রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ওমরাহ ভিসা বন্ধ হয়‌নি, তথ্যসহ সৌদি এজেন্টের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ

বাংলাদেশিদের জন্য ওমরাহ ভিসা বন্ধ করা হয়নি। সৌ‌দি সরকা‌রের পক্ষ থে‌কে ওমরাহ ভিসা পেতে বাংলাদেশি এজেন্সির প্রতিনিধিকে যাত্রীর হোটেল বুকিং ও বিমান টিকিটের তথ্যসহ সৌদি আরবের ওমরাহ এজেন্টের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হ‌য়ে‌ছে।

মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) সচিবালয়ে ওমরাহ ভিসা জটিলতা বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ পরামর্শ দিয়েছেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন।

এ দেশের ওমরাহ যাত্রীদের ভিসা দেওয়া হচ্ছে না, এ বিষয়টি অবহিত হওয়ার পরপরই ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ঢাকাস্থ সৌদি দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়, জা‌নি‌য়ে উপদেষ্টা বলেছেন, প্রথমে ভিসা প্রদান কার্যক্রম চালু রাখার বিষয়ে মৌখিকভাবে অনুরোধ জানানো হয়। পরে ১৩ মার্চ ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব ভিসা প্রদান কার্যক্রম চালু রাখার বিষয়ে ঢাকাস্থ সৌদি দূতাবাসের রাষ্ট্রদূতকে একটি ডিও লেটার দেন। এর পাশাপাশি আমার সচিব সৌদি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে এ বিষয়ে অব্যাহতভাবে টেলিফোনে ও মোবাইল ফোনে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন।

আ ফ ম খালিদ হোসেন জানান, রাষ্ট্রদূত বর্তমানে ছুটি সৌদি আরবে আছেন। ডিও লেটারের বিষয়টি অবহিত হওয়ার পর তিনি সচিবকে একটি ফিরতি অডিও বার্তা পাঠিয়েছেন। অডিও বার্তায় তিনি জানিয়েছেন, বাংলাদেশিদের জন্য ওমরাহ ভিসা বন্ধ করা হয়নি। এক্ষেত্রে তিনি বাংলাদেশের হজ/ওমরাহ এজেন্সির প্রতিনিধিদের ওমরাহ যাত্রীদের হোটেল বুকিং বা রিজারভেশন ও এয়ারলাইন্সের টিকিটসহ সৌদি আরবের ওমরাহ এজেন্ট বা কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দিয়েছেন।

উপ‌দেষ্টা জানান, তিনি (রাষ্ট্রদূত) আরো জানিয়েছেন, সৌদি ওমরাহ এজেন্ট/কোম্পানি যদি সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে, তাহলে সে দেশের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় বাংলাদেশি ওমরাহ যাত্রীদের অনুকূলে ভিসা ইস্যুর ব্যবস্থা করবে। প্রকৃতপক্ষে, বাংলাদেশিদের জন্য ওমরাহ ভিসা বন্ধ করা হয়নি বলে সৌদি রাষ্ট্রদূত নিশ্চিত করেছেন।

তিনি আরো জানান, হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) তথ্য মোতাবেক প্রতি বছর রমজান মাসে বাংলাদেশ থেকে আনুমানিক ১ লাখ ব্যক্তি ওমরাহ পালন করে থাকেন। ওমরাহ ভিসা বন্ধ হওয়ায় বাংলাদেশের প্রায় ২০ হাজার ওমরাহ যাত্রী এ বছর রমজান মাসে ওমরাহ পালনে যেতে পারছেন না ব‌লে হাবের পক্ষ হতে আমাদের জানানো হয়েছে। ওমরাহ যাত্রীদের টিকিটের অর্থ ফেরত দিতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, টিকিট সংগ্রহকারী কোনো যাত্রী ভ্রমণে অনিচ্ছুক হলে বিধি মোতাবেক তার টাকা ফেরত দেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে, সৌদিয়া এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, রমজান মাসে ভিসা না পাওয়ার কারণে যারা ওমরাহ পালনের জন্য সৌদি আরব যেতে পারবেন না, তাদের সঙ্গে আলোচনা করে ঈদুল ফিতরের পরে এবং আগামী জুলাই মাসে ওমরাহ পালনের সুযোগ রেখে টিকিট পরিবর্তন করে দেওয়া হচ্ছে।

ধর্ম সচিব এ কে এম আলতাব হোসেন প্রামানিক এজেন্সি মালিকদের বলেছেন, সৌদি রাষ্ট্রদূত যেভাবে বলেছেন, সে অনুযায়ী আপনারা আবেদন করুন। এরপরও যদি ভিসা ইস্যু করা না হয়, তবে এ বিষয়ে আমরা রাষ্ট্রদূতকে যুক্ত করব।

কী পরিমাণ ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়েছে, হাবকে সে তথ্য দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এবং সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের বাইরে অন্যান্য বিমান সংস্থার সঙ্গেও টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন ধর্ম সচিব।

রমজান শুরুর পরপরই ওমরাহ ভিসা ইস্যুর সংখ্যা একেবারে কমিয়ে দিয়েছে সৌদি সরকার। এতে বিপাকে পড়েছেন বিপুল সংখ্যক ওমরাহ যাত্রী ও এজেন্সি।

এ বছর ওমরাহ যাত্রীদের অনেকেই বিমানের টিকিট বুকিং দিয়ে রেখেছেন। কিন্তু, ভিসা না পাওয়ায় কিংবা যথাসময়ে ভিসা না পাওয়ায় ওমরাহ পালন করতে যেতে পারেননি বা যেতে পারছেন না। অনেকে টিকিট বাতিল করতে বাধ্য হয়েছেন। এতে ওমরাহ যাত্রী ও হজ এজেন্সিগুলো আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

ওমরাহ ভিসা বন্ধ হয়‌নি, তথ্যসহ সৌদি এজেন্টের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ

প্রকাশিত সময় : ০৮:০৬:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ মার্চ ২০২৫

বাংলাদেশিদের জন্য ওমরাহ ভিসা বন্ধ করা হয়নি। সৌ‌দি সরকা‌রের পক্ষ থে‌কে ওমরাহ ভিসা পেতে বাংলাদেশি এজেন্সির প্রতিনিধিকে যাত্রীর হোটেল বুকিং ও বিমান টিকিটের তথ্যসহ সৌদি আরবের ওমরাহ এজেন্টের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হ‌য়ে‌ছে।

মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) সচিবালয়ে ওমরাহ ভিসা জটিলতা বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ পরামর্শ দিয়েছেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন।

এ দেশের ওমরাহ যাত্রীদের ভিসা দেওয়া হচ্ছে না, এ বিষয়টি অবহিত হওয়ার পরপরই ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ঢাকাস্থ সৌদি দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়, জা‌নি‌য়ে উপদেষ্টা বলেছেন, প্রথমে ভিসা প্রদান কার্যক্রম চালু রাখার বিষয়ে মৌখিকভাবে অনুরোধ জানানো হয়। পরে ১৩ মার্চ ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব ভিসা প্রদান কার্যক্রম চালু রাখার বিষয়ে ঢাকাস্থ সৌদি দূতাবাসের রাষ্ট্রদূতকে একটি ডিও লেটার দেন। এর পাশাপাশি আমার সচিব সৌদি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে এ বিষয়ে অব্যাহতভাবে টেলিফোনে ও মোবাইল ফোনে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন।

আ ফ ম খালিদ হোসেন জানান, রাষ্ট্রদূত বর্তমানে ছুটি সৌদি আরবে আছেন। ডিও লেটারের বিষয়টি অবহিত হওয়ার পর তিনি সচিবকে একটি ফিরতি অডিও বার্তা পাঠিয়েছেন। অডিও বার্তায় তিনি জানিয়েছেন, বাংলাদেশিদের জন্য ওমরাহ ভিসা বন্ধ করা হয়নি। এক্ষেত্রে তিনি বাংলাদেশের হজ/ওমরাহ এজেন্সির প্রতিনিধিদের ওমরাহ যাত্রীদের হোটেল বুকিং বা রিজারভেশন ও এয়ারলাইন্সের টিকিটসহ সৌদি আরবের ওমরাহ এজেন্ট বা কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দিয়েছেন।

উপ‌দেষ্টা জানান, তিনি (রাষ্ট্রদূত) আরো জানিয়েছেন, সৌদি ওমরাহ এজেন্ট/কোম্পানি যদি সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে, তাহলে সে দেশের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় বাংলাদেশি ওমরাহ যাত্রীদের অনুকূলে ভিসা ইস্যুর ব্যবস্থা করবে। প্রকৃতপক্ষে, বাংলাদেশিদের জন্য ওমরাহ ভিসা বন্ধ করা হয়নি বলে সৌদি রাষ্ট্রদূত নিশ্চিত করেছেন।

তিনি আরো জানান, হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) তথ্য মোতাবেক প্রতি বছর রমজান মাসে বাংলাদেশ থেকে আনুমানিক ১ লাখ ব্যক্তি ওমরাহ পালন করে থাকেন। ওমরাহ ভিসা বন্ধ হওয়ায় বাংলাদেশের প্রায় ২০ হাজার ওমরাহ যাত্রী এ বছর রমজান মাসে ওমরাহ পালনে যেতে পারছেন না ব‌লে হাবের পক্ষ হতে আমাদের জানানো হয়েছে। ওমরাহ যাত্রীদের টিকিটের অর্থ ফেরত দিতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, টিকিট সংগ্রহকারী কোনো যাত্রী ভ্রমণে অনিচ্ছুক হলে বিধি মোতাবেক তার টাকা ফেরত দেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে, সৌদিয়া এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, রমজান মাসে ভিসা না পাওয়ার কারণে যারা ওমরাহ পালনের জন্য সৌদি আরব যেতে পারবেন না, তাদের সঙ্গে আলোচনা করে ঈদুল ফিতরের পরে এবং আগামী জুলাই মাসে ওমরাহ পালনের সুযোগ রেখে টিকিট পরিবর্তন করে দেওয়া হচ্ছে।

ধর্ম সচিব এ কে এম আলতাব হোসেন প্রামানিক এজেন্সি মালিকদের বলেছেন, সৌদি রাষ্ট্রদূত যেভাবে বলেছেন, সে অনুযায়ী আপনারা আবেদন করুন। এরপরও যদি ভিসা ইস্যু করা না হয়, তবে এ বিষয়ে আমরা রাষ্ট্রদূতকে যুক্ত করব।

কী পরিমাণ ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়েছে, হাবকে সে তথ্য দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এবং সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের বাইরে অন্যান্য বিমান সংস্থার সঙ্গেও টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন ধর্ম সচিব।

রমজান শুরুর পরপরই ওমরাহ ভিসা ইস্যুর সংখ্যা একেবারে কমিয়ে দিয়েছে সৌদি সরকার। এতে বিপাকে পড়েছেন বিপুল সংখ্যক ওমরাহ যাত্রী ও এজেন্সি।

এ বছর ওমরাহ যাত্রীদের অনেকেই বিমানের টিকিট বুকিং দিয়ে রেখেছেন। কিন্তু, ভিসা না পাওয়ায় কিংবা যথাসময়ে ভিসা না পাওয়ায় ওমরাহ পালন করতে যেতে পারেননি বা যেতে পারছেন না। অনেকে টিকিট বাতিল করতে বাধ্য হয়েছেন। এতে ওমরাহ যাত্রী ও হজ এজেন্সিগুলো আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়েছে।