বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যেদিন সবাই জবাবদিহি করতে বাধ্য

আজ মানুষ তার কাজের হিসাব এড়িয়ে যেতে পারে। ক্ষমতাবান ব্যক্তি তার ক্ষমতার আড়ালে নিজেকে লুকিয়ে রাখতে পারেন, ধনী ব্যক্তি অর্থের প্রভাব খাটিয়ে অনেক কিছু আড়াল করতে পারেন, একজন কর্মকর্তা নথিপত্রের ফাঁক গলে বেরিয়ে যেতে পারেন, একজন জনপ্রতিনিধি মানুষের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতির হিসাব না দিয়েও সময় পার করে দিতে পারেন।

এমনকি একজন সাধারণ মানুষও কখনো কখনো নিজের ভুলের দায় অন্যের ওপর চাপিয়ে দিতে পারে।
কিন্তু এমন একটি দিন আসছে, যেদিন কোনো পরিচয়, পদ, সম্পদ, ক্ষমতা কিংবা প্রভাব মানুষকে জবাবদিহি থেকে রক্ষা করতে পারবে না। সেদিন থাকবে না কোনো সুপারিশের নিশ্চয়তা, থাকবে না মিথ্যা অজুহাতের সুযোগ, থাকবে না আমল গোপন করার অবকাশ। প্রত্যেক মানুষকে দাঁড়াতে হবে মহাপরাক্রমশালী আল্লাহর সামনে—একা, সম্পূর্ণ অসহায় অবস্থায়।

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর তোমরা সেই দিনের ভয় করো, যেদিন তোমাদের আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে নেওয়া হবে। অতঃপর প্রত্যেক ব্যক্তিকে তার কৃতকর্মের পূর্ণ প্রতিদান দেওয়া হবে এবং তাদের প্রতি কোনো জুলুম করা হবে না।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২৮১)
দুনিয়ার জীবন যত দীর্ঘই মনে হোক, তা আসলে অতি সংক্ষিপ্ত। এই জীবনে মানুষ নানা পরিচয় ধারণ করে—কেউ শাসক, কেউ জনপ্রতিনিধি, কেউ ব্যবসায়ী, কেউ শিক্ষক, কেউ শ্রমিক, কেউ আলেম, কেউ কর্মকর্তা, কেউ অভিভাবক।

কিন্তু মৃত্যুর পর এসব পরিচয় একে একে মুছে যাবে। থাকবে শুধু একজন বান্দার পরিচয় এবং তার আমল। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘সেদিন মানুষ পলায়ন করবে তার ভাই থেকে, তার মা ও পিতা থেকে, তার স্ত্রী ও সন্তানদের থেকে। সেদিন প্রত্যেক মানুষের এমন অবস্থা হবে, যা তাকে অন্যদের থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে রাখবে।’ (সুরা : আবাসা, আয়াত : ৩৪-৩৭)
যে মানুষ আজ নিজের পরিবার, বন্ধু ও পরিচিতদের নিয়ে ব্যস্ত, সেদিন সে নিজের হিসাব নিয়েই ব্যস্ত থাকবে।

অন্যের হিসাব নেওয়ার সময় থাকবে না; বরং নিজের পরিণতি নিয়েই প্রত্যেকে উদ্বিগ্ন থাকবে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর আমলনামা সামনে রাখা হবে। তখন তুমি অপরাধীদের দেখবে, তাতে যা আছে তার কারণে তারা ভীত-সন্ত্রস্ত। তারা বলবে, হায় আমাদের দুর্ভাগ্য! এ কেমন আমলনামা! ছোট-বড় কোনো কিছুই এতে বাদ পড়েনি, সবই এতে লিপিবদ্ধ আছে।’ (সুরা : কাহফ, আয়াত : ৪৯)
মানুষের বলা একটি কথা, কারো প্রতি করা একটি অন্যায়, গোপনে করা একটি পাপ, মানুষের অজান্তে করা একটি নেক কাজ—কিছুই হারিয়ে যাবে না। আল্লাহ বলেন, ‘যে অণু পরিমাণ ভালো কাজ করবে, সে তা দেখতে পাবে। আর যে অণু পরিমাণ মন্দ কাজ করবে, সেও তা দেখতে পাবে।’ (সুরা : জিলজাল, আয়াত : ৭-৮)

তাই কোনো নেক আমলকে তুচ্ছ মনে করার সুযোগ নেই। আবার কোনো পাপকেও ছোট মনে করার সুযোগ নেই।

মানুষ শুধু ব্যক্তিগত ইবাদতের ব্যাপারেই জবাবদিহি করবে না; বরং তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব সম্পর্কেও জিজ্ঞাসিত হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেককেই তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে।’ এরপর তিনি শাসক, পরিবারপ্রধানসহ বিভিন্ন দায়িত্বশীল ব্যক্তির কথা উল্লেখ করেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৭১৩৮)

এই হাদিসের শিক্ষা অত্যন্ত গভীর। একজন রাষ্ট্রপ্রধান শুধু নিজের ব্যক্তিগত আমলের হিসাব দেবেন না; তাঁর অধীনস্থ মানুষের অধিকার ও দায়িত্বের বিষয়েও জিজ্ঞাসিত হবেন। একজন জনপ্রতিনিধি শুধু নিজের নামাজ-রোজার হিসাব দেবেন না; জনগণের আমানত কতটা রক্ষা করেছেন, তারও হিসাব দিতে হবে।

মানুষ জীবনে সম্পদ অর্জনের জন্য কত পরিশ্রম করে! কিন্তু অনেকেই ভুলে যায়—সম্পদ অর্জনই জীবনের শেষ কথা নয়; বরং সম্পদেরও হিসাব দিতে হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কিয়ামতের দিন কোনো বান্দার পা নড়বে না, যতক্ষণ না তাকে তার জীবন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে—কোথায় তা ব্যয় করেছে; তার জ্ঞান সম্পর্কে—তা দিয়ে কী করেছে; তার সম্পদ সম্পর্কে—কোথা থেকে তা অর্জন করেছে এবং কোথায় ব্যয় করেছে; এবং তার শরীর সম্পর্কে—কী কাজে তা ক্ষয় করেছে।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২৪১৭)

আল্লাহর হক লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে তওবার দরজা খোলা আছে। কিন্তু মানুষের অধিকার নষ্ট করে শুধু মুখে তওবা করলেই বিষয়টি শেষ হয়ে যায় না। যার অধিকার নষ্ট করা হয়েছে, তার হক আদায় করতে হবে অথবা তার কাছ থেকে ক্ষমা নিতে হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যার ওপর তার ভাইয়ের কোনো জুলুম বা অধিকার রয়েছে—সম্মান কিংবা অন্য কোনো বিষয়ে—সে যেন আজই তার কাছ থেকে ক্ষমা নিয়ে নেয়, সেই দিনের আগে যেদিন কোনো দিনার বা দিরহাম থাকবে না।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২৪৪৯)

ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর নামে প্রসিদ্ধ একটি বাণী আছে— ‘তোমাদের হিসাব নেওয়ার আগে তোমরা নিজেদের হিসাব নাও।’ অর্থাৎ মৃত্যুর আগে নিজের আমল পর্যালোচনা করা মুমিনের বুদ্ধিমত্তার পরিচয়।

সুতরাং একদিন এমন একটি সকাল আসবে, যেদিন পৃথিবীর সব কোলাহল থেমে যাবে। ক্ষমতার চেয়ার থাকবে, কিন্তু ক্ষমতাবান থাকবে না। অট্টালিকা থাকবে, কিন্তু তার মালিক থাকবে না। সম্পদ থাকবে, কিন্তু তার মালিক তা সঙ্গে নিতে পারবে না। পরিচিত মানুষগুলো থাকবে, কিন্তু কেউ কারো হিসাবের ভার বহন করতে পারবে না। তাই সেই দিনের অপেক্ষা না করে আজই নিজের হিসাব নেওয়া শুরু করি। কারো হক নষ্ট করে থাকলে ফিরিয়ে দিই, কারো মনে কষ্ট দিয়ে থাকলে ক্ষমা চাই, হারাম উপার্জন থেকে ফিরে আসি, নামাজ ও ইবাদত ঠিক করি, দায়িত্বে অবহেলা থাকলে তা সংশোধন করি এবং আল্লাহর কাছে আন্তরিক তওবা করি।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সব গোপন ও প্রকাশ্য গুনাহ ক্ষমা করুন। কিয়ামতের কঠিন জবাবদিহি সহজ করে দিন এবং আপনার রহমতে আমাদের জান্নাতুল ফেরদাউস নসিব করুন। আমিন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

যেদিন সবাই জবাবদিহি করতে বাধ্য

প্রকাশিত সময় : ০৫:০৭:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

আজ মানুষ তার কাজের হিসাব এড়িয়ে যেতে পারে। ক্ষমতাবান ব্যক্তি তার ক্ষমতার আড়ালে নিজেকে লুকিয়ে রাখতে পারেন, ধনী ব্যক্তি অর্থের প্রভাব খাটিয়ে অনেক কিছু আড়াল করতে পারেন, একজন কর্মকর্তা নথিপত্রের ফাঁক গলে বেরিয়ে যেতে পারেন, একজন জনপ্রতিনিধি মানুষের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতির হিসাব না দিয়েও সময় পার করে দিতে পারেন।

এমনকি একজন সাধারণ মানুষও কখনো কখনো নিজের ভুলের দায় অন্যের ওপর চাপিয়ে দিতে পারে।
কিন্তু এমন একটি দিন আসছে, যেদিন কোনো পরিচয়, পদ, সম্পদ, ক্ষমতা কিংবা প্রভাব মানুষকে জবাবদিহি থেকে রক্ষা করতে পারবে না। সেদিন থাকবে না কোনো সুপারিশের নিশ্চয়তা, থাকবে না মিথ্যা অজুহাতের সুযোগ, থাকবে না আমল গোপন করার অবকাশ। প্রত্যেক মানুষকে দাঁড়াতে হবে মহাপরাক্রমশালী আল্লাহর সামনে—একা, সম্পূর্ণ অসহায় অবস্থায়।

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর তোমরা সেই দিনের ভয় করো, যেদিন তোমাদের আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে নেওয়া হবে। অতঃপর প্রত্যেক ব্যক্তিকে তার কৃতকর্মের পূর্ণ প্রতিদান দেওয়া হবে এবং তাদের প্রতি কোনো জুলুম করা হবে না।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২৮১)
দুনিয়ার জীবন যত দীর্ঘই মনে হোক, তা আসলে অতি সংক্ষিপ্ত। এই জীবনে মানুষ নানা পরিচয় ধারণ করে—কেউ শাসক, কেউ জনপ্রতিনিধি, কেউ ব্যবসায়ী, কেউ শিক্ষক, কেউ শ্রমিক, কেউ আলেম, কেউ কর্মকর্তা, কেউ অভিভাবক।

কিন্তু মৃত্যুর পর এসব পরিচয় একে একে মুছে যাবে। থাকবে শুধু একজন বান্দার পরিচয় এবং তার আমল। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘সেদিন মানুষ পলায়ন করবে তার ভাই থেকে, তার মা ও পিতা থেকে, তার স্ত্রী ও সন্তানদের থেকে। সেদিন প্রত্যেক মানুষের এমন অবস্থা হবে, যা তাকে অন্যদের থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে রাখবে।’ (সুরা : আবাসা, আয়াত : ৩৪-৩৭)
যে মানুষ আজ নিজের পরিবার, বন্ধু ও পরিচিতদের নিয়ে ব্যস্ত, সেদিন সে নিজের হিসাব নিয়েই ব্যস্ত থাকবে।

অন্যের হিসাব নেওয়ার সময় থাকবে না; বরং নিজের পরিণতি নিয়েই প্রত্যেকে উদ্বিগ্ন থাকবে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর আমলনামা সামনে রাখা হবে। তখন তুমি অপরাধীদের দেখবে, তাতে যা আছে তার কারণে তারা ভীত-সন্ত্রস্ত। তারা বলবে, হায় আমাদের দুর্ভাগ্য! এ কেমন আমলনামা! ছোট-বড় কোনো কিছুই এতে বাদ পড়েনি, সবই এতে লিপিবদ্ধ আছে।’ (সুরা : কাহফ, আয়াত : ৪৯)
মানুষের বলা একটি কথা, কারো প্রতি করা একটি অন্যায়, গোপনে করা একটি পাপ, মানুষের অজান্তে করা একটি নেক কাজ—কিছুই হারিয়ে যাবে না। আল্লাহ বলেন, ‘যে অণু পরিমাণ ভালো কাজ করবে, সে তা দেখতে পাবে। আর যে অণু পরিমাণ মন্দ কাজ করবে, সেও তা দেখতে পাবে।’ (সুরা : জিলজাল, আয়াত : ৭-৮)

তাই কোনো নেক আমলকে তুচ্ছ মনে করার সুযোগ নেই। আবার কোনো পাপকেও ছোট মনে করার সুযোগ নেই।

মানুষ শুধু ব্যক্তিগত ইবাদতের ব্যাপারেই জবাবদিহি করবে না; বরং তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব সম্পর্কেও জিজ্ঞাসিত হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেককেই তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে।’ এরপর তিনি শাসক, পরিবারপ্রধানসহ বিভিন্ন দায়িত্বশীল ব্যক্তির কথা উল্লেখ করেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৭১৩৮)

এই হাদিসের শিক্ষা অত্যন্ত গভীর। একজন রাষ্ট্রপ্রধান শুধু নিজের ব্যক্তিগত আমলের হিসাব দেবেন না; তাঁর অধীনস্থ মানুষের অধিকার ও দায়িত্বের বিষয়েও জিজ্ঞাসিত হবেন। একজন জনপ্রতিনিধি শুধু নিজের নামাজ-রোজার হিসাব দেবেন না; জনগণের আমানত কতটা রক্ষা করেছেন, তারও হিসাব দিতে হবে।

মানুষ জীবনে সম্পদ অর্জনের জন্য কত পরিশ্রম করে! কিন্তু অনেকেই ভুলে যায়—সম্পদ অর্জনই জীবনের শেষ কথা নয়; বরং সম্পদেরও হিসাব দিতে হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কিয়ামতের দিন কোনো বান্দার পা নড়বে না, যতক্ষণ না তাকে তার জীবন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে—কোথায় তা ব্যয় করেছে; তার জ্ঞান সম্পর্কে—তা দিয়ে কী করেছে; তার সম্পদ সম্পর্কে—কোথা থেকে তা অর্জন করেছে এবং কোথায় ব্যয় করেছে; এবং তার শরীর সম্পর্কে—কী কাজে তা ক্ষয় করেছে।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২৪১৭)

আল্লাহর হক লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে তওবার দরজা খোলা আছে। কিন্তু মানুষের অধিকার নষ্ট করে শুধু মুখে তওবা করলেই বিষয়টি শেষ হয়ে যায় না। যার অধিকার নষ্ট করা হয়েছে, তার হক আদায় করতে হবে অথবা তার কাছ থেকে ক্ষমা নিতে হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যার ওপর তার ভাইয়ের কোনো জুলুম বা অধিকার রয়েছে—সম্মান কিংবা অন্য কোনো বিষয়ে—সে যেন আজই তার কাছ থেকে ক্ষমা নিয়ে নেয়, সেই দিনের আগে যেদিন কোনো দিনার বা দিরহাম থাকবে না।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২৪৪৯)

ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর নামে প্রসিদ্ধ একটি বাণী আছে— ‘তোমাদের হিসাব নেওয়ার আগে তোমরা নিজেদের হিসাব নাও।’ অর্থাৎ মৃত্যুর আগে নিজের আমল পর্যালোচনা করা মুমিনের বুদ্ধিমত্তার পরিচয়।

সুতরাং একদিন এমন একটি সকাল আসবে, যেদিন পৃথিবীর সব কোলাহল থেমে যাবে। ক্ষমতার চেয়ার থাকবে, কিন্তু ক্ষমতাবান থাকবে না। অট্টালিকা থাকবে, কিন্তু তার মালিক থাকবে না। সম্পদ থাকবে, কিন্তু তার মালিক তা সঙ্গে নিতে পারবে না। পরিচিত মানুষগুলো থাকবে, কিন্তু কেউ কারো হিসাবের ভার বহন করতে পারবে না। তাই সেই দিনের অপেক্ষা না করে আজই নিজের হিসাব নেওয়া শুরু করি। কারো হক নষ্ট করে থাকলে ফিরিয়ে দিই, কারো মনে কষ্ট দিয়ে থাকলে ক্ষমা চাই, হারাম উপার্জন থেকে ফিরে আসি, নামাজ ও ইবাদত ঠিক করি, দায়িত্বে অবহেলা থাকলে তা সংশোধন করি এবং আল্লাহর কাছে আন্তরিক তওবা করি।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সব গোপন ও প্রকাশ্য গুনাহ ক্ষমা করুন। কিয়ামতের কঠিন জবাবদিহি সহজ করে দিন এবং আপনার রহমতে আমাদের জান্নাতুল ফেরদাউস নসিব করুন। আমিন।