উত্তর: নামাজের কোনো রোকন যথাযথভাবে আদায় করার সময় যেমন দাঁড়ানো অবস্থায়, রুকু বা সিজদারত অবস্থায় ঘুমিয়ে পড়লে অজু ভাঙে না, নামাজও নষ্ট হয় না। তবে যদি কেউ যদি সিজদায় হাত-পা মাটির সঙ্গে মিশিয়ে সিজদা করে এবং ওই অবস্থায় ঘুমায়, ঘুমের মধ্যে তার পেছনের রাস্তা দিয়ে বায়ু বের হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তাহলে অজু ভেঙে যাবে, নামাজও নষ্ট হয়ে যাবে। ঘুম মূলত অজু ভঙ্গের কারণ নয়। ঘুমের মধ্যে পেছনের রাস্তা দিয়ে বায়ু বের হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে অজু ভেঙে যায়, সম্ভাবনা না থাকলে অজু ভাঙে না।
আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, সিজদায় ঘুমালে অজু ভাঙে না, তবে চিৎ হয়ে শুয়ে পড়লে ভেঙ্গে যাবে, কেননা, চিৎ বা কাত হয়ে শুয়ে পড়লে শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ঢিলে হয়ে যায়। (সুনানে আবু দাউদ)
জামাতে নামাজে যদি মুক্তাদি ঘুমিয়ে পড়ে এবং ঘুমিয়ে পড়ার কারণে ইমামের সঙ্গে কোনো রোকন আদায় করতে না পারে বা তার কোনো রাকাত ছুটে যায়, ঘুম থেকে জেগে ওঠার পর তার করণীয় হলো সেই রোকন বা রাকাত নিজে আদায় করে ইমামের সঙ্গে শরিক হওয়া, তাহলে তার নামাজ আদায় হয়ে যাবে।
উল্লেখ্য যে, নামাজে যথাযথ মনোযোগ ও খুশুখুজু না থাকলে, একাগ্র মনে আল্লাহমুখী হয়ে নামাজ না পড়লে নামাজের সওয়াব পুরোপুরি পাওয়া যায় না। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, এমন অনেক লোক আছে যারা নামায পড়ে কিন্তু তাদের নামাজ পুরাপুরি কবুল না হওয়ায় পূর্ণ সওয়াব তারা পায় না। তাদের কেউ দশ ভাগের এক ভাগ, কেউ নয় ভাগের এক ভাগ, আট ভাগের এক ভাগ, সাত ভাগের এক ভাগ, ছয় ভাগের এক ভাগ, পাঁচ ভাগের এক ভাগ, চার ভাগের এক ভাগ, তিন ভাগের এক ভাগ বা দুই ভাগের এক ভাগ সওয়াব পেয়ে থাকে। (সুনানে আবু দাউদ)
তাই ঘুম ঘুম ভাব নিয়ে নামাজ আদায় করা ঠিক নয়। আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঘুম ভাব নিয়ে নামাজ পড়তে নিষেধ করে বলেন, তোমাদের কারো যখন নামাজে ঘুম আসে তখন সে যেন (নামাজ ছেড়ে) এতটুকু ঘুমিয়ে নেয় যে সে বুঝতে পারে সে কী পড়ছে। (সহিহ বুখারি)
তাই চোখে ঘুম থাকলে কিছুক্ষণ ঘুমিয়ে তারপর নামাজ পড়া উচিত। তবে নামাজে কোনো কারণে ঝিমুনি এসে গেলে নামাজের ক্ষতি হবে না। কিন্তু নামাজের সময় শেষ হয়ে আসতে থাকলে যেভাবেই হোক ঘুম দূর করে নামাজ পড়ে নিতে হবে।

ডেইলি দেশ নিউজ ডটকম ডেস্ক 
























