বিশিষ্ট সাহাবি মুআজ ইবনে জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাকে ইয়ামানে প্রেরণকালে বললেন, নিশ্চয় তুমি আহলে কিতাব সম্প্রদায়ের কাছে যাচ্ছ। সুতরাং প্রথমে তুমি তাদের ‘আল্লাহ ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই এবং আমি আল্লাহ তাআলার প্রেরিত রাসুল’-এই সাক্ষ্যর দিকে দাওয়াত দেবে।
যদি তারা এ কথা মেনে নেয়, তাহলে তাদের জানিয়ে দেবে যে, নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা তাদের ওপর দিনে-রাতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরজ করে দিয়েছেন। আর যদি তারা এ কথাটিও মেনে নেয়, তাহলে তাদের জানিয়ে দেবে যে, তাদের ওপর জাকাত ফরজ করে দিয়েছেন। যা তাদের ধনীদের থেকে গ্রহণ করে গরিবদের মাঝে বণ্টন করা হবে। যদি তারা এই বিধানটি পালন করে, তাহলে শুধু তাদের উৎকৃষ্ট সম্পদ গ্রহণ করা থেকে বেঁচে থাকবে।
আর মাজলুমের বদদোয়া থেকে বেঁচে থাকো, কেননা তার এবং আল্লাহর মধ্যে কোনো পর্দা থাকে না। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৪৯৬, সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১২১)
শিক্ষা ও বিধান
১. দাওয়াতের প্রথম বিষয় হলো তাওহিদ। তাইতো রাসুলুল্লাহ (সা.) মুআজ (রা.)-কে ইয়ামানে পাঠিয়ে সর্বপ্রথম মানুষকে ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর রাসুল’—এই সাক্ষ্যের দিকে আহ্বান করতে বলেছেন। এতে বোঝা যায়, ইসলামের দাওয়াতের ভিত্তি হলো আকিদা ও তাওহিদ।
২. দাওয়াতে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে হবে। কারণ ইসলামের সব বিধান একসঙ্গে মানুষের সামনে চাপিয়ে না দিয়ে পর্যায়ক্রমে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো উপস্থাপন করা উচিত। প্রথমে ঈমান, এরপর সালাত, তারপর জাকাত—এভাবে রাসুলুল্লাহ (সা.) দাওয়াতের একটি সুন্দর ধারাবাহিক পদ্ধতি শিক্ষা দিয়েছেন।
৩. ঈমানের পর সালাতের গুরুত্ব সর্বাধিক। তাওহিদের স্বীকৃতির পরই পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের কথা বলা হয়েছে।
এতে বোঝা যায়, ইসলামী জীবনে সালাতের মর্যাদা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। সালাত শুধু ব্যক্তিগত ইবাদত নয়; এটি মুমিনের ঈমানি জীবনের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ।
৪. পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরজ। হাদিসে স্পষ্টভাবে দিনে-রাতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরজ হওয়ার কথা বলা হয়েছে। তাই কোনো মুসলমানের জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে সালাত পরিত্যাগ করা অত্যন্ত ভয়াবহ বিষয়।
৫. জাকাত ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ ফরজ। সালাতের পর জাকাতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বোঝা যায়, ইসলামে সম্পদের অধিকার শুধু ধনীর ব্যক্তিগত বিষয় নয়; সম্পদের মধ্যে দরিদ্র ও অসহায় মানুষেরও হক রয়েছে।
৬. জাকাত ধনীদের কাছ থেকে নিয়ে দরিদ্রদের দেওয়া হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, জাকাত ধনীদের কাছ থেকে গ্রহণ করে দরিদ্রদের মধ্যে বণ্টন করা হবে। এতে ইসলামের সামাজিক ন্যায়বিচার ও অর্থনৈতিক ভারসাম্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক প্রকাশ পেয়েছে।
৭. জুলুম ও মানুষের অধিকার নষ্ট করা ভয়াবহ অপরাধ। হাদিসের শেষাংশে মজলুমের বদদুআ থেকে সতর্ক করা হয়েছে। অর্থাৎ কারও ওপর অন্যায় করা, তার অধিকার হরণ করা, তার সম্পদ আত্মসাৎ করা কিংবা তাকে কষ্ট দেওয়া অত্যন্ত ভয়াবহ গুনাহ।

ডেইলি দেশ নিউজ ডটকম ডেস্ক 
























