বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গুনাহের অন্ধকারে ঈমানের আলো ম্লান হয়ে যায়

ঈমান হলো মানুষের অন্তরের আলো, যা তাকে সৎপথে পরিচালিত করে এবং গুনাহ থেকে বিরত রাখে। কিন্তু যখন মানুষ বড় গুনাহে লিপ্ত হয়, তখন সেই ঈমানের আলো ম্লান হয়ে যায়, তার অন্তর কঠিন হয়ে পড়ে। নবী করীম (সা.) সে ব্যাপারেই সতর্ক করে বলেছেন—

عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ لاَ يَزْنِي الزَّانِي حِينَ يَزْنِي وَهُوَ مُؤْمِنٌ وَلاَ يَسْرِقُ السَّارِقُ حِينَ يَسْرِقُ وَهُوَ مُؤْمِنٌ.

ইবনে ’আব্বাস (রা.) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ব্যভিচারী যখন ব্যভিচার করে, তখন সে মু’মিন থাকে না।

এবং চোর যখন চুরি করে তখন সে মু’মিন থাকে না। (বুখারি, হাদিস : ৬৭৮২)
সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা

এ হাদিসে বোঝানো হয়নি যে ব্যভিচার বা চুরি করলে ব্যক্তি সরাসরি কাফির হয়ে যায়। বরং বোঝানো হয়েছে—সে কাজ করার সময় তার ঈমানের আলো, ঈমানের প্রভাব ও কার্যকারিতা দূরে সরে যায়। অন্য হাদিসে আছে: ‘যখন কেউ ব্যভিচার করতে থাকে তখন তার থেকে ঈমান বের হয়ে তার (মাথার) উপর ছায়ার ন্যায় অবস্থান করতে থাকে।

অতঃপর যখন সে অবসর হয় তখন ঈমান তার নিকট ফিরে আসে।’ (আবু দাউদ, হাদিস: ৪৬৯০)
হাদিসের শিক্ষা

কবিরা গুনাহ করার সাথে সাথে ঈমান ও গুনাহ একসাথে থাকতে পারে না। ওই সময় সে ঈমানের ছায়া থেকে বঞ্চিত হয়, তাই আল্লাহর আজাবের কাছে খুব নিকটবর্তী হয়ে যায়। ইমাম নববী (রহ.) বলেন: এর অর্থ হলো গুনাহ সংঘটনের সময় তার পূর্ণাঙ্গ ঈমান থাকে না, বরং ঈমান তার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়; তবে মূল ঈমান তার অন্তরে অবশিষ্ট থাকে।

ইবনে হাজর (রহ.) বলেন : এর মানে হলো—ঈমানের নূর তার মাথার ওপর থেকে উঠে যায়, কিন্তু গুনাহ থেকে বিরত হলে আবার নেমে আসে।
বড় গুনাহে লিপ্ত হওয়া মানে ঈমানকে দুর্বল করা এবং আল্লাহর কাছে লাঞ্ছিত হওয়া। এ হাদিস মানুষকে সতর্ক করছে—ব্যভিচার, চুরি বা বড় কোনো অপরাধ করলে ঈমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়, আখিরাতের মুক্তি ঝুঁকিতে পড়ে। তবে তওবা করলে আবার ঈমান ফিরে আসে এবং আল্লাহ ক্ষমা করে দেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

গুনাহের অন্ধকারে ঈমানের আলো ম্লান হয়ে যায়

প্রকাশিত সময় : ০৩:৪৬:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫

ঈমান হলো মানুষের অন্তরের আলো, যা তাকে সৎপথে পরিচালিত করে এবং গুনাহ থেকে বিরত রাখে। কিন্তু যখন মানুষ বড় গুনাহে লিপ্ত হয়, তখন সেই ঈমানের আলো ম্লান হয়ে যায়, তার অন্তর কঠিন হয়ে পড়ে। নবী করীম (সা.) সে ব্যাপারেই সতর্ক করে বলেছেন—

عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ لاَ يَزْنِي الزَّانِي حِينَ يَزْنِي وَهُوَ مُؤْمِنٌ وَلاَ يَسْرِقُ السَّارِقُ حِينَ يَسْرِقُ وَهُوَ مُؤْمِنٌ.

ইবনে ’আব্বাস (রা.) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ব্যভিচারী যখন ব্যভিচার করে, তখন সে মু’মিন থাকে না।

এবং চোর যখন চুরি করে তখন সে মু’মিন থাকে না। (বুখারি, হাদিস : ৬৭৮২)
সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা

এ হাদিসে বোঝানো হয়নি যে ব্যভিচার বা চুরি করলে ব্যক্তি সরাসরি কাফির হয়ে যায়। বরং বোঝানো হয়েছে—সে কাজ করার সময় তার ঈমানের আলো, ঈমানের প্রভাব ও কার্যকারিতা দূরে সরে যায়। অন্য হাদিসে আছে: ‘যখন কেউ ব্যভিচার করতে থাকে তখন তার থেকে ঈমান বের হয়ে তার (মাথার) উপর ছায়ার ন্যায় অবস্থান করতে থাকে।

অতঃপর যখন সে অবসর হয় তখন ঈমান তার নিকট ফিরে আসে।’ (আবু দাউদ, হাদিস: ৪৬৯০)
হাদিসের শিক্ষা

কবিরা গুনাহ করার সাথে সাথে ঈমান ও গুনাহ একসাথে থাকতে পারে না। ওই সময় সে ঈমানের ছায়া থেকে বঞ্চিত হয়, তাই আল্লাহর আজাবের কাছে খুব নিকটবর্তী হয়ে যায়। ইমাম নববী (রহ.) বলেন: এর অর্থ হলো গুনাহ সংঘটনের সময় তার পূর্ণাঙ্গ ঈমান থাকে না, বরং ঈমান তার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়; তবে মূল ঈমান তার অন্তরে অবশিষ্ট থাকে।

ইবনে হাজর (রহ.) বলেন : এর মানে হলো—ঈমানের নূর তার মাথার ওপর থেকে উঠে যায়, কিন্তু গুনাহ থেকে বিরত হলে আবার নেমে আসে।
বড় গুনাহে লিপ্ত হওয়া মানে ঈমানকে দুর্বল করা এবং আল্লাহর কাছে লাঞ্ছিত হওয়া। এ হাদিস মানুষকে সতর্ক করছে—ব্যভিচার, চুরি বা বড় কোনো অপরাধ করলে ঈমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়, আখিরাতের মুক্তি ঝুঁকিতে পড়ে। তবে তওবা করলে আবার ঈমান ফিরে আসে এবং আল্লাহ ক্ষমা করে দেন।