বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (পিএমও) এক বিবৃতিতে জানায়, আগামী তিন মাস সরকারি যানবাহনের জন্য জ্বালানি সরবরাহ ৫০ শতাংশ কমানো হবে। একই সময়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের কর্মী-সংক্রান্ত নয়—এমন ব্যয়ের বাজেট ৫ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।
আগামী তিন মাস সরকারি কর্মকর্তাদের সব ধরনের বিদেশ সফর ও ভ্রমণও স্থগিত থাকবে। তবে বৃত্তির আওতায় হওয়া সফর এ নিষেধাজ্ঞার বাইরে রাখা হয়েছে।
সরকারি কর্মকর্তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী সরাসরি বৈঠকের পরিবর্তে টেলিকনফারেন্স ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এতে জ্বালানি ব্যবহার ও সরকারি ব্যয়—দুই দিক থেকেই সাশ্রয় করার লক্ষ্য নিয়েছে সরকার।
এর আগে চলতি বছরের মার্চেও জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে একই ধরনের কৃচ্ছ্রসাধনমূলক পদক্ষেপ নিয়েছিল পাকিস্তান সরকার। সে সময় দেশটির সব স্কুল দুই সপ্তাহের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছিল। পাশাপাশি সরকারি দপ্তরগুলোতে জ্বালানি ব্যবহার কমানো এবং সম্ভব হলে কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজ করার উৎসাহ দেওয়া হয়।
নতুন পদক্ষেপগুলো এমন সময়ে নেওয়া হলো, যখন পাকিস্তান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের পাশাপাশি জ্বালানি সরবরাহ নিয়েও চাপে রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান বৃহত্তর সংঘাতের কারণে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় দেশটির জ্বালানি ব্যবস্থার ওপর চাপ আরও বেড়েছে। একই সঙ্গে বাড়ছে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম।
গত মঙ্গলবার পাকিস্তানে পেট্রোলের দাম প্রতি লিটারে ৪ দশমিক ১০ পাকিস্তানি রুপি এবং উচ্চগতির ডিজেলের দাম ৬ দশমিক ৪১ রুপি বাড়ানো হয়। এতে পেট্রোলের দাম বেড়ে প্রতি লিটার ৩৮৪ দশমিক ৩৪ রুপি এবং ডিজেলের দাম ৪১৫ দশমিক ৮৩ রুপিতে দাঁড়িয়েছে।
পাকিস্তানের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী মুসাদিক মালিক জানিয়েছেন, জ্বালানি ত্রাণ প্রকল্পের মাধ্যমে মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব ভোক্তাদের ওপর থেকে কমানোর চেষ্টা করছে সরকার।
আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থার কারণে পাকিস্তানের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ এবং সরকারি ব্যয়ের চাপের মধ্যেই জ্বালানি ব্যবহার কমাতে ও ব্যয় নিয়ন্ত্রণে এসব নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে ইসলামাবাদ।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক / ডেইলি দেশ নিউজ ডটকম 
























