শীতের সকাল মানেই আরামদায়ক বিছানা, ভারি চোখ, বিছানা ছাড়তে অনীহা আর সারাদিন এক ধরনের ক্লান্তিভাব। ঘুম ঠিক হলেও যেন শরীর ও মন সাড়া দিতে চায় না। ছুটির দিনে মনে হয় সারা দিন শুয়ে থাকতে পারলেই ভালো। আসলে শীতের আবহাওয়া আমাদের শরীরের স্বাভাবিক নিয়মকে প্রভাবিত করে থাকে। যার ফলে বডি রুটিন প্রভাবিত হয়। এনার্জি কমে যাওয়া ও বিষণ্ণ ভাব— এসবই তার কারণ। কেন এমনটি হয়? চলুন জেনে নেওয়া যাক—
১. সূর্যালোকের অভাব
প্রথম কারণটিই হচ্ছে— সূর্যালোকের অভাব। শীতের দিনের আলো দেরিতে আসে। সূর্যের আলো থাকে অনেক কম সময়ের জন্য। সূর্যের আলো আমাদের শরীরে সেরোটোনিন নামক এক ধরনের ফিল-গুড হরমোন তৈরিতে সাহায্য করে থাকে। আলো কম পেলে সেরোটোনিনের মাত্রা কমে যায়। এর ফলে মন খারাপ, ঝিমুনি ও অলসতা বেড়ে যায়। একই সঙ্গে মেলাটোনিন হরমোন বেশি নিঃসৃত হয়, যা ঘুমের প্রবণতা বাড়ায়— তাই সকালে ঘুম থেকে উঠতেও কষ্ট হয়।
২. কম পরিশ্রম
কম পরিশ্রম কিংবা শারীরিক কার্যকলাপ কম হলে শরীরের এনার্জি লেভেল ধীরে ধীরে কমে যায়। নিয়মিত নড়াচড়া না করলে রক্ত সঞ্চালন ধীর হয়। ফলে কোষে অক্সিজেন ও পুষ্টি ঠিকভাবে পৌঁছায় না এবং সহজেই ক্লান্তি আসে। শারীরিক পরিশ্রম কম হলে মেটাবলিজমও মন্থর হয়ে পড়ে, যার কারণে শরীর ভারি লাগে। পাশাপাশি ব্যায়ামের সময় যে এন্ডোরফিন হরমোন নিঃসৃত হয়, তার ঘাটতিতে মন খারাপ, অলসতা ও মনোযোগের অভাব দেখা দেয়। দীর্ঘদিন কম পরিশ্রম করলে আত্মবিশ্বাস ও কর্মক্ষমতাও কমে যেতে পারে।
৩. মেটাবলিজমে প্রভাব
ঠান্ডা তাপমাত্রা শরীরের মেটাবলিজমে প্রভাব ফেলে। শীতে শরীর নিজেকে উষ্ণ রাখতে বেশি শক্তি ব্যয় করে থাকে। এর ফলে সহজেই শরীরে ক্লান্তি আসে। অনেক সময় রক্ত সঞ্চালনের গতিও কমে যায়। বিশেষ করে সকালবেলা, যার কারণে শরীর ভারি লাগে এবং কাজ শুরু করতেও সময় লাগে।
৪. ঘুমের রুটিন
আরেকটি বড় কারণ হচ্ছে— ঘুমের রুটিন বদলে যাওয়া। শীতে রাত দীর্ঘ হয়। তাই স্বাভাবিকভাবেই অতিরিক্ত ঘুমের প্রবণতা দেখা যায়। কম্বলের উষ্ণতা ঘুমকে গভীর করে তোলে। কিন্তু অতিরিক্ত ঘুম শরীরকে আরও অবসন্ন করে দেয়। এর ফলে সকালবেলা মাথা ভার ও মনোযোগের অভাব দেখা দিতে পারে।
৫. খাদ্যাভ্যাস
শীতকালের খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন ঘটে। ভারি ও তেল-মসলাযুক্ত খাবার বেশি খাওয়া হয় এবং সবজি ও পানি খাওয়া কমে যায়। ফলে হজমের সমস্যা, গ্যাস ও শরীর ভারি লাগা স্বাভাবিক। পানি কম খেলে ডিহাইড্রেশন হয়, ফলে এনার্জি আরও কমে যায়।
৬. ভিটামিন ডি’র অভাব
শীতের দিনে ভিটামিন ডি’র অভাব শরীর ও মনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। আর ভিটামিন ‘ডি’ কম হলে পেশি দুর্বল লাগে, সহজেই ক্লান্তি আসে এবং সারাদিন গা ঝিমঝিম করে থাকে। সে জন্য হাড়ে ব্যথা ও কোমর কিংবা হাঁটুতে ব্যথা বাড়তে পারে। কারণ ক্যালসিয়াম ঠিকভাবে শোষিত হয় না। রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গিয়ে বারবার সর্দি-কাশি কিংবা সংক্রমণ হতে পারে। এর পাশাপাশি সেরোটোনিনের মাত্রা কমে যাওয়ায় মন খারাপ, হতাশা ও এনার্জির অভাব দেখা দেয়। দীর্ঘদিন ঘাটতি থাকলে ঘুমের সমস্যা ও কর্মক্ষমতাও কমে যায়।
সূত্র: যুগান্তর

রিপোর্টারের নাম 

























