সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত: তেলের বাজারে ঊর্ধ্বগতি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া সামরিক সংঘাতের জেরে ওলটপালট হয়ে গেছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডোর হরমুজ প্রণালী। এই জলপথে নিরাপত্তা ঝুঁকি চরম মাত্রায় বৃদ্ধি পাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম যেমন একলাফে অনেকটা বেড়েছে, ঠিক তেমনি নাটকীয়ভাবে কমে গেছে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল।

সামুদ্রিক তথ্য সংস্থা কেপলারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম রবিবার প্রায় ৩.৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৭৯ ডলারে পৌঁছেছে। এই দর যুদ্ধ শুরুর আগের পরিস্থিতির চেয়ে প্রায় ৯ শতাংশ বেশি। তেলের দাম বাড়ার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের সংখ্যায় বড় ধস নেমেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, সংঘাত শুরুর আগে যেখানে এই জলপথ দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ১৩০টিরও বেশি বাণিজ্যিক জাহাজ যাতায়াত করত, সেখানে গত বৃহস্পতিবার মাত্র ২২টি জাহাজ চলাচল করেছে।

মূলত হরমুজ প্রণালীতে একটি কন্টেইনার জাহাজে তেহরানের হামলার পর এই উত্তেজনার সূত্রপাত হয়। এর জবাবে ইরানজুড়ে প্রায় ১৪০টি লক্ষ্যবস্তুতে তীব্র হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। পরবর্তীতে ইরানও পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ওই অঞ্চলে মার্কিন অবস্থানগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালানোর কথা নিশ্চিত করে। এই পাল্টাপাল্টি হামলার জেরে পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।

দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে কেপলার-এর মধ্যপ্রাচ্য গবেষণা বিভাগের প্রধান আমেনা বাকর জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক এই সংঘাত বাণিজ্যিক জাহাজ মালিকদের দীর্ঘদিনের আস্থা পুরোপুরি নষ্ট করে দিয়েছে। খুব দ্রুত এই আস্থার ক্ষয় হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় তারা আবার একদম শুরুর অবস্থানে ফিরে গেছেন। তবে তিনি এটিও মনে করেন যে, এই অঞ্চলের বারবার ঘটে চলা উত্তেজনার সঙ্গে জ্বালানি বাজারগুলো এখন অনেকটাই অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে। ফলে মূল্যের বর্তমান ওঠানামা আসলে ভেতরের প্রকৃত পরিস্থিতি বা ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকির বাস্তব মাত্রাকে পুরোপুরি প্রতিফলিত করছে না।

এদিকে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) শুক্রবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গত মাসে স্বাক্ষরিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান প্রাথমিক যুদ্ধবিরতির পর উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল রপ্তানি বৃদ্ধি পেয়েছিল, যা বৈশ্বিক সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বড় ভূমিকা রাখছিল। তবে বর্তমান সংকট কাটিয়ে পুনরায় জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং বাজার স্থিতিশীল রাখা সম্পূর্ণভাবে নতুন করে শুরু হওয়া এই সংঘাতের দ্রুত অবসানের ওপরই নির্ভরশীল বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি। আনাদুলু

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

‘মেসি পেনাল্টি মিস করায় কেঁদে দিয়েছি’

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত: তেলের বাজারে ঊর্ধ্বগতি

প্রকাশিত সময় : ১২:০৯:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া সামরিক সংঘাতের জেরে ওলটপালট হয়ে গেছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডোর হরমুজ প্রণালী। এই জলপথে নিরাপত্তা ঝুঁকি চরম মাত্রায় বৃদ্ধি পাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম যেমন একলাফে অনেকটা বেড়েছে, ঠিক তেমনি নাটকীয়ভাবে কমে গেছে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল।

সামুদ্রিক তথ্য সংস্থা কেপলারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম রবিবার প্রায় ৩.৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৭৯ ডলারে পৌঁছেছে। এই দর যুদ্ধ শুরুর আগের পরিস্থিতির চেয়ে প্রায় ৯ শতাংশ বেশি। তেলের দাম বাড়ার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের সংখ্যায় বড় ধস নেমেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, সংঘাত শুরুর আগে যেখানে এই জলপথ দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ১৩০টিরও বেশি বাণিজ্যিক জাহাজ যাতায়াত করত, সেখানে গত বৃহস্পতিবার মাত্র ২২টি জাহাজ চলাচল করেছে।

মূলত হরমুজ প্রণালীতে একটি কন্টেইনার জাহাজে তেহরানের হামলার পর এই উত্তেজনার সূত্রপাত হয়। এর জবাবে ইরানজুড়ে প্রায় ১৪০টি লক্ষ্যবস্তুতে তীব্র হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। পরবর্তীতে ইরানও পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ওই অঞ্চলে মার্কিন অবস্থানগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালানোর কথা নিশ্চিত করে। এই পাল্টাপাল্টি হামলার জেরে পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।

দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে কেপলার-এর মধ্যপ্রাচ্য গবেষণা বিভাগের প্রধান আমেনা বাকর জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক এই সংঘাত বাণিজ্যিক জাহাজ মালিকদের দীর্ঘদিনের আস্থা পুরোপুরি নষ্ট করে দিয়েছে। খুব দ্রুত এই আস্থার ক্ষয় হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় তারা আবার একদম শুরুর অবস্থানে ফিরে গেছেন। তবে তিনি এটিও মনে করেন যে, এই অঞ্চলের বারবার ঘটে চলা উত্তেজনার সঙ্গে জ্বালানি বাজারগুলো এখন অনেকটাই অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে। ফলে মূল্যের বর্তমান ওঠানামা আসলে ভেতরের প্রকৃত পরিস্থিতি বা ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকির বাস্তব মাত্রাকে পুরোপুরি প্রতিফলিত করছে না।

এদিকে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) শুক্রবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গত মাসে স্বাক্ষরিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান প্রাথমিক যুদ্ধবিরতির পর উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল রপ্তানি বৃদ্ধি পেয়েছিল, যা বৈশ্বিক সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বড় ভূমিকা রাখছিল। তবে বর্তমান সংকট কাটিয়ে পুনরায় জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং বাজার স্থিতিশীল রাখা সম্পূর্ণভাবে নতুন করে শুরু হওয়া এই সংঘাতের দ্রুত অবসানের ওপরই নির্ভরশীল বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি। আনাদুলু