বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টানা ৯ বছর ধরে সুখী দেশের তালিকায় শীর্ষে ফিনল্যান্ড

বিশ্বের সবচেয়ে সুখী দেশের তালিকায় আবারও আধিপত্য বজায় রেখেছে উত্তর ইউরোপের দেশ ফিনল্যান্ড। ২০২৬ সালের ‘ওয়ার্ল্ড হ্যাপিনেস রিপোর্ট’ অনুযায়ী, টানা নবমবারের মতো বিশ্বের সবচেয়ে সুখী রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে দেশটি। অন্যদিকে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সত্ত্বেও সুখের সূচকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে এখনো বেশ পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ।

প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ফিনিশ নাগরিকদের মধ্যে পারস্পরিক প্রবল আস্থা, শক্তিশালী সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী এবং রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধার সমবণ্টনই তাদের এই অনন্য অবস্থানের মূল কারণ। এছাড়া দুর্নীতির নিম্নহার, সরকারের প্রতি জনগণের অগাধ বিশ্বাস এবং প্রকৃতির সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক ফিনল্যান্ডকে টানা ৯ বছর ধরে শীর্ষস্থানে ধরে রেখেছে।

দেশটির প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টুব এই অর্জনের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, এর পেছনে কোনো জাদুকরী রহস্য নেই; বরং একটি সমাজে স্বাধীনতা, সাম্য ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারলেই এমন সাফল্য সম্ভব।

তালিকায় ফিনল্যান্ডের পরেই দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ডেনমার্ক। শীর্ষ দশে থাকা অন্য দেশগুলো হলো আইসল্যান্ড, সুইডেন, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, সুইজারল্যান্ড, লুক্সেমবার্গ, ইসরাইল ও কোস্টারিকা। তবে এবারের প্রতিবেদনে একটি উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে—সোশ্যাল মিডিয়ার অতিরিক্ত ব্যবহারের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সুখের মাত্রা আগের চেয়ে হ্রাস পেয়েছে।

আশ্চর্যের বিষয় হলো, ইউরোপীয় পরিসংখ্যান সংস্থা ‘ইউরোস্ট্যাট’-এর মতে ফিনল্যান্ডে বেকারত্বের হার বাড়লেও হ্যাপিনেস রিপোর্টে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। বিশ্লেষকদের মতে, সুখ কেবল অর্থ বা আয়ের ওপর নির্ভর করে না, বরং সামাজিক স্থিতিশীলতা এখানে বড় ভূমিকা পালন করেছে।

সুখী দেশের তালিকায় বাংলাদেশের চিত্র এখনো অনেকটা ম্লান। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের অবস্থান ১৩০-এর ঘরে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে দৃশ্যমান অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ঘটলেও সামাজিক নিরাপত্তা, নাগরিক আস্থা এবং মানসিক স্বাস্থ্যের মতো মৌলিক সূচকগুলোতে বাংলাদেশ এখনো বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করছে। ফলে বৈশ্বিক এই সূচকে কাঙ্ক্ষিত উন্নতি সম্ভব হচ্ছে না।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

টানা ৯ বছর ধরে সুখী দেশের তালিকায় শীর্ষে ফিনল্যান্ড

প্রকাশিত সময় : ১১:২৩:০২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬
বিশ্বের সবচেয়ে সুখী দেশের তালিকায় আবারও আধিপত্য বজায় রেখেছে উত্তর ইউরোপের দেশ ফিনল্যান্ড। ২০২৬ সালের ‘ওয়ার্ল্ড হ্যাপিনেস রিপোর্ট’ অনুযায়ী, টানা নবমবারের মতো বিশ্বের সবচেয়ে সুখী রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে দেশটি। অন্যদিকে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সত্ত্বেও সুখের সূচকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে এখনো বেশ পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ।

প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ফিনিশ নাগরিকদের মধ্যে পারস্পরিক প্রবল আস্থা, শক্তিশালী সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী এবং রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধার সমবণ্টনই তাদের এই অনন্য অবস্থানের মূল কারণ। এছাড়া দুর্নীতির নিম্নহার, সরকারের প্রতি জনগণের অগাধ বিশ্বাস এবং প্রকৃতির সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক ফিনল্যান্ডকে টানা ৯ বছর ধরে শীর্ষস্থানে ধরে রেখেছে।

দেশটির প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টুব এই অর্জনের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, এর পেছনে কোনো জাদুকরী রহস্য নেই; বরং একটি সমাজে স্বাধীনতা, সাম্য ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারলেই এমন সাফল্য সম্ভব।

তালিকায় ফিনল্যান্ডের পরেই দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ডেনমার্ক। শীর্ষ দশে থাকা অন্য দেশগুলো হলো আইসল্যান্ড, সুইডেন, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, সুইজারল্যান্ড, লুক্সেমবার্গ, ইসরাইল ও কোস্টারিকা। তবে এবারের প্রতিবেদনে একটি উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে—সোশ্যাল মিডিয়ার অতিরিক্ত ব্যবহারের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সুখের মাত্রা আগের চেয়ে হ্রাস পেয়েছে।

আশ্চর্যের বিষয় হলো, ইউরোপীয় পরিসংখ্যান সংস্থা ‘ইউরোস্ট্যাট’-এর মতে ফিনল্যান্ডে বেকারত্বের হার বাড়লেও হ্যাপিনেস রিপোর্টে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। বিশ্লেষকদের মতে, সুখ কেবল অর্থ বা আয়ের ওপর নির্ভর করে না, বরং সামাজিক স্থিতিশীলতা এখানে বড় ভূমিকা পালন করেছে।

সুখী দেশের তালিকায় বাংলাদেশের চিত্র এখনো অনেকটা ম্লান। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের অবস্থান ১৩০-এর ঘরে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে দৃশ্যমান অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ঘটলেও সামাজিক নিরাপত্তা, নাগরিক আস্থা এবং মানসিক স্বাস্থ্যের মতো মৌলিক সূচকগুলোতে বাংলাদেশ এখনো বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করছে। ফলে বৈশ্বিক এই সূচকে কাঙ্ক্ষিত উন্নতি সম্ভব হচ্ছে না।