শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘ইন্টারভিউতে নীতিকথা, কিন্তু ব্যক্তিজীবনে তারা সুন্দর মানুষ নন’

পর্দায় কিংবা সাক্ষাৎকারে নীতি, আদর্শ ও সুন্দর জীবনযাপনের কথা বলেন অনেকে। কিন্তু সেই কথার সঙ্গে ব্যক্তিজীবনের বাস্তবতার কতটা মিল আছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের এমন দ্বৈত আচরণ নিয়েই এবার সরব হয়েছেন অভিনেত্রী আশনা হাবিব ভাবনা। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি মনে করেন, শুধু মুখের কথায় নয়, একজন শিল্পীর পরিচয় হওয়া উচিত তার কাজ ও ব্যক্তিত্বে।

ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত ভাবনা। কাজের সুবাদে বিনোদন অঙ্গনের নানা দিক কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে তার। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এবার কিছু অপ্রিয় বাস্তবতার কথা প্রকাশ্যে তুলে ধরেছেন এই অভিনেত্রী।

আশনা হাবিব ভাবনা

আশনা হাবিব ভাবনা

ভাবনার ভাষ্য, ইন্ডাস্ট্রিতে এমন অনেক পরিচিত শিল্পী রয়েছেন, যারা সাক্ষাৎকারে বড় বড় নীতিকথা বলেন, অথচ ব্যক্তিজীবনে তাদের আচরণ ও জীবনযাপন সেই বক্তব্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

ব্যাখ্যা করে ভাবনা বলেন, “আমি আসলে মিথ্যা বলব না। খুব ছোটবেলায় ইন্ডাস্ট্রিতে পা রেখেছি। অনেকবারই শুনতে হয়েছে, ‘ও আচ্ছা, তুমি ড্রিংক করো না?’ এসব কথা আসলে বলাও অনুচিত। তবে অনেককেই দেখা যায়, ইন্টারভিউতে বড় বড় নীতিকথা বলতে, কিন্তু ব্যক্তিগত জীবনে তারা একদমই সুন্দর মানুষ নন। সেটা আমরা সবাই দেখতে পাই।”

জীবনের এই পর্যায়ে এসে নিজের উপলব্ধি প্রকাশে আর দ্বিধা করতে চান না ভাবনা। তার ভাষায়, মানুষের জীবন অনিশ্চিত, তাই সত্য কথা বলার ক্ষেত্রেও এখন আর পিছিয়ে থাকতে চান না তিনি।

আশনা হাবিব ভাবনা

আশনা হাবিব ভাবনা

যা বলতে ইচ্ছে করে, তাই বলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ভাবনা। তিনি বলেন, “এখন আমার মনে হয়, আমি বড় হয়েছি। যেকোনো সময় মানুষ মারা যেতে পারে, এই ভাবনা এখন আমার ভেতরে কাজ করে। তাই যা বলতে ইচ্ছা করে, তা-ই বলব। যারা ইন্টারভিউতে নীতিকথা ছড়িয়ে বেড়ায়, আবার আড়ালে গিয়ে ড্রাগ বা উল্টাপাল্টা জিনিসপত্র সেবন করে এবং সেটাকে এক ধরনের অনুপ্রেরণা হিসেবে তৈরি করার চেষ্টা করে, তারা আমার কাছে শিল্পী হিসেবে কোনো মূল্য বহন করে না।”

একজন শিল্পীর শুধু বিনোদন দেওয়াই দায়িত্ব নয়, সমাজের প্রতিও তার দায়বদ্ধতা রয়েছে বলে মনে করেন ভাবনা। এ প্রসঙ্গে তিনি অভিনেতা ও নির্দেশক সৈয়দ জামিল আহমেদের উদাহরণ টেনে বলেন, “কাজই একজন শিল্পীর সবচেয়ে বড় পরিচয় হওয়া উচিত।”

আশনা হাবিব ভাবনা

আশনা হাবিব ভাবনা

সমাজের প্রতি শিল্পীদের কিছু দায়বদ্ধতা আছে, তা স্মরণ করে ভাবনা বলেন, “আপনি যখন শিল্পী, তখন সমাজের প্রতি আপনার কিছু দায়িত্ব থাকে। আপনি কেন এ ধরনের অমূলক জীবনযাপন করবেন? সৈয়দ জামিল আহমেদের মতো ব্যক্তিত্বকে দেখুন, তার তো কোনো নেশা করতে হয় না! তিনি প্রতিনিয়ত এত কাজ করেন যে তার কাজই তার পরিচয় হয়ে কথা বলে। তাই যারা সন্ধ্যা নামলেই আজেবাজে জিনিসপত্র খাওয়া শুরু করে, খুব দুঃখের সঙ্গে বলতে হচ্ছে, তাদের আমি কোনোভাবেই প্রকৃত শিল্পী মনে করি না।”

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

চীনা সংস্থাগুলোর গোয়েন্দা তথ্য মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলায় ইরানের সক্ষমতা বাড়িয়েছে

‘ইন্টারভিউতে নীতিকথা, কিন্তু ব্যক্তিজীবনে তারা সুন্দর মানুষ নন’

প্রকাশিত সময় : ০৯:১৯:৩৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পর্দায় কিংবা সাক্ষাৎকারে নীতি, আদর্শ ও সুন্দর জীবনযাপনের কথা বলেন অনেকে। কিন্তু সেই কথার সঙ্গে ব্যক্তিজীবনের বাস্তবতার কতটা মিল আছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের এমন দ্বৈত আচরণ নিয়েই এবার সরব হয়েছেন অভিনেত্রী আশনা হাবিব ভাবনা। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি মনে করেন, শুধু মুখের কথায় নয়, একজন শিল্পীর পরিচয় হওয়া উচিত তার কাজ ও ব্যক্তিত্বে।

ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত ভাবনা। কাজের সুবাদে বিনোদন অঙ্গনের নানা দিক কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে তার। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এবার কিছু অপ্রিয় বাস্তবতার কথা প্রকাশ্যে তুলে ধরেছেন এই অভিনেত্রী।

আশনা হাবিব ভাবনা

আশনা হাবিব ভাবনা

ভাবনার ভাষ্য, ইন্ডাস্ট্রিতে এমন অনেক পরিচিত শিল্পী রয়েছেন, যারা সাক্ষাৎকারে বড় বড় নীতিকথা বলেন, অথচ ব্যক্তিজীবনে তাদের আচরণ ও জীবনযাপন সেই বক্তব্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

ব্যাখ্যা করে ভাবনা বলেন, “আমি আসলে মিথ্যা বলব না। খুব ছোটবেলায় ইন্ডাস্ট্রিতে পা রেখেছি। অনেকবারই শুনতে হয়েছে, ‘ও আচ্ছা, তুমি ড্রিংক করো না?’ এসব কথা আসলে বলাও অনুচিত। তবে অনেককেই দেখা যায়, ইন্টারভিউতে বড় বড় নীতিকথা বলতে, কিন্তু ব্যক্তিগত জীবনে তারা একদমই সুন্দর মানুষ নন। সেটা আমরা সবাই দেখতে পাই।”

জীবনের এই পর্যায়ে এসে নিজের উপলব্ধি প্রকাশে আর দ্বিধা করতে চান না ভাবনা। তার ভাষায়, মানুষের জীবন অনিশ্চিত, তাই সত্য কথা বলার ক্ষেত্রেও এখন আর পিছিয়ে থাকতে চান না তিনি।

আশনা হাবিব ভাবনা

আশনা হাবিব ভাবনা

যা বলতে ইচ্ছে করে, তাই বলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ভাবনা। তিনি বলেন, “এখন আমার মনে হয়, আমি বড় হয়েছি। যেকোনো সময় মানুষ মারা যেতে পারে, এই ভাবনা এখন আমার ভেতরে কাজ করে। তাই যা বলতে ইচ্ছা করে, তা-ই বলব। যারা ইন্টারভিউতে নীতিকথা ছড়িয়ে বেড়ায়, আবার আড়ালে গিয়ে ড্রাগ বা উল্টাপাল্টা জিনিসপত্র সেবন করে এবং সেটাকে এক ধরনের অনুপ্রেরণা হিসেবে তৈরি করার চেষ্টা করে, তারা আমার কাছে শিল্পী হিসেবে কোনো মূল্য বহন করে না।”

একজন শিল্পীর শুধু বিনোদন দেওয়াই দায়িত্ব নয়, সমাজের প্রতিও তার দায়বদ্ধতা রয়েছে বলে মনে করেন ভাবনা। এ প্রসঙ্গে তিনি অভিনেতা ও নির্দেশক সৈয়দ জামিল আহমেদের উদাহরণ টেনে বলেন, “কাজই একজন শিল্পীর সবচেয়ে বড় পরিচয় হওয়া উচিত।”

আশনা হাবিব ভাবনা

আশনা হাবিব ভাবনা

সমাজের প্রতি শিল্পীদের কিছু দায়বদ্ধতা আছে, তা স্মরণ করে ভাবনা বলেন, “আপনি যখন শিল্পী, তখন সমাজের প্রতি আপনার কিছু দায়িত্ব থাকে। আপনি কেন এ ধরনের অমূলক জীবনযাপন করবেন? সৈয়দ জামিল আহমেদের মতো ব্যক্তিত্বকে দেখুন, তার তো কোনো নেশা করতে হয় না! তিনি প্রতিনিয়ত এত কাজ করেন যে তার কাজই তার পরিচয় হয়ে কথা বলে। তাই যারা সন্ধ্যা নামলেই আজেবাজে জিনিসপত্র খাওয়া শুরু করে, খুব দুঃখের সঙ্গে বলতে হচ্ছে, তাদের আমি কোনোভাবেই প্রকৃত শিল্পী মনে করি না।”