প্রিয় নবী (সা.)-এর এক সাহাবি আল্লাহর রাস্তায় জেহাদে যাওয়ার জন্য অনুমতি চাইলে তিনি তাঁকে বৃদ্ধ মা-বাবার খেদমত করার নির্দেশ দেন। অর্থাৎ নবী (সা.) তাঁকে বুঝিয়ে দিলেন যে মা-বাবার খেদমত করা আল্লাহর রাস্তায় জেহাদ করার চেয়ে বেশি মর্যাদাপূর্ণ। কোরআনের বহু আয়াতের প্রথম অংশে আল্লাহর ইবাদত ও পরের অংশে মা-বাবার খেদমত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আল্লাহর ইবাদত এবং মা-বাবার খেদমত অনেক সুরায় একই সঙ্গে উল্লেখ করার মাধ্যমে দুটি ইবাদতেরই সর্বাধিক গুরুত্বের বিষয়টি অনুধাবন করা যায়।
হাদিসেও মা-বাবার খেদমত, সম্মান ও মর্যাদার ব্যাপারে অসংখ্য বর্ণনা এসেছে। হজরত আবু হোরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেছেন-‘এক ব্যক্তি বলল, ইয়া রসুলুল্লাহ (সা.)! আমার সংশ্লিষ্ট লোকদের মধ্যে কে সর্বাধিক সৌজন্যমূলক আচরণ লাভের অধিকারী তিনি বললেন, তোমার মা। সে জিজ্ঞেস করল তারপর কে তিনি বললেন, তোমার মা। সে আবার জিজ্ঞেস করল তারপর কে তিনি বললেন, তোমার মা। সে আবারও জিজ্ঞেস করল তারপর কে তিনি বললেন, তোমার বাবা।’ অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে-‘তোমার মা। তারপর তোমার মা। তারপর তোমার মা। অতঃপর তোমার বাবা। এরপর তোমার (পর্যায়ক্রমে) নিকটবর্তী ব্যক্তিরা।’ (বুখারি ও মুসলিম)।’
এই হাদিস থেকে মায়ের খেদমত বেশি করতে হবে বিষয়টি স্পষ্ট। আরেক হাদিসে এসেছে-‘হজরত আবু হোরায়রা (রা.) বলেন-রসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, তার নাসিকা ধূলিমলিন হোক, তার নাসিকা ধূলিমলিন হোক, তার নাসিকা ধূলিমলিন হোক। জিজ্ঞেস করা হলো-ইয়া রসুলুল্লাহ (সা.)! কে সে তিনি বললেন, যে ব্যক্তি তার বাবা-মার কোনো একজনকে অথবা উভয়জনকে তাঁদের বৃদ্ধ অবস্থায় পেল, কিন্তু তাঁদের খেদমত করে বেহেশত লাভ করতে পারল না।’ (মুসলিম শরিফ)। মা-বাবা যদি অমুসলিমও হন তবু তাঁদের সঙ্গে বেয়াদবি করা যাবে না। হজরত আসমা বিনতে আবুবকর (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেছেন, ‘কুরাইশদের সঙ্গে যখন মুসলমানদের সন্ধি হয় আমার মা তখন মুশরিক অবস্থায় আমার কাছে আগমন করলেন। আমি রসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে জিজ্ঞেস করলাম-ইয়া রসুলুল্লাহ (সা.)! আমার মা আমার কাছে এসেছেন; কিন্তু তিনি ইসলামের প্রতি বিরূপ ভাব পোষণকারিণী। এমতাবস্থায় আমি তাঁর সঙ্গে কি ভালো ব্যবহার করব? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তাঁর সঙ্গে উত্তম ব্যবহার কর।’ (বুখারি ও মুসলিম)।
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত রসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘মা-বাবার সন্তুষ্টির মধ্যেই নিহিত আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং মা-বাবার অসন্তুষ্টির মধ্যেই রয়েছে আল্লাহর অসন্তুষ্টি।’ (তিরমিজি)। হজরত আবু দারদা (রা.) বললেন, ‘আমি রসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, মা-বাবা হলেন বেহেশতের দরজাগুলোর মধ্যবর্তী দরজা। এখন তোমার ইচ্ছা হয় দরজাটিকে রক্ষা কর, ইচ্ছা হয় নষ্ট কর।’ (তিরমিজি, ইবনে মাজাহ)। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে মা-বাবার খেদমত করার তাওফিক দিন। আমিন।

ডেইলি দেশ নিউজ ডটকম ডেস্ক 

























