বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মিমির বিরুদ্ধে এফআইআরে স্থগিতাদেশ

আইনি লড়াইয়ে আপাতত স্বস্তি পেলেন অভিনেত্রী ও সাবেক সাংসদ মিমি চক্রবর্তী। তার বিরুদ্ধে হওয়া এফআইআরের কার্যকারিতায় স্থগিতাদেশ দিয়েছেন কলকাতা হাইকোর্ট।

আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আপাতত মিমির বিরুদ্ধে কোনো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না।

বিচারপতি কৌশিক চন্দের একক বেঞ্চ এই অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিয়েছেন। বনগাঁর এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে আয়োজক তনয় শাস্ত্রীর সঙ্গে মিমির বিরোধের জেরেই আইনি জটিলতার সূত্রপাত।

ঘটনাটি চলতি বছরের জানুয়ারির।

তনয় শাস্ত্রীর অভিযোগ, অনুষ্ঠানে মিমির উপস্থিত হওয়ার কথা ছিল রাত সাড়ে ১০টায়। তবে তিনি পৌঁছান প্রায় রাত পৌনে ১২টায়। ফলে প্রশাসনের নির্ধারিত সময়সীমার কারণে মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই অনুষ্ঠান শেষ করতে হয়।
তনয়ের দাবি, বিষয়টি মঞ্চে জানানো হলে অভিনেত্রী অপমানিত বোধ করেন এবং পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ তোলেন।

পরিস্থিতি ক্রমেই আইনি রূপ নেয়। দোল উৎসবের আগে, গত ২ মার্চ বনগাঁ আদালতে মিমি চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে দুটি মামলা করেন তনয় শাস্ত্রী

সে সময় অভিযোগকারীর আইনজীবী তরুণজ্যোতি তিওয়ারি জানিয়েছিলেন, ‘মানহানি মামলায় ২০ লক্ষ টাকা দাবির পাশাপাশি অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা হয়েছে। মিমি নির্দিষ্ট সময়ে অনুষ্ঠানে না এসেও ২ লাখ ৬৫ হাজার রুপি পারিশ্রমিক নিয়েছেন। দ্বিতীয় মামলা তারই ভিত্তিতে।


তরুণজ্যোতি আরো অভিযোগ করেছিলেন, ‘মিমির আচরণ যথার্থ ছিল না। প্রথমত, তিনি অনেক দেরিতে অনুষ্ঠানে আসেন। মাত্র ১৫ মিনিট অনুষ্ঠান করেন। রাত ১২টার পরে অনুষ্ঠানের অনুমতি ছিল না। ফলে, অনুষ্ঠান ওই সময়ের মধ্যেই শেষ করতে হয়। মিমি সমস্ত দোষ অকারণে তনয়ের উপরে চাপিয়েছেন। মিথ্যা অভিযোগে তরুণজ্যোতির মক্কেলকে সংশোধনাগারে পাঠিয়েছেন। তনয় তাই তাঁর সঙ্গে ঘটা অন্যায়ের বিধান চান।’

তবে হাইকোর্টের সাম্প্রতিক নির্দেশে আপাতত স্বস্তি পেয়েছেন মিমি। আদালতের এই রায়ের পর তনয় শাস্ত্রীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

মিমির বিরুদ্ধে এফআইআরে স্থগিতাদেশ

প্রকাশিত সময় : ০৬:২৩:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

আইনি লড়াইয়ে আপাতত স্বস্তি পেলেন অভিনেত্রী ও সাবেক সাংসদ মিমি চক্রবর্তী। তার বিরুদ্ধে হওয়া এফআইআরের কার্যকারিতায় স্থগিতাদেশ দিয়েছেন কলকাতা হাইকোর্ট।

আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আপাতত মিমির বিরুদ্ধে কোনো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না।

বিচারপতি কৌশিক চন্দের একক বেঞ্চ এই অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিয়েছেন। বনগাঁর এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে আয়োজক তনয় শাস্ত্রীর সঙ্গে মিমির বিরোধের জেরেই আইনি জটিলতার সূত্রপাত।

ঘটনাটি চলতি বছরের জানুয়ারির।

তনয় শাস্ত্রীর অভিযোগ, অনুষ্ঠানে মিমির উপস্থিত হওয়ার কথা ছিল রাত সাড়ে ১০টায়। তবে তিনি পৌঁছান প্রায় রাত পৌনে ১২টায়। ফলে প্রশাসনের নির্ধারিত সময়সীমার কারণে মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই অনুষ্ঠান শেষ করতে হয়।
তনয়ের দাবি, বিষয়টি মঞ্চে জানানো হলে অভিনেত্রী অপমানিত বোধ করেন এবং পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ তোলেন।

পরিস্থিতি ক্রমেই আইনি রূপ নেয়। দোল উৎসবের আগে, গত ২ মার্চ বনগাঁ আদালতে মিমি চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে দুটি মামলা করেন তনয় শাস্ত্রী

সে সময় অভিযোগকারীর আইনজীবী তরুণজ্যোতি তিওয়ারি জানিয়েছিলেন, ‘মানহানি মামলায় ২০ লক্ষ টাকা দাবির পাশাপাশি অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা হয়েছে। মিমি নির্দিষ্ট সময়ে অনুষ্ঠানে না এসেও ২ লাখ ৬৫ হাজার রুপি পারিশ্রমিক নিয়েছেন। দ্বিতীয় মামলা তারই ভিত্তিতে।


তরুণজ্যোতি আরো অভিযোগ করেছিলেন, ‘মিমির আচরণ যথার্থ ছিল না। প্রথমত, তিনি অনেক দেরিতে অনুষ্ঠানে আসেন। মাত্র ১৫ মিনিট অনুষ্ঠান করেন। রাত ১২টার পরে অনুষ্ঠানের অনুমতি ছিল না। ফলে, অনুষ্ঠান ওই সময়ের মধ্যেই শেষ করতে হয়। মিমি সমস্ত দোষ অকারণে তনয়ের উপরে চাপিয়েছেন। মিথ্যা অভিযোগে তরুণজ্যোতির মক্কেলকে সংশোধনাগারে পাঠিয়েছেন। তনয় তাই তাঁর সঙ্গে ঘটা অন্যায়ের বিধান চান।’

তবে হাইকোর্টের সাম্প্রতিক নির্দেশে আপাতত স্বস্তি পেয়েছেন মিমি। আদালতের এই রায়ের পর তনয় শাস্ত্রীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।