বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইতিহাসগড়া পাকিস্তানের আনিকাকে কতটা জানেন?

বিশ্বের অন্যতম বড় সুন্দরী প্রতিযোগিতা ‘মিস ওয়ার্ল্ড’। সাত দশকের বেশি সময়ের ইতিহাসে প্রথমবার প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে যাচ্ছে পাকিস্তান। এ প্রতিযোগিতার ৭৫তম আসরে দেশটির প্রতিনিধিত্ব করবেন আনিকা মেরাজ। সম্প্রতি ‘মিস ওয়ার্ল্ড পাকিস্তান ২০২৬’ খেতাব অর্জন করেছেন তিনি।

‘মিস ওয়ার্ল্ড পাকিস্তান ২০২৬’ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে ‘মিস পাকিস্তান ওয়ার্ল্ড অর্গানাইজেশন’। আনিকা মেরাজ খেতাব জয়ের পর প্রতিষ্ঠানটি একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে। তাতে বলা হয়েছে, বিশ্বসুন্দরী প্রতিযোগিতার মঞ্চে অনিকার পা রাখার মাধ্যমে একটি মাইলফলক স্পর্শ করছে প্রতিষ্ঠানটি। দীর্ঘ ২৫ বছরে প্রথমবারের মতো তাদের সংস্থা থেকে কোনো প্রতিযোগী বিশ্বসুন্দরীর মঞ্চে যাচ্ছেন। যদিও ইতিহাস বলছে—দীর্ঘ ৭৪ বছরে পাকিস্তান বিশ্বসুন্দরীর মঞ্চ ছুঁয়েও দেখেনি।

মিস পাকিস্তান ওয়ার্ল্ড অর্গানাইজেশনের প্রধান সানিয়া আহমেদ জানিয়েছেন, পাকিস্তানের জন্য এটি একটি ‘ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ হতে চলেছে। পাকিস্তানের প্রতিভা বিশ্ব দরবারে তুলে ধরার জন্য এটি অত্যন্ত ভালো সুযোগ। এবারই প্রথম নয়, এর আগেও সুন্দরী প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন আনিকা। ২৪ বছরের এই তনয়া ‘মিস আর্থ’, ‘মিস গ্লোবাল’, ‘মিস কসমো’, ‘মিস ইকো ইন্টারন্যাশনল’, ‘মিস অরা ইন্টারন্যাশনল’-এর মতো প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন। কসমোতে অনুষ্ঠিত ‘ফ্রিডম অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ প্রতিযোগিতায়ও অনিকা মেরাজ জিতে নেন চারটি খেতাব।

অনিকা মেরাজের পড়াশোনা এখনো শেষ হয়নি। বর্তমানে পাকিস্তানের দানিস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অ্যাকাউন্টিং এবং অডিটিং বিষয়ে স্নাতকোত্তরে পড়ছেন তিনি। রূপবতী আনিকার মন রয়েছে সমাজকর্মেও। ‘বিউটি উইথ পার্পস’ নামে একটি প্রকল্পও পরিচালান করছেন তিনি। পাকিস্তানের সকল থ্যালাসেমিয়া রোগীদের সহায়তা করাই এই প্রকল্পের প্রধান উদ্দেশ্য।

এ প্রকল্পের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পাকিস্তানের সামাজিক কর্মকাণ্ড সক্রিয়ভাবে পরিচালনা করছেন আনিকা। লাহোরের বেশ কয়েকটি দাতব্য সংস্থায় আনিকা স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করেন। সাধারণত দীর্ঘমেয়াদী রোগে ভোগা রোগীদের নিয়েই এসব সংস্থা কাজ করছে।

 

পাকিস্তানের প্রতিযোগীরা এর আগে নানা ধরনের সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছেন। আনিকার কাছেও সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া নতুন কিছু নয়। তবে বিশ্বসুন্দরীর মঞ্চ সে সবের থেকে আলাদা। সেখানে বাহ্যিক সৌন্দর্যের সঙ্গে বোধগম্যতা, জনসমক্ষে কথা বলার ধরন প্রভৃতি বিষয় যাচাই করে দেখা হয়। তবে এসব বিষয় নিয়ে চিন্তিত নন আনিকা মেরাজ।

 

আনিকা ছোটবেলা থেকেই জানতেন পাকিস্তানের মতো দেশে মডেলিংকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়ে এগিয়ে যাওয়া সহজ বিষয় নয়। সামাজিক ও ধর্মীয় রীতিনীতি এ ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। আনিকার মা-বাবা অর্থাৎ পরিবারের সকলে তার পাশে রয়েছেন। তাছাড়া সামাজিক-ধর্মীয় বাধা নিয়ে নিয়ে চিন্তিত নন আনিকা। বরং বিশ্বসুন্দরীর এ প্রতিযোগিতায় নিজেকে মেলে ধরাতেই গুরুত্ব দিচ্ছেন আনিকা।

 

আগস্টের প্রথম সপ্তাহ থেকে সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত ভিয়েতনামে অনুষ্ঠিত হবে মিস ওয়ার্ল্ডের বিশ্ব আসর। আনিকার কাছে বিশ্বসুন্দরীর মঞ্চ কেবল একটি সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার মঞ্চ নয়। তার প্রধান লক্ষ্য— বিশ্বসুন্দরীর মঞ্চকে কাজে লাগিয়ে নিজ দেশের থ্যালাসেমিয়া রোগীদের জন্য সহযোগিতা জোগাড় করা, যাতে তার প্রকল্পকে আরো দৃঢ়তার সঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেন।

*গালফ নিউজ অবলম্বনে

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ইতিহাসগড়া পাকিস্তানের আনিকাকে কতটা জানেন?

প্রকাশিত সময় : ০৯:২৩:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

বিশ্বের অন্যতম বড় সুন্দরী প্রতিযোগিতা ‘মিস ওয়ার্ল্ড’। সাত দশকের বেশি সময়ের ইতিহাসে প্রথমবার প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে যাচ্ছে পাকিস্তান। এ প্রতিযোগিতার ৭৫তম আসরে দেশটির প্রতিনিধিত্ব করবেন আনিকা মেরাজ। সম্প্রতি ‘মিস ওয়ার্ল্ড পাকিস্তান ২০২৬’ খেতাব অর্জন করেছেন তিনি।

‘মিস ওয়ার্ল্ড পাকিস্তান ২০২৬’ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে ‘মিস পাকিস্তান ওয়ার্ল্ড অর্গানাইজেশন’। আনিকা মেরাজ খেতাব জয়ের পর প্রতিষ্ঠানটি একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে। তাতে বলা হয়েছে, বিশ্বসুন্দরী প্রতিযোগিতার মঞ্চে অনিকার পা রাখার মাধ্যমে একটি মাইলফলক স্পর্শ করছে প্রতিষ্ঠানটি। দীর্ঘ ২৫ বছরে প্রথমবারের মতো তাদের সংস্থা থেকে কোনো প্রতিযোগী বিশ্বসুন্দরীর মঞ্চে যাচ্ছেন। যদিও ইতিহাস বলছে—দীর্ঘ ৭৪ বছরে পাকিস্তান বিশ্বসুন্দরীর মঞ্চ ছুঁয়েও দেখেনি।

মিস পাকিস্তান ওয়ার্ল্ড অর্গানাইজেশনের প্রধান সানিয়া আহমেদ জানিয়েছেন, পাকিস্তানের জন্য এটি একটি ‘ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ হতে চলেছে। পাকিস্তানের প্রতিভা বিশ্ব দরবারে তুলে ধরার জন্য এটি অত্যন্ত ভালো সুযোগ। এবারই প্রথম নয়, এর আগেও সুন্দরী প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন আনিকা। ২৪ বছরের এই তনয়া ‘মিস আর্থ’, ‘মিস গ্লোবাল’, ‘মিস কসমো’, ‘মিস ইকো ইন্টারন্যাশনল’, ‘মিস অরা ইন্টারন্যাশনল’-এর মতো প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন। কসমোতে অনুষ্ঠিত ‘ফ্রিডম অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ প্রতিযোগিতায়ও অনিকা মেরাজ জিতে নেন চারটি খেতাব।

অনিকা মেরাজের পড়াশোনা এখনো শেষ হয়নি। বর্তমানে পাকিস্তানের দানিস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অ্যাকাউন্টিং এবং অডিটিং বিষয়ে স্নাতকোত্তরে পড়ছেন তিনি। রূপবতী আনিকার মন রয়েছে সমাজকর্মেও। ‘বিউটি উইথ পার্পস’ নামে একটি প্রকল্পও পরিচালান করছেন তিনি। পাকিস্তানের সকল থ্যালাসেমিয়া রোগীদের সহায়তা করাই এই প্রকল্পের প্রধান উদ্দেশ্য।

এ প্রকল্পের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পাকিস্তানের সামাজিক কর্মকাণ্ড সক্রিয়ভাবে পরিচালনা করছেন আনিকা। লাহোরের বেশ কয়েকটি দাতব্য সংস্থায় আনিকা স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করেন। সাধারণত দীর্ঘমেয়াদী রোগে ভোগা রোগীদের নিয়েই এসব সংস্থা কাজ করছে।

 

পাকিস্তানের প্রতিযোগীরা এর আগে নানা ধরনের সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছেন। আনিকার কাছেও সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া নতুন কিছু নয়। তবে বিশ্বসুন্দরীর মঞ্চ সে সবের থেকে আলাদা। সেখানে বাহ্যিক সৌন্দর্যের সঙ্গে বোধগম্যতা, জনসমক্ষে কথা বলার ধরন প্রভৃতি বিষয় যাচাই করে দেখা হয়। তবে এসব বিষয় নিয়ে চিন্তিত নন আনিকা মেরাজ।

 

আনিকা ছোটবেলা থেকেই জানতেন পাকিস্তানের মতো দেশে মডেলিংকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়ে এগিয়ে যাওয়া সহজ বিষয় নয়। সামাজিক ও ধর্মীয় রীতিনীতি এ ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। আনিকার মা-বাবা অর্থাৎ পরিবারের সকলে তার পাশে রয়েছেন। তাছাড়া সামাজিক-ধর্মীয় বাধা নিয়ে নিয়ে চিন্তিত নন আনিকা। বরং বিশ্বসুন্দরীর এ প্রতিযোগিতায় নিজেকে মেলে ধরাতেই গুরুত্ব দিচ্ছেন আনিকা।

 

আগস্টের প্রথম সপ্তাহ থেকে সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত ভিয়েতনামে অনুষ্ঠিত হবে মিস ওয়ার্ল্ডের বিশ্ব আসর। আনিকার কাছে বিশ্বসুন্দরীর মঞ্চ কেবল একটি সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার মঞ্চ নয়। তার প্রধান লক্ষ্য— বিশ্বসুন্দরীর মঞ্চকে কাজে লাগিয়ে নিজ দেশের থ্যালাসেমিয়া রোগীদের জন্য সহযোগিতা জোগাড় করা, যাতে তার প্রকল্পকে আরো দৃঢ়তার সঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেন।

*গালফ নিউজ অবলম্বনে