বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পুলিশের আরও ৬ কর্মকর্তা চাকরি থেকে বরখাস্ত

বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন পদের আরও ছয় কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিভিন্ন মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ায় তাদের বরখাস্তের আদেশ দেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

বৃহস্পতিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখা থেকে জারি করা পৃথক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪২ নম্বর ধারা অনুযায়ী এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তারা হলেন— অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলাম, সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইমরুল, ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আব্দুল্লাহিল কাফি, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শহিদুল ইসলাম।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ডিএমপির রমনা জোনের সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার এবং ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টার, সিলেটের (বর্তমানে সাময়িক বরখাস্ত) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলামকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর মামলার রায়ে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। গত ২৬ জানুয়ারি থেকে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।

ডিএমপির রমনা জোনের সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার এবং ৮ এপিবিএন, উখিয়া, কক্সবাজারের (বর্তমানে সাময়িক বরখাস্ত) সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইমরুলকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর মামলার রায়ে দোষী সাব্যস্ত করে ছয় বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। গত ২৬ জানুয়ারি থেকে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।

ঢাকা রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি এবং রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি (বর্তমানে সাময়িক বরখাস্ত) সৈয়দ নুরুল ইসলামকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর মামলার রায়ে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়। গত ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।

ঢাকা জেলার সাবেক পুলিশ সুপার এবং রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে সংযুক্ত (বর্তমানে সাময়িক বরখাস্ত) পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামানকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর মামলার রায়ে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়। গত ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।

সুপারনিউমারারি পুলিশ সুপার এবং ঢাকা জেলার (বর্তমানে সাময়িক বরখাস্ত) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আব্দুল্লাহিল কাফিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর মামলার রায়ে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়। গত ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।

ঢাকা জেলার সাভার সার্কেলের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং কক্সবাজার ১৬ এপিবিএনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বর্তমানে সাময়িক বরখাস্ত) শহিদুল ইসলামকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর মামলার রায়ে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়। গত ৫ ফেব্রুোরি থেকে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।

রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে সিনিয়র সচিব মনজুর মোরশেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত এই প্রজ্ঞাপনগুলোর অনুলিপি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাঠানো হয়েছে।

এ ছাড়া জনস্বার্থে জারি করা এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনগুলোয় বলা হয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

‘বিয়ে শুধুই কাগজের সম্পর্ক নয়, পরস্পরের ভালোবাসা ও সম্মান জরুরি’

পুলিশের আরও ৬ কর্মকর্তা চাকরি থেকে বরখাস্ত

প্রকাশিত সময় : ১০:৩২:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন পদের আরও ছয় কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিভিন্ন মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ায় তাদের বরখাস্তের আদেশ দেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

বৃহস্পতিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখা থেকে জারি করা পৃথক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪২ নম্বর ধারা অনুযায়ী এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তারা হলেন— অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলাম, সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইমরুল, ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আব্দুল্লাহিল কাফি, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শহিদুল ইসলাম।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ডিএমপির রমনা জোনের সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার এবং ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টার, সিলেটের (বর্তমানে সাময়িক বরখাস্ত) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলামকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর মামলার রায়ে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। গত ২৬ জানুয়ারি থেকে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।

ডিএমপির রমনা জোনের সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার এবং ৮ এপিবিএন, উখিয়া, কক্সবাজারের (বর্তমানে সাময়িক বরখাস্ত) সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইমরুলকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর মামলার রায়ে দোষী সাব্যস্ত করে ছয় বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। গত ২৬ জানুয়ারি থেকে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।

ঢাকা রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি এবং রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি (বর্তমানে সাময়িক বরখাস্ত) সৈয়দ নুরুল ইসলামকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর মামলার রায়ে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়। গত ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।

ঢাকা জেলার সাবেক পুলিশ সুপার এবং রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে সংযুক্ত (বর্তমানে সাময়িক বরখাস্ত) পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামানকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর মামলার রায়ে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়। গত ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।

সুপারনিউমারারি পুলিশ সুপার এবং ঢাকা জেলার (বর্তমানে সাময়িক বরখাস্ত) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আব্দুল্লাহিল কাফিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর মামলার রায়ে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়। গত ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।

ঢাকা জেলার সাভার সার্কেলের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং কক্সবাজার ১৬ এপিবিএনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বর্তমানে সাময়িক বরখাস্ত) শহিদুল ইসলামকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর মামলার রায়ে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়। গত ৫ ফেব্রুোরি থেকে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।

রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে সিনিয়র সচিব মনজুর মোরশেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত এই প্রজ্ঞাপনগুলোর অনুলিপি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাঠানো হয়েছে।

এ ছাড়া জনস্বার্থে জারি করা এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনগুলোয় বলা হয়।