রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্কুল ফাঁকি দিয়ে মেঘনায় গোসল, দুই জমজ ভাইসহ ৩ শিক্ষার্থীর মৃত্যু

স্কুলে না গিয়ে কাশবন দেখতে বের হয়েছিল কয়েক শিক্ষার্থী। একপর্যায়ে মেঘনা নদীতে গোসল করতে নামে তারা। কিন্তু আনন্দের সেই মুহূর্তই পরিণত হয় মর্মান্তিক ঘটনায়। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে নদীতে গোসল করতে নেমে দুই জমজ ভাইসহ তিন শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের ভাটিবন্দর এলাকায় মেঘনা নদী ও কাশবনসংলগ্ন স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত দুই ভাই হলো—সোনারগাঁ উপজেলার মোগরাপাড়া সরকারি স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী আশেকিন (১৫) ও তার জমজ ভাই আরেফিন (১৫)। তারা মোগরাপাড়া ইউনিয়নের বাড়িমজলিশ এলাকার ফারুক আহমেদের ছেলে। নিহত অপর শিক্ষার্থী আবিরের (১৪) বাড়িও একই এলাকায়। সে একই বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং ফারুক মিয়ার ভাড়াটিয়া।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যাওয়া ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী আদিয়ান ফারিজ (১২) জানায়, তারা সেদিন স্কুলে না গিয়ে ভাটিবন্দর এলাকায় কাশবন দেখতে গিয়েছিল। একপর্যায়ে সবাই মিলে মেঘনা নদীতে গোসল করতে নামে।

আদিয়ান ফারিজ বলেন, তিনি নদীর তীরের কাছাকাছি থাকায় সাঁতরে নিরাপদে উঠে আসতে পারেন। কিন্তু তার দুই চাচাতো ভাই ও তাদের এক বন্ধু নদীর পাড়ে থাকা একটি বালুর ট্রলারে ওঠে। ট্রলার থেকে নামার সময় তারা হঠাৎ পানিতে তলিয়ে যেতে থাকে। তার চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে আসেন এবং পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়।

খবর পেয়ে সোনারগাঁ ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও নৌপুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। প্রায় দুই ঘণ্টার অভিযানে আশেকিন ও আরেফিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর প্রায় আধা ঘণ্টা পর অপর শিক্ষার্থী আবিরের মরদেহও উদ্ধার করা হয়।

সোনারগাঁ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা জাহেদ চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ভাটিবন্দর এলাকায় মেঘনা নদীতে তিন শিক্ষার্থী নিখোঁজের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় প্রথমে দুই শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে আধা ঘণ্টার ব্যবধানে অপর শিক্ষার্থীর মরদেহও উদ্ধার করা হয়।

সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল বারিক বলেন, এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল। মরদেহগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনানুগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

দুই জমজ ভাইয়ের এমন অকালমৃত্যুতে তাদের পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। একই সঙ্গে পুরো বাড়িমজলিশ এলাকায় চলছে শোকের মাতম।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

স্কুল ফাঁকি দিয়ে মেঘনায় গোসল, দুই জমজ ভাইসহ ৩ শিক্ষার্থীর মৃত্যু

প্রকাশিত সময় : ০৭:৩০:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে না গিয়ে কাশবন দেখতে বের হয়েছিল কয়েক শিক্ষার্থী। একপর্যায়ে মেঘনা নদীতে গোসল করতে নামে তারা। কিন্তু আনন্দের সেই মুহূর্তই পরিণত হয় মর্মান্তিক ঘটনায়। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে নদীতে গোসল করতে নেমে দুই জমজ ভাইসহ তিন শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের ভাটিবন্দর এলাকায় মেঘনা নদী ও কাশবনসংলগ্ন স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত দুই ভাই হলো—সোনারগাঁ উপজেলার মোগরাপাড়া সরকারি স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী আশেকিন (১৫) ও তার জমজ ভাই আরেফিন (১৫)। তারা মোগরাপাড়া ইউনিয়নের বাড়িমজলিশ এলাকার ফারুক আহমেদের ছেলে। নিহত অপর শিক্ষার্থী আবিরের (১৪) বাড়িও একই এলাকায়। সে একই বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং ফারুক মিয়ার ভাড়াটিয়া।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যাওয়া ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী আদিয়ান ফারিজ (১২) জানায়, তারা সেদিন স্কুলে না গিয়ে ভাটিবন্দর এলাকায় কাশবন দেখতে গিয়েছিল। একপর্যায়ে সবাই মিলে মেঘনা নদীতে গোসল করতে নামে।

আদিয়ান ফারিজ বলেন, তিনি নদীর তীরের কাছাকাছি থাকায় সাঁতরে নিরাপদে উঠে আসতে পারেন। কিন্তু তার দুই চাচাতো ভাই ও তাদের এক বন্ধু নদীর পাড়ে থাকা একটি বালুর ট্রলারে ওঠে। ট্রলার থেকে নামার সময় তারা হঠাৎ পানিতে তলিয়ে যেতে থাকে। তার চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে আসেন এবং পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়।

খবর পেয়ে সোনারগাঁ ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও নৌপুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। প্রায় দুই ঘণ্টার অভিযানে আশেকিন ও আরেফিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর প্রায় আধা ঘণ্টা পর অপর শিক্ষার্থী আবিরের মরদেহও উদ্ধার করা হয়।

সোনারগাঁ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা জাহেদ চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ভাটিবন্দর এলাকায় মেঘনা নদীতে তিন শিক্ষার্থী নিখোঁজের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় প্রথমে দুই শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে আধা ঘণ্টার ব্যবধানে অপর শিক্ষার্থীর মরদেহও উদ্ধার করা হয়।

সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল বারিক বলেন, এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল। মরদেহগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনানুগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

দুই জমজ ভাইয়ের এমন অকালমৃত্যুতে তাদের পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। একই সঙ্গে পুরো বাড়িমজলিশ এলাকায় চলছে শোকের মাতম।