বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাঠের সংঘর্ষে স্প্যানিশ ফুটবলারের মৃত্যু

ফুটবল মাঠে আনন্দ-উচ্ছ্বাসের বদলে নেমে এলো শোকের ছায়া। ম্যাচ চলাকালে প্রতিপক্ষ গোলরক্ষকের সঙ্গে ভয়াবহ সংঘর্ষে গুরুতর আহত হয়ে মারা গেছেন স্প্যানিশ ফুটবলার হেসুস দে মিগুয়েল। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে স্পেনের দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব তেনেরিফে।

মৃত্যুকালে দে মিগুয়েলের বয়স হয়েছিল মাত্র ৩০ বছর। সোমবার রাতে এফসি আন্দোরার বিপক্ষে ম্যাচে ঘটে মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি। তেনেরিফের মাঠ এস্তাদিও হেলিওদোরো রদ্রিগেজ লোপেজে অনুষ্ঠিত ম্যাচটি তখন যোগ করা সময়ের সপ্তম মিনিটে। ২-০ গোলে এগিয়ে থাকা তেনেরিফের হয়ে ৫৯ মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন দে মিগুয়েল। তবে শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি ২-২ সমতায় পৌছায়।

ম্যাচের একপর্যায়ে তেনেরিফের রক্ষণভাগ থেকে ক্লিয়ার করা বলটি মাঝমাঠের দিকে চলে যায়। বলের নিয়ন্ত্রণ নিতে এগিয়ে আসেন এফসি আন্দোরার গোলরক্ষক ও নিরক্ষীয় গিনির জাতীয় দলের ফুটবলার হেসুস ওওনো। সেই সময় দে মিগুয়েলের সঙ্গে তার ভয়াবহ সংঘর্ষ হয়। গোলরক্ষকের হাটু দে মিগুয়েলের বুকে আঘাত করে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

সংঘর্ষের পরপরই মাঠে লুটিয়ে পড়েন দে মিগুয়েল। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝতে পেরে দুই দলের খেলোয়াড়েরা দ্রুত চিকিৎসাকর্মীদের মাঠে ডেকে পাঠান। গোলরক্ষক ওওনোকে লাল কার্ড দেখান রেফারি। পরে ম্যাচটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়।

মঙ্গলবার সকালে এক বিবৃতিতে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে তেনেরিফে। ক্লাবটি জানায়, স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন হেসুস দে মিগুয়েল আলামেদা।

শোকবার্তায় ক্লাবটি লিখেছে, ‘ব্যথায় ভেঙে পড়েছি আমরা। গলা ধরে আসছে, কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছি না। আমরা হেসুস দে মিগুয়েল আলামেদার মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর জানাচ্ছি। কোনো শব্দই এই কষ্ট কমাতে পারবে না, কোনো কিছুই এই গভীর শূন্যতা পূরণ করতে পারবে না। তার পরিবার, ঘনিষ্ঠজন এবং তেনেরিফের সমর্থকদের প্রতি আমাদের গভীর সমবেদনা।’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

মাঠের সংঘর্ষে স্প্যানিশ ফুটবলারের মৃত্যু

প্রকাশিত সময় : ১০:৪৬:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

ফুটবল মাঠে আনন্দ-উচ্ছ্বাসের বদলে নেমে এলো শোকের ছায়া। ম্যাচ চলাকালে প্রতিপক্ষ গোলরক্ষকের সঙ্গে ভয়াবহ সংঘর্ষে গুরুতর আহত হয়ে মারা গেছেন স্প্যানিশ ফুটবলার হেসুস দে মিগুয়েল। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে স্পেনের দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব তেনেরিফে।

মৃত্যুকালে দে মিগুয়েলের বয়স হয়েছিল মাত্র ৩০ বছর। সোমবার রাতে এফসি আন্দোরার বিপক্ষে ম্যাচে ঘটে মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি। তেনেরিফের মাঠ এস্তাদিও হেলিওদোরো রদ্রিগেজ লোপেজে অনুষ্ঠিত ম্যাচটি তখন যোগ করা সময়ের সপ্তম মিনিটে। ২-০ গোলে এগিয়ে থাকা তেনেরিফের হয়ে ৫৯ মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন দে মিগুয়েল। তবে শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি ২-২ সমতায় পৌছায়।

ম্যাচের একপর্যায়ে তেনেরিফের রক্ষণভাগ থেকে ক্লিয়ার করা বলটি মাঝমাঠের দিকে চলে যায়। বলের নিয়ন্ত্রণ নিতে এগিয়ে আসেন এফসি আন্দোরার গোলরক্ষক ও নিরক্ষীয় গিনির জাতীয় দলের ফুটবলার হেসুস ওওনো। সেই সময় দে মিগুয়েলের সঙ্গে তার ভয়াবহ সংঘর্ষ হয়। গোলরক্ষকের হাটু দে মিগুয়েলের বুকে আঘাত করে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

সংঘর্ষের পরপরই মাঠে লুটিয়ে পড়েন দে মিগুয়েল। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝতে পেরে দুই দলের খেলোয়াড়েরা দ্রুত চিকিৎসাকর্মীদের মাঠে ডেকে পাঠান। গোলরক্ষক ওওনোকে লাল কার্ড দেখান রেফারি। পরে ম্যাচটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়।

মঙ্গলবার সকালে এক বিবৃতিতে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে তেনেরিফে। ক্লাবটি জানায়, স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন হেসুস দে মিগুয়েল আলামেদা।

শোকবার্তায় ক্লাবটি লিখেছে, ‘ব্যথায় ভেঙে পড়েছি আমরা। গলা ধরে আসছে, কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছি না। আমরা হেসুস দে মিগুয়েল আলামেদার মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর জানাচ্ছি। কোনো শব্দই এই কষ্ট কমাতে পারবে না, কোনো কিছুই এই গভীর শূন্যতা পূরণ করতে পারবে না। তার পরিবার, ঘনিষ্ঠজন এবং তেনেরিফের সমর্থকদের প্রতি আমাদের গভীর সমবেদনা।’