অনেক সময় দেখা যায় ফোন হঠাৎ খুব ধীরে কাজ করে। আবার কখনো দেখা যায় ব্যাটা রি খুব বেশি চলে যাচ্ছে কিন্তু কোনও অ্যাপস চলছে না।
আর এইসব ছোট বিষয়গুলো দেখলে বাড়তি সতর্ক হতে বলছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা। কারণ অনেক সময় দেখা যায়, এসব হতে পারে ফোন হ্যাক হওয়ার ইঙ্গিত।
বর্তমান সময়ে স্মার্টফোন কেবল যোগাযোগের মাধ্যম নয়। আমাদের ব্যক্তিগত তথ্য, ছবি আরও নানান গুরুত্বপূর্ণ বিষয় থাকে এতে।
তাই সময়ের সঙ্গে ফোন খুব গুরুত্বপূর্ণ ডিভাইস হয়ে উঠেছে। আর এই বিষয়টা হ্যাকাররাও ভালোভাবে জানে। তাই অনেক সময় দেখা যায় স্মার্টফোন হ্যাক করে তারা। তাই বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু অস্বাভাবিক আচরণ খেয়াল করলেই প্রাথমিকভাবে বোঝা সম্ভব ফোনটি নিরাপদ আছে কি না।
প্রযুক্তি বিষয়ক ওয়েবসাইট অল অ্যাবাউট কুকিজের এক প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞরা এমন ৫টি লক্ষণের বিশ্যেস সতর্ক করেছেন।
এগুলো হল—
হঠাৎ ফোন ধীর হয়ে যাওয়া
নতুন বা তুলনামূলক ভালো অবস্থার ফোন হঠাৎ ধীর হয়ে গেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা দরকার। অস্বাভাবিকভাবে ব্যাটারি দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়া, ফোন অতিরিক্ত গরম হওয়া, অ্যাপ আটকে যাওয়া কিংবা বারবার পর্দা জমে যাওয়াও সন্দেহের কারণ হতে পারে। তবে ফোনের ব্যাটারি পুরোনো হলে দ্রুত শেষ হলে কিংবা ধীর হয়ে গেলে সেটা স্বাভাবিকভাবেও হতে পারে। তাই শুধু এই একটি লক্ষণ দেখেই ফোন হ্যাক হয়েছে ধরে নেয়া ঠিক নয়।
আপনার অজান্তে অস্বাভাবিক কর্মকাণ্ড
আপনি কোনো বার্তা না পাঠালেও পরিচিতরা যদি জানান যে আপনার নম্বর থেকে অদ্ভুত বার্তা বা সন্দেহজনক লিংক পেয়েছেন, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখুন। কোনো অননুমোদিত ব্যক্তি আপনার অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করে এমন বার্তা পাঠানোর চেষ্টা করতে পারে।
ইন্টারনেটের ব্যবহার বেড়ে যাওয়া
অনেক সময় দেখা যায় আপনি প্রতিদিন যেসব কাজ করতেই সেগুলোই করে যাচ্ছেন কিন্তু ইন্টারনেটের ব্যবহার বেড়েই যাচ্ছে। যদি আপানার ফোনে হঠাৎ মোবাইল ইন্টারনেটের খরচ অনেক বেড়ে যায়, তাহলে ফোনে থাকা কোনো সন্দেহজনক অ্যাপ পেছনে থেকে তথ্য পাঠাচ্ছে কি না তা পরীক্ষা করা ভালো। ফোনের সেটিংসে গিয়ে কোন অ্যাপ কতটা ইন্টারনেট ব্যবহার করছে, সেটিও দেখে নিতে পারেন।
অচেনা ডিভাইস বা অ্যাকাউন্টে প্রবেশ
আপনার গুগল, অ্যাপল বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টে কোন কোন ডিভাইস যুক্ত আছে, তা নিয়মিত পরীক্ষা করুন। অপরিচিত কোনো ডিভাইস দেখতে পেলে সেটি সরিয়ে দিয়ে দ্রুত পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করুন। পাশাপাশি দুই ধাপের নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করা ভালো।
ফোনে এমন কোনো অ্যাপ দেখতে পেলেন, যেটি আপনি নিজে ইনস্টল করেননি? বিষয়টি অবহেলা করবেন না। বিশেষ করে অপরিচিত উৎস থেকে ইনস্টল করা অ্যাপ ফোনের নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। অ্যাপটির পরিচয় ও প্রয়োজনীয়তা নিশ্চিত না হলে সেটি সরিয়ে দেওয়া নিরাপদ।
যেভাবে ফোন হ্যাক হতে পারেফোন হ্যাকের অন্যতম কারণ সন্দেহজনক লিংকে ক্লিক করা। অপরিচিত বার্তা, ই-মেইল বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে পাঠানো ক্ষতিকর লিংকে ক্লিক করলে ফোনে ক্ষতিকর সফটওয়্যার ঢুকে যেতে পারে।
ক্ষতিকর অ্যাপস ব্যবহার
প্লেস্টোর এবং অ্যাপল স্টোর ছাড়া অন্যান্য জায়গা থেকে অ্যাপ ডাউনলোড করলে ফোন হ্যাক হতে পারে। অনেক সময় হ্যাকার এইসব অ্যাপস দিয়ে রাখে যা ডাউনলোড করলেই ফোনের তথ্য গায়েবের পাশাপাশি হ্যাকও হয়ে থাকে।
নিরাপত্তার গুরুত্ব না দেয়া
দুর্বল পাসওয়ার্ড ব্যবহার ও ফোনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিবর্তন করে অননুমোদিত সফটওয়্যার ইনস্টল ফোনের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
ফ্রি ওয়াই-ফাই ব্যবহার
ক্যাফে, বিমানবন্দর, হোটেল কিংবা অন্য কোনো জনসমাগমপূর্ণ স্থানে থাকা অনিরাপদ উন্মুক্ত ওয়াই-ফাই ব্যবহার করার সময়ও সতর্ক থাকা প্রয়োজন। সাইবার অপরাধীরা কখনো কখনো ভুয়া ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক তৈরি করে ব্যবহারকারীর তথ্য হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টা করতে পারে।
ফোন নিরাপদ রাখতে যা করবেন
ফোনের পরিচালন ব্যবস্থা ও সব অ্যাপ নিয়মিত হালনাগাদ রাখুন। শক্তিশালী ও আলাদা পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন এবং গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টে দুই ধাপের নিরাপত্তা চালু রাখুন। অপরিচিত লিংকে ক্লিক করা এবং অবিশ্বস্ত উৎস থেকে অ্যাপ ইনস্টল করা এড়িয়ে চলুন। পাশাপাশি নিয়মিত ফোনের অ্যাপ, অ্যাকাউন্টে যুক্ত ডিভাইস এবং ইন্টারনেট ব্যবহারের হিসাব পরীক্ষা করুন।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো একটি লক্ষণ দেখেই আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে একসঙ্গে একাধিক অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে পরীক্ষা করা উচিত। প্রয়োজনে গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করুন।

ডেইলি দেশ নিউজ ডটকম ডেস্ক 

























