বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্বের সেরা চায়ের তালিকায় শীর্ষে ‘মসলা চা’

সকালের শুরু হোক কিংবা বিকেলের আড্ডা, এক কাপ গরম চা অনেকের কাছেই স্বস্তির আরেক নাম। বাংলাদেশেও দিনের বিভিন্ন সময়ে চা পান করা যেন এক ধরনের অভ্যাস।

এবার চা-প্রেমীদের জন্য এলো সুখবর। আন্তর্জাতিক খাবারবিষয়ক গাইড টেস্টঅ্যাটলাস বিশ্বের সেরা ১০০ চায়ের তালিকায় মসলা চাকে প্রথম স্থান দিয়েছে।
ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টেস্টঅ্যাটলাসের সর্বশেষ প্রকাশিত ‘টপ ১০০ টি ইন দ্য ওয়ার্ল্ড’ তালিকায় বিশ্বের সেরা চা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে মসলা চা।

তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে জাপানের হোজিচা, তৃতীয় স্থানে শ্রীলঙ্কার সিলন ব্ল্যাক টি, চতুর্থ স্থানে জাপানের সেনচা এবং পঞ্চম স্থানে চীনের পু-এর চা।

মসলা চা তৈরি হয় চা-পাতার সঙ্গে দুধ, আদা, এলাচ, দারুচিনি, লবঙ্গ, গোলমরিচসহ বিভিন্ন মসলা মিশিয়ে। এই চায়ের ঘ্রাণ ও স্বাদই একে অন্যসব চা থেকে আলাদা করেছে। বাংলাদেশেও অনেক পরিবারে আদা বা এলাচ দিয়ে চা তৈরির প্রচলন রয়েছে। বিশেষ করে বর্ষার দিন বা শীতের সকালে এক কাপ গরম মসলা চা অনেকেরই প্রিয়।

উল্লেখ্য তালিকায় ভারতের আরো কয়েকটি জনপ্রিয় চাও স্থান করে নিয়েছে। তালিকায় দার্জিলিং চা রয়েছে ষষ্ঠ স্থানে, আসাম চা ১৩তম, কেরালার সুলায়মানি চা ৩৯তম, হিমাচল প্রদেশের কাংড়া চা ৪১তম এবং জম্মু-কাশ্মীরের নুন চা রয়েছে ৪৩তম স্থানে। এটি প্রমাণ করে, দক্ষিণ এশিয়ার চায়ের বৈচিত্র্য ও স্বাদ বিশ্বজুড়েই সমাদৃত।

শুধু চা নয়, বিশ্বের সেরা চা-বাগানের তালিকাতেও জায়গা করে নিয়েছে ভারতের কয়েকটি ঐতিহ্যবাহী চা-বাগান। এর মধ্যে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের মাকাইবাড়ি টি এস্টেট, যা বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন চা-বাগান হিসেবে পরিচিত।

এ ছাড়া আসামের হালমারি টি এস্টেটও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই স্বীকৃতি শুধু একটি পানীয়ের নয়, বরং চা ঘিরে গড়ে ওঠা সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও জীবনধারারও স্বীকৃতি। এক কাপ চা যেমন ক্লান্তি দূর করে, তেমনি পরিবার, বন্ধু বা সহকর্মীদের সঙ্গে আড্ডা জমাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

চায়ের স্বাদ ও গুণের এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি প্রমাণ করে, দক্ষিণ এশিয়ার চা শুধু এ অঞ্চলের মানুষের নয়, বিশ্বের লাখো চা-প্রেমীর কাছেও সমান জনপ্রিয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আর্জেন্টিনা ম্যাচের নতুন সূচি

বিশ্বের সেরা চায়ের তালিকায় শীর্ষে ‘মসলা চা’

প্রকাশিত সময় : ০৯:১০:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

সকালের শুরু হোক কিংবা বিকেলের আড্ডা, এক কাপ গরম চা অনেকের কাছেই স্বস্তির আরেক নাম। বাংলাদেশেও দিনের বিভিন্ন সময়ে চা পান করা যেন এক ধরনের অভ্যাস।

এবার চা-প্রেমীদের জন্য এলো সুখবর। আন্তর্জাতিক খাবারবিষয়ক গাইড টেস্টঅ্যাটলাস বিশ্বের সেরা ১০০ চায়ের তালিকায় মসলা চাকে প্রথম স্থান দিয়েছে।
ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টেস্টঅ্যাটলাসের সর্বশেষ প্রকাশিত ‘টপ ১০০ টি ইন দ্য ওয়ার্ল্ড’ তালিকায় বিশ্বের সেরা চা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে মসলা চা।

তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে জাপানের হোজিচা, তৃতীয় স্থানে শ্রীলঙ্কার সিলন ব্ল্যাক টি, চতুর্থ স্থানে জাপানের সেনচা এবং পঞ্চম স্থানে চীনের পু-এর চা।

মসলা চা তৈরি হয় চা-পাতার সঙ্গে দুধ, আদা, এলাচ, দারুচিনি, লবঙ্গ, গোলমরিচসহ বিভিন্ন মসলা মিশিয়ে। এই চায়ের ঘ্রাণ ও স্বাদই একে অন্যসব চা থেকে আলাদা করেছে। বাংলাদেশেও অনেক পরিবারে আদা বা এলাচ দিয়ে চা তৈরির প্রচলন রয়েছে। বিশেষ করে বর্ষার দিন বা শীতের সকালে এক কাপ গরম মসলা চা অনেকেরই প্রিয়।

উল্লেখ্য তালিকায় ভারতের আরো কয়েকটি জনপ্রিয় চাও স্থান করে নিয়েছে। তালিকায় দার্জিলিং চা রয়েছে ষষ্ঠ স্থানে, আসাম চা ১৩তম, কেরালার সুলায়মানি চা ৩৯তম, হিমাচল প্রদেশের কাংড়া চা ৪১তম এবং জম্মু-কাশ্মীরের নুন চা রয়েছে ৪৩তম স্থানে। এটি প্রমাণ করে, দক্ষিণ এশিয়ার চায়ের বৈচিত্র্য ও স্বাদ বিশ্বজুড়েই সমাদৃত।

শুধু চা নয়, বিশ্বের সেরা চা-বাগানের তালিকাতেও জায়গা করে নিয়েছে ভারতের কয়েকটি ঐতিহ্যবাহী চা-বাগান। এর মধ্যে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের মাকাইবাড়ি টি এস্টেট, যা বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন চা-বাগান হিসেবে পরিচিত।

এ ছাড়া আসামের হালমারি টি এস্টেটও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই স্বীকৃতি শুধু একটি পানীয়ের নয়, বরং চা ঘিরে গড়ে ওঠা সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও জীবনধারারও স্বীকৃতি। এক কাপ চা যেমন ক্লান্তি দূর করে, তেমনি পরিবার, বন্ধু বা সহকর্মীদের সঙ্গে আড্ডা জমাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

চায়ের স্বাদ ও গুণের এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি প্রমাণ করে, দক্ষিণ এশিয়ার চা শুধু এ অঞ্চলের মানুষের নয়, বিশ্বের লাখো চা-প্রেমীর কাছেও সমান জনপ্রিয়।