বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আজ আকাশে দেখা মিলবে উল্কাবৃষ্টির, দেখবেন যখন

মহাজাগতিক এই দৃশ্যের অপেক্ষায় থাকা আকাশপ্রেমীদের জন্য অপেক্ষা শেষ হতে চলেছে। বছরের অন্যতম উজ্জ্বল উল্কাবৃষ্টি দেখা মিলতে যাচ্ছে নতুন চাঁদের কারণে। আকাশে থাকবে কম আলো, ফলে অনুকূল আবহাওয়ায় একের পর এক উল্কার ঝলক দেখার সুযোগ মিলতে পারে। এমনকি বুধবার (১২ আগট) রাতে বাংলাদেশের আকাশে দেখা যাবে। খবর ইন্ডিয়া টুডের

বাংলাদেশসহ ভারতের আকাশে মধ্যরাতের পর থেকে ভোর পর্যন্ত এই মহাজাগতিক দৃশ্য দেখার সুযোগ রয়েছে। সবচেয়ে ভালো সময় মধ্যরাতের পর থেকে ভোর পর্যন্ত। বিশেষ করে রাত ২টা থেকে ভোর ৫টার মধ্যে আকাশে উল্কা দেখার সম্ভাবনা বেশি বলে জানিয়েছে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা।

পারসিড উল্কাবৃষ্টি সাধারণত উজ্জ্বল ও দ্রুতগতির উল্কার জন্য পরিচিত। কখনো কখনো এর সঙ্গে অত্যন্ত উজ্জ্বল ‘ফায়ারবল’ও দেখা যায়। অনুকূল পরিবেশে ঘণ্টায় কয়েক ডজন উল্কা দেখা যেতে পারে, আর সর্বোচ্চ পর্যায়ে এই সংখ্যা ৫০ থেকে ১০০ পর্যন্ত হতে পারে। তবে বাস্তবে কতগুলো উল্কা দেখা যাবে, তা নির্ভর করবে মেঘ, কৃত্রিম আলো এবং আকাশের অবস্থার ওপর।

উল্কাবৃষ্টি দেখার জন্য শহরের আলো থেকে দূরে খোলা জায়গা বেছে নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। গ্রামাঞ্চল, পাহাড়ি এলাকা কিংবা যেখানে কৃত্রিম আলোর পরিমাণ কম, সেখান থেকে দৃশ্যটি সবচেয়ে ভালো দেখা যেতে পারে। অন্ধকারে চোখকে মানিয়ে নিতে অন্তত ২০ থেকে ৩০ মিনিট সময় দিতে হবে। এ সময় মোবাইল ফোনের উজ্জ্বল স্ক্রিন এড়িয়ে চলাও জরুরি।

পারসিড উল্কাবৃষ্টির সৃষ্টি হয়েছে ১০৯পি/সুইফট-টাটল ধূমকেতুর রেখে যাওয়া ধ্বংসাবশেষ থেকে। পৃথিবী সূর্যকে প্রদক্ষিণ করার সময় প্রতিবছর এই ধূমকেতুর ধুলোময় পথের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করে। তখন ক্ষুদ্র কণাগুলো ঘণ্টায় প্রায় ৫৯ কিলোমিটার গতিতে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে উত্তপ্ত হয়ে বাষ্পীভূত হয়। এর ফলেই আকাশে তৈরি হয় উজ্জ্বল আলোর রেখা।

এই উল্কাগুলোকে আকাশের পারসিয়াস নক্ষত্রমণ্ডল থেকে আসতে দেখা যায়। তাই এর নাম হয়েছে পারসিড। তবে প্রকৃতপক্ষে পারসিয়াস থেকে উল্কাগুলো আসছে না; পৃথিবী থেকে দেখলে ওই দিক থেকে আসছে বলে মনে হয়। প্রতিবছরই পারসিড উল্কাবৃষ্টি দেখা যায়। তবে এবারেরটা বিশেষভাবে গুরুত্ব দেয়ার কারণ নতুন চাঁদ। ফলে চাঁদের আলো কম থাকায় আকাশের ক্ষীণ উল্কাগুলোও তুলনামূলক সহজে দেখা যেতে পারে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আজ আকাশে দেখা মিলবে উল্কাবৃষ্টির, দেখবেন যখন

প্রকাশিত সময় : ০৯:৪৯:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬
মহাজাগতিক এই দৃশ্যের অপেক্ষায় থাকা আকাশপ্রেমীদের জন্য অপেক্ষা শেষ হতে চলেছে। বছরের অন্যতম উজ্জ্বল উল্কাবৃষ্টি দেখা মিলতে যাচ্ছে নতুন চাঁদের কারণে। আকাশে থাকবে কম আলো, ফলে অনুকূল আবহাওয়ায় একের পর এক উল্কার ঝলক দেখার সুযোগ মিলতে পারে। এমনকি বুধবার (১২ আগট) রাতে বাংলাদেশের আকাশে দেখা যাবে। খবর ইন্ডিয়া টুডের

বাংলাদেশসহ ভারতের আকাশে মধ্যরাতের পর থেকে ভোর পর্যন্ত এই মহাজাগতিক দৃশ্য দেখার সুযোগ রয়েছে। সবচেয়ে ভালো সময় মধ্যরাতের পর থেকে ভোর পর্যন্ত। বিশেষ করে রাত ২টা থেকে ভোর ৫টার মধ্যে আকাশে উল্কা দেখার সম্ভাবনা বেশি বলে জানিয়েছে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা।

পারসিড উল্কাবৃষ্টি সাধারণত উজ্জ্বল ও দ্রুতগতির উল্কার জন্য পরিচিত। কখনো কখনো এর সঙ্গে অত্যন্ত উজ্জ্বল ‘ফায়ারবল’ও দেখা যায়। অনুকূল পরিবেশে ঘণ্টায় কয়েক ডজন উল্কা দেখা যেতে পারে, আর সর্বোচ্চ পর্যায়ে এই সংখ্যা ৫০ থেকে ১০০ পর্যন্ত হতে পারে। তবে বাস্তবে কতগুলো উল্কা দেখা যাবে, তা নির্ভর করবে মেঘ, কৃত্রিম আলো এবং আকাশের অবস্থার ওপর।

উল্কাবৃষ্টি দেখার জন্য শহরের আলো থেকে দূরে খোলা জায়গা বেছে নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। গ্রামাঞ্চল, পাহাড়ি এলাকা কিংবা যেখানে কৃত্রিম আলোর পরিমাণ কম, সেখান থেকে দৃশ্যটি সবচেয়ে ভালো দেখা যেতে পারে। অন্ধকারে চোখকে মানিয়ে নিতে অন্তত ২০ থেকে ৩০ মিনিট সময় দিতে হবে। এ সময় মোবাইল ফোনের উজ্জ্বল স্ক্রিন এড়িয়ে চলাও জরুরি।

পারসিড উল্কাবৃষ্টির সৃষ্টি হয়েছে ১০৯পি/সুইফট-টাটল ধূমকেতুর রেখে যাওয়া ধ্বংসাবশেষ থেকে। পৃথিবী সূর্যকে প্রদক্ষিণ করার সময় প্রতিবছর এই ধূমকেতুর ধুলোময় পথের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করে। তখন ক্ষুদ্র কণাগুলো ঘণ্টায় প্রায় ৫৯ কিলোমিটার গতিতে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে উত্তপ্ত হয়ে বাষ্পীভূত হয়। এর ফলেই আকাশে তৈরি হয় উজ্জ্বল আলোর রেখা।

এই উল্কাগুলোকে আকাশের পারসিয়াস নক্ষত্রমণ্ডল থেকে আসতে দেখা যায়। তাই এর নাম হয়েছে পারসিড। তবে প্রকৃতপক্ষে পারসিয়াস থেকে উল্কাগুলো আসছে না; পৃথিবী থেকে দেখলে ওই দিক থেকে আসছে বলে মনে হয়। প্রতিবছরই পারসিড উল্কাবৃষ্টি দেখা যায়। তবে এবারেরটা বিশেষভাবে গুরুত্ব দেয়ার কারণ নতুন চাঁদ। ফলে চাঁদের আলো কম থাকায় আকাশের ক্ষীণ উল্কাগুলোও তুলনামূলক সহজে দেখা যেতে পারে।