রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বণ্টননামা ছাড়াই ওয়ারিশদের নামজারি করা যাবে, পরিপত্র জারি

মৃত ব্যক্তির ওয়ারিশদের যৌথভাবে দাখিল করা নামজারির আবেদন বণ্টননামা দলিল ছাড়াই করা যাবে।

উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত জমি বা স্থাবর সম্পত্তি নামজারির বিষয়টি স্পষ্ট করে সম্প্রতি ভূমি মন্ত্রণালয়ের জারি করা পরিপত্রে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

পরিপত্র্রে বলা হয়ে, ওয়ারিশ সূত্রে অর্জিত জমির মালিকদের নামজারি দুইভাবে হতে পারে। কোনো মৃত ব্যক্তির সব ওয়ারিশের নাম একটি খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ওয়ারিশরা যৌথভাবে নামজারির আবেদন করতে পারেন। যৌথভাবে নামজারি (জমাভাগ ছাড়া) করার ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র বা সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ড কমিশনারদের কাছ থেকে ওয়ারিশ সনদ সংগ্রহ করে আবেদনের সঙ্গে দাখিল করতে হবে।

এ ধরনের আবেদন পাওয়ার পর সহকারী কমিশনার (ভূমি) নামজারি মামলা দায়ের করে খতিয়ানে মৃত ব্যক্তির মোট জমির মধ্যে প্রত্যেক ওয়ারিশের প্রাপ্য হিস্যা উল্লেখ করে নামজারি খতিয়ান সৃজন করে দেবেন। এ ক্ষেত্রে বণ্টননামা দলিলের প্রয়োজন হবে না।

ওয়ারিশরা যদি জমাভাগের মাধ্যমে পৃথক পৃথক খতিয়ান সৃজন করে আলাদাভাবে ভূমি উন্নয়ন কর দিতে চান তাহলে ওয়ারিশরা প্রাপ্যতা অনুযায়ী কে কোন দাগে বা একটি দাগের কোন অংশে জমি ভোগ-দখল করতে চান, সকল ওয়ারিশ মিলে তা নির্ধারণ করে একটি আপস বণ্টননামা দলিল সম্পাদন করে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে, বলা হয়েছ পরিপত্রে।

এভাবে সৃজিত বণ্টননামা দলিল ব্যবহার করে ওয়ারিশরা পৃথক নামজারির আবেদন করলে প্রত্যেক ওয়ারিশের নামে পৃথক পৃথক নামজারি খতিয়ান সৃজন করা যাবে বলে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়।

অনলাইনেই করতে হবে নামজারির আবেদন

পরিপত্রের নির্দেশনা অনুযায়ী, উত্তরাধিকারমূলে প্রাপ্ত জমি বা স্থাবর সম্পত্তি ওয়ারিশ সনদমূলে উত্তরাধিকাররা যৌথভাবে নামজারি বা রেকর্ড সংশোধনের আবেদন করলে অনেক ক্ষেত্রে তা মঞ্জুর করা হচ্ছে না। ফলে নাগরিকরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। বণ্টননামা দলিল ছাড়া শুধু ওয়ারিশ সনদমূলে খতিয়ানে মৃত ব্যক্তির মোট জমির বিপরীতে প্রত্যেক ওয়ারিশের প্রাপ্য হিস্যা উল্লেখ করে সকল ওয়ারিশদের নামে যৌথ খতিয়ান তৈরি আইনসিদ্ধ।

তবে জমাভাগের মাধ্যমে প্রত্যেক ওয়ারিশের নামে পৃথক পৃথক খতিয়ান তৈরির ক্ষেত্রে ‘রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০’ এর ১৪৩( খ) উপধারা অনুযায়ী অবশ্যই বণ্টননামা দলিলের ভিত্তিতে নামজারি করতে হবে।

একই পরিপত্রে বণ্টননামা দলিল কোন ক্ষেত্রে আবশ্যক, সেটিও বলে দেওয়া হয়েছে। ভূমি মন্ত্রণালয় বলছে, মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত ব্যক্তিদের আগের খতিয়ান (মৃত ব্যক্তির নামে) ভেঙে পৃথক পৃথক খতিয়ান সৃজনের মাধ্যমে জমাভাগ করার ক্ষেত্রেই শুধু বণ্টননামা দলিল আবশ্যক।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

বণ্টননামা ছাড়াই ওয়ারিশদের নামজারি করা যাবে, পরিপত্র জারি

প্রকাশিত সময় : ১০:৫৬:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

মৃত ব্যক্তির ওয়ারিশদের যৌথভাবে দাখিল করা নামজারির আবেদন বণ্টননামা দলিল ছাড়াই করা যাবে।

উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত জমি বা স্থাবর সম্পত্তি নামজারির বিষয়টি স্পষ্ট করে সম্প্রতি ভূমি মন্ত্রণালয়ের জারি করা পরিপত্রে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

পরিপত্র্রে বলা হয়ে, ওয়ারিশ সূত্রে অর্জিত জমির মালিকদের নামজারি দুইভাবে হতে পারে। কোনো মৃত ব্যক্তির সব ওয়ারিশের নাম একটি খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ওয়ারিশরা যৌথভাবে নামজারির আবেদন করতে পারেন। যৌথভাবে নামজারি (জমাভাগ ছাড়া) করার ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র বা সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ড কমিশনারদের কাছ থেকে ওয়ারিশ সনদ সংগ্রহ করে আবেদনের সঙ্গে দাখিল করতে হবে।

এ ধরনের আবেদন পাওয়ার পর সহকারী কমিশনার (ভূমি) নামজারি মামলা দায়ের করে খতিয়ানে মৃত ব্যক্তির মোট জমির মধ্যে প্রত্যেক ওয়ারিশের প্রাপ্য হিস্যা উল্লেখ করে নামজারি খতিয়ান সৃজন করে দেবেন। এ ক্ষেত্রে বণ্টননামা দলিলের প্রয়োজন হবে না।

ওয়ারিশরা যদি জমাভাগের মাধ্যমে পৃথক পৃথক খতিয়ান সৃজন করে আলাদাভাবে ভূমি উন্নয়ন কর দিতে চান তাহলে ওয়ারিশরা প্রাপ্যতা অনুযায়ী কে কোন দাগে বা একটি দাগের কোন অংশে জমি ভোগ-দখল করতে চান, সকল ওয়ারিশ মিলে তা নির্ধারণ করে একটি আপস বণ্টননামা দলিল সম্পাদন করে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে, বলা হয়েছ পরিপত্রে।

এভাবে সৃজিত বণ্টননামা দলিল ব্যবহার করে ওয়ারিশরা পৃথক নামজারির আবেদন করলে প্রত্যেক ওয়ারিশের নামে পৃথক পৃথক নামজারি খতিয়ান সৃজন করা যাবে বলে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়।

অনলাইনেই করতে হবে নামজারির আবেদন

পরিপত্রের নির্দেশনা অনুযায়ী, উত্তরাধিকারমূলে প্রাপ্ত জমি বা স্থাবর সম্পত্তি ওয়ারিশ সনদমূলে উত্তরাধিকাররা যৌথভাবে নামজারি বা রেকর্ড সংশোধনের আবেদন করলে অনেক ক্ষেত্রে তা মঞ্জুর করা হচ্ছে না। ফলে নাগরিকরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। বণ্টননামা দলিল ছাড়া শুধু ওয়ারিশ সনদমূলে খতিয়ানে মৃত ব্যক্তির মোট জমির বিপরীতে প্রত্যেক ওয়ারিশের প্রাপ্য হিস্যা উল্লেখ করে সকল ওয়ারিশদের নামে যৌথ খতিয়ান তৈরি আইনসিদ্ধ।

তবে জমাভাগের মাধ্যমে প্রত্যেক ওয়ারিশের নামে পৃথক পৃথক খতিয়ান তৈরির ক্ষেত্রে ‘রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০’ এর ১৪৩( খ) উপধারা অনুযায়ী অবশ্যই বণ্টননামা দলিলের ভিত্তিতে নামজারি করতে হবে।

একই পরিপত্রে বণ্টননামা দলিল কোন ক্ষেত্রে আবশ্যক, সেটিও বলে দেওয়া হয়েছে। ভূমি মন্ত্রণালয় বলছে, মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত ব্যক্তিদের আগের খতিয়ান (মৃত ব্যক্তির নামে) ভেঙে পৃথক পৃথক খতিয়ান সৃজনের মাধ্যমে জমাভাগ করার ক্ষেত্রেই শুধু বণ্টননামা দলিল আবশ্যক।