মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গবেষণার জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে বিবিএসের ডাটাভান্ডার: প্রতিমন্ত্রী

দেশে সরকারি তথ্য-উপাত্তের নির্ভরযোগ্যতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্কের মধ্যে গবেষক, নীতিনির্ধারক ও শিক্ষার্থীদের জন্য তথ্যভান্ডার আরো উন্মুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও প্রকাশ প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য করতে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি।

সোমবার (২২ জুন) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ‘স্টেকহোল্ডার সেনসিটাইজেশন ওয়ার্কশপ অন মাইক্রোডাটা অ্যানালাইসিস ল্যাব অব বিবিএস’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, “উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন, বাস্তবায়ন এবং ফলাফল মূল্যায়নের জন্য নির্ভরযোগ্য তথ্যের কোনো বিকল্প নেই। জিডিপি, দারিদ্র্যের হার, জনসংখ্যা, অর্থনৈতিক শুমারি কিংবা সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির প্রভাব মূল্যায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সঠিক তথ্যের ওপর নির্ভর করে।”

তিনি বলেন, “অতীতে সরকারি তথ্যের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসে এমন একটি তথ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায় সরকার, যেখানে তথ্যের সত্যতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে কোনো ধরনের সন্দেহের সুযোগ থাকবে না।”

জোনায়েদ সাকি জানান, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) নতুন ‘মাইক্রোডাটা অ্যানালাইসিস ল্যাব’ গবেষণা ও প্রমাণভিত্তিক নীতি প্রণয়নে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে। এর মাধ্যমে বিবিএস শুধু তথ্য সংগ্রহ ও প্রকাশকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবেই নয়, বরং আধুনিক ডাটা সেবা প্রদানকারী একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত হবে।

তিনি বলেন, “দেশের উন্নয়ন কার্যক্রম কতটা এগোচ্ছে এবং কোথায় নীতিগত পরিবর্তন প্রয়োজন, এসব নির্ধারণে মানসম্মত তথ্য অপরিহার্য। তথ্যের ভিত্তি দুর্বল হলে উন্নয়নের প্রকৃত চিত্রও অস্পষ্ট থেকে যায়।”

গবেষণা ও তথ্য ব্যবহারের সুযোগ বাড়াতে সরকার একটি নীতিমালা প্রণয়নের কাজ করছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, “প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে তথ্য ব্যবহারের জন্য নির্দিষ্ট ফি থাকতে পারে। তবে, শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য বিশেষ সুবিধা কিংবা বিনামূল্যে তথ্য ব্যবহারের সুযোগ রাখার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।”

তথ্য উন্মুক্ত করার ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে আশ্বস্ত করেন তিনি। গবেষণার প্রয়োজনে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করা হলেও ব্যক্তিগত পরিচয় ও সংবেদনশীল তথ্য সুরক্ষিত রাখা হবে।

জোনায়েদ সাকি বলেন, “যত বেশি গবেষণা হবে এবং তথ্যের ব্যবহার বাড়বে, ততই দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবসম্মত ও কার্যকর হবে।”

কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (কোইকা) সমর্থিত ‘ক্যাপাসিটি বিল্ডিং অব স্ট্যাটিস্টিকস সার্ভিস বেইজড অন প্ল্যাটফর্ম (সিবিএসএসপি)’ প্রকল্পের আওতায় কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব মো. ফিরোজ সরকার। তিনি বলেন, “বিবিএসের তথ্যসেবাকে আধুনিক, নিরাপদ এবং ব্যবহারকারী-কেন্দ্রিক করতে মাইক্রোডাটা অ্যানালাইসিস ল্যাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

বিবিএসের মহাপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) মোহাম্মদ ওবায়দুল ইসলাম বলেন, “নতুন এই ল্যাবের মাধ্যমে শিক্ষার্থী, গবেষক, অর্থনীতিবিদ এবং নীতিনির্ধারকদের জন্য সরকারি মাইক্রোডাটা ব্যবহারের একটি সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ ব্যবস্থা তৈরি হয়েছে।”

বিশেষ অতিথি কোইকা বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর জিহুন কিম বলেন, “বিবিএসের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং তথ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকীকরণে চলমান সহযোগিতা বাংলাদেশের পরিসংখ্যান ব্যবস্থাকে আরো কার্যকর ও ব্যবহারবান্ধব করে তুলবে।”

কর্মশালায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতিনিধি, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, বিবিএস এবং পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্মকর্তারা অংশ নেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

হাসিনাসহ ১০ জনের নামে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারি করতে পুলিশে দুদকের আবেদন

গবেষণার জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে বিবিএসের ডাটাভান্ডার: প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশিত সময় : ১১:০১:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

দেশে সরকারি তথ্য-উপাত্তের নির্ভরযোগ্যতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্কের মধ্যে গবেষক, নীতিনির্ধারক ও শিক্ষার্থীদের জন্য তথ্যভান্ডার আরো উন্মুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও প্রকাশ প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য করতে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি।

সোমবার (২২ জুন) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ‘স্টেকহোল্ডার সেনসিটাইজেশন ওয়ার্কশপ অন মাইক্রোডাটা অ্যানালাইসিস ল্যাব অব বিবিএস’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, “উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন, বাস্তবায়ন এবং ফলাফল মূল্যায়নের জন্য নির্ভরযোগ্য তথ্যের কোনো বিকল্প নেই। জিডিপি, দারিদ্র্যের হার, জনসংখ্যা, অর্থনৈতিক শুমারি কিংবা সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির প্রভাব মূল্যায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সঠিক তথ্যের ওপর নির্ভর করে।”

তিনি বলেন, “অতীতে সরকারি তথ্যের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসে এমন একটি তথ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায় সরকার, যেখানে তথ্যের সত্যতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে কোনো ধরনের সন্দেহের সুযোগ থাকবে না।”

জোনায়েদ সাকি জানান, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) নতুন ‘মাইক্রোডাটা অ্যানালাইসিস ল্যাব’ গবেষণা ও প্রমাণভিত্তিক নীতি প্রণয়নে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে। এর মাধ্যমে বিবিএস শুধু তথ্য সংগ্রহ ও প্রকাশকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবেই নয়, বরং আধুনিক ডাটা সেবা প্রদানকারী একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত হবে।

তিনি বলেন, “দেশের উন্নয়ন কার্যক্রম কতটা এগোচ্ছে এবং কোথায় নীতিগত পরিবর্তন প্রয়োজন, এসব নির্ধারণে মানসম্মত তথ্য অপরিহার্য। তথ্যের ভিত্তি দুর্বল হলে উন্নয়নের প্রকৃত চিত্রও অস্পষ্ট থেকে যায়।”

গবেষণা ও তথ্য ব্যবহারের সুযোগ বাড়াতে সরকার একটি নীতিমালা প্রণয়নের কাজ করছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, “প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে তথ্য ব্যবহারের জন্য নির্দিষ্ট ফি থাকতে পারে। তবে, শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য বিশেষ সুবিধা কিংবা বিনামূল্যে তথ্য ব্যবহারের সুযোগ রাখার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।”

তথ্য উন্মুক্ত করার ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে আশ্বস্ত করেন তিনি। গবেষণার প্রয়োজনে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করা হলেও ব্যক্তিগত পরিচয় ও সংবেদনশীল তথ্য সুরক্ষিত রাখা হবে।

জোনায়েদ সাকি বলেন, “যত বেশি গবেষণা হবে এবং তথ্যের ব্যবহার বাড়বে, ততই দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবসম্মত ও কার্যকর হবে।”

কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (কোইকা) সমর্থিত ‘ক্যাপাসিটি বিল্ডিং অব স্ট্যাটিস্টিকস সার্ভিস বেইজড অন প্ল্যাটফর্ম (সিবিএসএসপি)’ প্রকল্পের আওতায় কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব মো. ফিরোজ সরকার। তিনি বলেন, “বিবিএসের তথ্যসেবাকে আধুনিক, নিরাপদ এবং ব্যবহারকারী-কেন্দ্রিক করতে মাইক্রোডাটা অ্যানালাইসিস ল্যাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

বিবিএসের মহাপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) মোহাম্মদ ওবায়দুল ইসলাম বলেন, “নতুন এই ল্যাবের মাধ্যমে শিক্ষার্থী, গবেষক, অর্থনীতিবিদ এবং নীতিনির্ধারকদের জন্য সরকারি মাইক্রোডাটা ব্যবহারের একটি সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ ব্যবস্থা তৈরি হয়েছে।”

বিশেষ অতিথি কোইকা বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর জিহুন কিম বলেন, “বিবিএসের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং তথ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকীকরণে চলমান সহযোগিতা বাংলাদেশের পরিসংখ্যান ব্যবস্থাকে আরো কার্যকর ও ব্যবহারবান্ধব করে তুলবে।”

কর্মশালায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতিনিধি, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, বিবিএস এবং পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্মকর্তারা অংশ নেন।