজকের দ্রুত পরিবর্তনশীল সময়ে পরিবারের প্রতি বাবাদের দায়িত্ব ও অবদান আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। জীবিকার তাগিদে, কর্মব্যস্ততা আর নানামুখী চাপের মধ্যেও একজন বাবা পরিবারের সুখ, সন্তানের শিক্ষা, ভবিষ্যৎ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবিরাম সংগ্রাম চালিয়ে যান।
নিজের কষ্টকে আড়াল করে সন্তান ও পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোই যেন একজন বাবার জীবনের সবচেয়ে বড় সার্থকতা।
তিনি বলেন, “আমরা অনেক সময় মায়ের ভালোবাসা প্রকাশ্যে যতটা অনুভব করি, বাবার ভালোবাসা ততটা উচ্চারণ করি না।
কিন্তু একজন বাবা নীরবে যে ত্যাগ, পরিশ্রম ও দায়িত্ব পালন করেন, তা পরিবারের ভিত্তিকে শক্তিশালী করে। বাবার কঠোরতা আসলে সন্তানের ভবিষ্যৎকে সুন্দর ও সুশৃঙ্খল করার এক আন্তরিক প্রয়াস। তাঁর প্রতিটি উপদেশ, প্রতিটি শাসন, প্রতিটি দুশ্চিন্তার ভেতরেই লুকিয়ে থাকে সন্তানের কল্যাণের গভীর আকাঙ্ক্ষা।”
বিশ্ব বাবা দিবসে তিনি বিশেষভাবে স্মরণ করেন সেইসব বাবাদের, যারা সীমিত সামর্থ্য, অর্থনৈতিক কষ্ট, সামাজিক প্রতিবন্ধকতা কিংবা ব্যক্তিগত সংগ্রামের মধ্যেও সন্তানদের মানুষ করতে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।
তিনি বলেন, সমাজে এমন অসংখ্য বাবা আছেন, যারা নিজের ইচ্ছা-আকাঙ্ক্ষা বিসর্জন দিয়ে সন্তানের শিক্ষা, চিকিৎসা, ভবিষ্যৎ ও স্বপ্ন পূরণে জীবনভর লড়াই করে যান। তাদের এই নীরব ত্যাগ ও ভালোবাসাই পরিবারকে এগিয়ে নেয়, সমাজকে শক্তিশালী করে এবং দেশকে সমৃদ্ধির পথে নিয়ে যায়।
রায়হান রোহান আরও বলেন, “বিশ্ব বাবা দিবস শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি বাবাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা, সম্মান ও ভালোবাসা প্রকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। এই দিনটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়— পরিবারের পেছনে একজন বাবার কত অসীম শ্রম, চিন্তা, ত্যাগ ও দায়িত্ববোধ কাজ করে।
তাই শুধু একটি দিন নয়, প্রতিদিনই বাবার প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও যত্ন প্রকাশ করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।” তিনি সন্তানের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বাবার প্রতি সম্মান, ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ শুধু কথায় নয়, আচরণেও প্রকাশ করতে হবে।
বাবার কষ্টকে বোঝা, তাঁর প্রতি যত্নশীল হওয়া, তাঁর স্বপ্ন ও পরিশ্রমের মর্যাদা দেওয়া এবং পরিবারের বন্ধনকে আরও দৃঢ় করা— এটাই হোক বিশ্ব বাবা দিবসের প্রকৃত শিক্ষা। বিশ্ব বাবা দিবস উপলক্ষে রায়হান রোহান দেশের সব বাবার সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু, সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।
একই সঙ্গে তিনি প্রয়াত বাবাদের আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করেন এবং যেসব সন্তান আজ বাবাকে হারিয়ে স্মৃতির ভেতর তাঁকে বাঁচিয়ে রেখেছেন, তাদের প্রতিও গভীর সহমর্মিতা প্রকাশ করেন।
শেষে তিনি বলেন— “পৃথিবীর সব বাবার প্রতি রইল বিনম্র শ্রদ্ধা, অফুরন্ত ভালোবাসা ও আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। প্রতিটি বাবা ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন, সম্মানিত থাকুন।
পরিবারে, সমাজে এবং আগামী প্রজন্মের হৃদয়ে বাবার মর্যাদা আরও উজ্জ্বল হোক— এই কামনাই করি।”

নিজস্ব প্রতিবেদক : 




















