শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারতে ৬৫ ক্রিকেটার নিষিদ্ধ

বয়স জালিয়াতি ও নথিপত্রে তথ্য গোপনের অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় ভারতীয় অনূর্ধ্ব-১৯ দলের তরুণ লেগ স্পিনার রোহিত যাদবকে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ করেছে ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল (সিএবি)। শুধু রোহিতই নন, একই অপরাধে ২০২২ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী পেসার রবি কুমারসহ একযোগে মোট ৬৫ জন ক্রিকেটারকে নিষিদ্ধ করেছে রাজ্য সংস্থাটি।

আসন্ন মৌসুমকে সামনে রেখে খেলোয়াড়দের প্রাক-মৌসুম নথিপত্র ও মূল কাগজপত্র যাচাই-বাছাইয়ের সময় বয়স সংক্রান্ত বড় ধরনের গরমিল উন্মোচিত হয়।

তদন্তে দেখা যায়, বাংলার বয়সভিত্তিক দলে খেলা রোহিত যাদবের প্রকৃত বয়সের সঙ্গে জমা দেওয়া নথির বয়সের প্রায় ২৭ মাসের ফারাক রয়েছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পরই তাঁকে ভারত অনূর্ধ্ব-১৯ দল থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। চলতি মাসের শেষদিকে অস্ট্রেলিয়া অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিপক্ষে সিরিজের জন্য তিনি বিবেচনাধীন ছিলেন। তাঁর এই নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ বোর্ডকে (বিসিসিআই) আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে, যা অবিলম্বে কার্যকর হবে।

একই তদন্ত প্রক্রিয়ায় অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী বাঁহাতি পেসার রবি কুমারসহ আরও ৬৪ জন ক্রিকেটারের বয়স জালিয়াতি ধরা পড়ে। সিএবির তথ্যমতে, রবি কুমারের ক্ষেত্রে আসল বয়সের সঙ্গে নথির বয়সের তফাৎ প্রায় ৪০ মাসেরও বেশি!

স্মরণ করা যেতে পারে, ২০২২ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে মাত্র ৩৪ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ভারতের শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন এই রবি কুমার। পরে একই বছর বাংলার হয়ে রঞ্জি ট্রফিতে তাঁর অভিষেক হলেও ২০২৩ সালের পর থেকে তিনি দলছুট ছিলেন।

সিএবির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রবির বয়সভিত্তিক ক্যারিয়ারের সূচনা থেকে ২০২৫-২৬ মৌসুম পর্যন্ত অর্জিত সমস্ত ব্যক্তিগত রেকর্ড ও পরিসংখ্যান বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ভারতে বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে এই ধরনের জালিয়াতি রোধে বেশ কিছুদিন ধরেই কঠোর অবস্থান নিয়েছে বিসিসিআই। ২০২০ সালে সংস্থাটি ‘সাধারণ ক্ষমা’ নীতি চালু করে স্বেচ্ছায় সঠিক বয়স প্রকাশের সুযোগ দিয়েছিল। পাশাপাশি বর্তমানে অনূর্ধ্ব-১৯ স্তরে বয়স প্রমাণের জন্য জন্মসনদের সাথে স্কুল ও কলেজের প্রয়োজনীয় সব শিক্ষাগত সনদ জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ভারতে ৬৫ ক্রিকেটার নিষিদ্ধ

প্রকাশিত সময় : ১০:২২:৫৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বয়স জালিয়াতি ও নথিপত্রে তথ্য গোপনের অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় ভারতীয় অনূর্ধ্ব-১৯ দলের তরুণ লেগ স্পিনার রোহিত যাদবকে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ করেছে ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল (সিএবি)। শুধু রোহিতই নন, একই অপরাধে ২০২২ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী পেসার রবি কুমারসহ একযোগে মোট ৬৫ জন ক্রিকেটারকে নিষিদ্ধ করেছে রাজ্য সংস্থাটি।

আসন্ন মৌসুমকে সামনে রেখে খেলোয়াড়দের প্রাক-মৌসুম নথিপত্র ও মূল কাগজপত্র যাচাই-বাছাইয়ের সময় বয়স সংক্রান্ত বড় ধরনের গরমিল উন্মোচিত হয়।

তদন্তে দেখা যায়, বাংলার বয়সভিত্তিক দলে খেলা রোহিত যাদবের প্রকৃত বয়সের সঙ্গে জমা দেওয়া নথির বয়সের প্রায় ২৭ মাসের ফারাক রয়েছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পরই তাঁকে ভারত অনূর্ধ্ব-১৯ দল থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। চলতি মাসের শেষদিকে অস্ট্রেলিয়া অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিপক্ষে সিরিজের জন্য তিনি বিবেচনাধীন ছিলেন। তাঁর এই নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ বোর্ডকে (বিসিসিআই) আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে, যা অবিলম্বে কার্যকর হবে।

একই তদন্ত প্রক্রিয়ায় অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী বাঁহাতি পেসার রবি কুমারসহ আরও ৬৪ জন ক্রিকেটারের বয়স জালিয়াতি ধরা পড়ে। সিএবির তথ্যমতে, রবি কুমারের ক্ষেত্রে আসল বয়সের সঙ্গে নথির বয়সের তফাৎ প্রায় ৪০ মাসেরও বেশি!

স্মরণ করা যেতে পারে, ২০২২ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে মাত্র ৩৪ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ভারতের শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন এই রবি কুমার। পরে একই বছর বাংলার হয়ে রঞ্জি ট্রফিতে তাঁর অভিষেক হলেও ২০২৩ সালের পর থেকে তিনি দলছুট ছিলেন।

সিএবির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রবির বয়সভিত্তিক ক্যারিয়ারের সূচনা থেকে ২০২৫-২৬ মৌসুম পর্যন্ত অর্জিত সমস্ত ব্যক্তিগত রেকর্ড ও পরিসংখ্যান বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ভারতে বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে এই ধরনের জালিয়াতি রোধে বেশ কিছুদিন ধরেই কঠোর অবস্থান নিয়েছে বিসিসিআই। ২০২০ সালে সংস্থাটি ‘সাধারণ ক্ষমা’ নীতি চালু করে স্বেচ্ছায় সঠিক বয়স প্রকাশের সুযোগ দিয়েছিল। পাশাপাশি বর্তমানে অনূর্ধ্ব-১৯ স্তরে বয়স প্রমাণের জন্য জন্মসনদের সাথে স্কুল ও কলেজের প্রয়োজনীয় সব শিক্ষাগত সনদ জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।