মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিতর্কিত বোর্ড অব পিসে যোগ দিচ্ছে মরক্কো, সেনাকর্মকর্তাদের পাঠিয়েছে ইসরায়েলে!

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বোর্ড অব পিস জানিয়েছে, মরক্কোর সামরিক কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে ইসরায়েলে পৌঁছেছেন। তারা গাজায় মোতায়েনের জন্য পরিকল্পিত ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ)-এর প্রাথমিক কাঠামো গঠনে অংশ নেবেন। তবে বাহিনীটি মোতায়েন এবং ট্রাম্পের গাজা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এখনো খুব বেশি অগ্রগতি হয়নি।

বোর্ডের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, চারজন মরক্কোর সামরিক কর্মকর্তা ১৮ জুন দক্ষিণ ইসরায়েলে অবস্থিত আইএসএফের সদর দপ্তরে পৌঁছান।

তিনি বলেন, এই দলটি বাহিনীর সামগ্রিক কাঠামো উন্নয়নে এবং বিশেষ করে পুলিশিংসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দক্ষতা ও পরামর্শ প্রদান করবে। তিনি চারজন কর্মকর্তার উপস্থিতি নিশ্চিত করলেও অতিরিক্ত কোনো সদস্য রয়েছে কি না, তা জানাননি।

বোর্ড অব পিস এক্স (সাবেক টুইটার)-এ এক পোস্টে বলেছে, ‘তাদের আগমন গাজার জনগণকে সহায়তা করার আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টাকে আরও শক্তিশালী করেছে।’

ফেব্রুয়ারিতে মরক্কো গাজা উপত্যকায় পুলিশ ও সামরিক সদস্য পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। প্রকাশ্যে এ ধরনের ঘোষণা দেওয়া প্রথম আরব দেশ ছিল মরক্কো।

জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে ওয়াশিংটন ট্রাম্পের গাজা পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপের ঘোষণা দেয়। এই পরিকল্পনার লক্ষ্য হিসিবে তিনি ঘোষনা করেন,‘২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর শুরু হওয়া যুদ্ধের স্থায়ী সমাপ্তি ঘটানো’। ইসরায়েল ছাড়া অন্যরা এ পরিকল্পনায় সায় দেয়নি।

তবে বাস্তবে এই পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়ন এবং আইএসএফকে গাজায় মোতায়েনের ক্ষেত্রে এখনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা যায়নি।

ট্রাম্পের এই পরিকল্পনা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সমর্থন পায় এবং এর ফলে অক্টোবরে কার্যকর হওয়া একটি যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠিত হয়।

পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপে ধীরে ধীরে গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার, হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং আইএসএফ মোতায়েনের কথা রয়েছে। যদিও এ নিয়ে একাধিকবার ঘোষণা ও আলোচনা হয়েছে, বাহিনীটি এখনো বাস্তবে মোতায়েন করা যায়নি।

উল্লেখ্য, ২০০৭ সালে হামাসের প্রতিরোধ যোদ্ধারা ইসরায়েলি বাহিনীর দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে অভিযান চালায়।

বর্তমানে ইসরায়েল দাবি করছে, তারা গাজা উপত্যকার একাংশ সামরিক বাহিনী মোতায়েন করেছে এবং যুদ্ধবিরতি লংঘন করে সামরিক আগ্রাসন চালাচ্ছে। গত মাসে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু জানান, তিনি সেনাবাহিনীকে গাজার ৭০ শতাংশ এলাকা দখলের নির্দেশ দিয়েছিলেন।

হামাস প্রায় প্রতিদিনই ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ করছে। একই সঙ্গে যুদ্ধের স্থায়ী অবসান ঘটানোর প্রচেষ্টাও অচলাবস্থায় রয়েছে।

হামাস-পরিচালিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে অন্তত ১,০২৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

বিতর্কিত বোর্ড অব পিসে যোগ দিচ্ছে মরক্কো, সেনাকর্মকর্তাদের পাঠিয়েছে ইসরায়েলে!

প্রকাশিত সময় : ০৫:৩২:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বোর্ড অব পিস জানিয়েছে, মরক্কোর সামরিক কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে ইসরায়েলে পৌঁছেছেন। তারা গাজায় মোতায়েনের জন্য পরিকল্পিত ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ)-এর প্রাথমিক কাঠামো গঠনে অংশ নেবেন। তবে বাহিনীটি মোতায়েন এবং ট্রাম্পের গাজা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এখনো খুব বেশি অগ্রগতি হয়নি।

বোর্ডের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, চারজন মরক্কোর সামরিক কর্মকর্তা ১৮ জুন দক্ষিণ ইসরায়েলে অবস্থিত আইএসএফের সদর দপ্তরে পৌঁছান।

তিনি বলেন, এই দলটি বাহিনীর সামগ্রিক কাঠামো উন্নয়নে এবং বিশেষ করে পুলিশিংসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দক্ষতা ও পরামর্শ প্রদান করবে। তিনি চারজন কর্মকর্তার উপস্থিতি নিশ্চিত করলেও অতিরিক্ত কোনো সদস্য রয়েছে কি না, তা জানাননি।

বোর্ড অব পিস এক্স (সাবেক টুইটার)-এ এক পোস্টে বলেছে, ‘তাদের আগমন গাজার জনগণকে সহায়তা করার আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টাকে আরও শক্তিশালী করেছে।’

ফেব্রুয়ারিতে মরক্কো গাজা উপত্যকায় পুলিশ ও সামরিক সদস্য পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। প্রকাশ্যে এ ধরনের ঘোষণা দেওয়া প্রথম আরব দেশ ছিল মরক্কো।

জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে ওয়াশিংটন ট্রাম্পের গাজা পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপের ঘোষণা দেয়। এই পরিকল্পনার লক্ষ্য হিসিবে তিনি ঘোষনা করেন,‘২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর শুরু হওয়া যুদ্ধের স্থায়ী সমাপ্তি ঘটানো’। ইসরায়েল ছাড়া অন্যরা এ পরিকল্পনায় সায় দেয়নি।

তবে বাস্তবে এই পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়ন এবং আইএসএফকে গাজায় মোতায়েনের ক্ষেত্রে এখনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা যায়নি।

ট্রাম্পের এই পরিকল্পনা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সমর্থন পায় এবং এর ফলে অক্টোবরে কার্যকর হওয়া একটি যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠিত হয়।

পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপে ধীরে ধীরে গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার, হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং আইএসএফ মোতায়েনের কথা রয়েছে। যদিও এ নিয়ে একাধিকবার ঘোষণা ও আলোচনা হয়েছে, বাহিনীটি এখনো বাস্তবে মোতায়েন করা যায়নি।

উল্লেখ্য, ২০০৭ সালে হামাসের প্রতিরোধ যোদ্ধারা ইসরায়েলি বাহিনীর দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে অভিযান চালায়।

বর্তমানে ইসরায়েল দাবি করছে, তারা গাজা উপত্যকার একাংশ সামরিক বাহিনী মোতায়েন করেছে এবং যুদ্ধবিরতি লংঘন করে সামরিক আগ্রাসন চালাচ্ছে। গত মাসে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু জানান, তিনি সেনাবাহিনীকে গাজার ৭০ শতাংশ এলাকা দখলের নির্দেশ দিয়েছিলেন।

হামাস প্রায় প্রতিদিনই ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ করছে। একই সঙ্গে যুদ্ধের স্থায়ী অবসান ঘটানোর প্রচেষ্টাও অচলাবস্থায় রয়েছে।

হামাস-পরিচালিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে অন্তত ১,০২৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল