বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুদ্ধবিরতি হলে হরমুজ প্রণালীতে মাইন অপসারণে প্রস্তুত জাপান

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতের প্রেক্ষাপটে একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠিত হলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী থেকে সামুদ্রিক মাইন অপসারণে নিজেদের সামরিক বাহিনী মোতায়েনের বিষয়টি বিবেচনা করছে জাপান।

রোববার জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তোশিমিৎসু মোতেগি এক সাক্ষাৎকারে জানান, বিষয়টি এখনো তাত্ত্বিক পর্যায়ে থাকলেও যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে এবং মাইন জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করলে জাপান তা অপসারণে ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে প্রণালীতে আটকে পড়া জাপানি জাহাজগুলোর জন্য তেহরানের সঙ্গে কোনো বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা নেই। তবে সব দেশের জাহাজ যেন নিরাপদে চলাচল করতে পারে, সেই পরিবেশ তৈরি করাকে ‘অত্যন্ত জরুরি’ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, জাপানের সঙ্গে প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে জাপান কেবল নিজেদের স্বার্থ নয়, বরং সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই গুরুত্ব দিচ্ছে।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে জাপান তার প্রায় ৯০ শতাংশ জ্বালানি তেল আমদানি করে। যুদ্ধের কারণে প্রণালী কার্যত অচল হয়ে পড়ায় দেশটির জ্বালানি নিরাপত্তা বড় ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সরাসরি যুদ্ধে জড়িত না হয়ে যুদ্ধ-পরবর্তী পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার এই প্রস্তাবের মাধ্যমে জাপান একটি ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক অবস্থান বজায় রাখতে চায়। এটি তেহরান ও ওয়াশিংটন উভয়ের জন্যই ইতিবাচক বার্তা বহন করতে পারে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

যুদ্ধবিরতি হলে হরমুজ প্রণালীতে মাইন অপসারণে প্রস্তুত জাপান

প্রকাশিত সময় : ০১:২৫:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতের প্রেক্ষাপটে একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠিত হলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী থেকে সামুদ্রিক মাইন অপসারণে নিজেদের সামরিক বাহিনী মোতায়েনের বিষয়টি বিবেচনা করছে জাপান।

রোববার জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তোশিমিৎসু মোতেগি এক সাক্ষাৎকারে জানান, বিষয়টি এখনো তাত্ত্বিক পর্যায়ে থাকলেও যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে এবং মাইন জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করলে জাপান তা অপসারণে ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে প্রণালীতে আটকে পড়া জাপানি জাহাজগুলোর জন্য তেহরানের সঙ্গে কোনো বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা নেই। তবে সব দেশের জাহাজ যেন নিরাপদে চলাচল করতে পারে, সেই পরিবেশ তৈরি করাকে ‘অত্যন্ত জরুরি’ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, জাপানের সঙ্গে প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে জাপান কেবল নিজেদের স্বার্থ নয়, বরং সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই গুরুত্ব দিচ্ছে।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে জাপান তার প্রায় ৯০ শতাংশ জ্বালানি তেল আমদানি করে। যুদ্ধের কারণে প্রণালী কার্যত অচল হয়ে পড়ায় দেশটির জ্বালানি নিরাপত্তা বড় ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সরাসরি যুদ্ধে জড়িত না হয়ে যুদ্ধ-পরবর্তী পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার এই প্রস্তাবের মাধ্যমে জাপান একটি ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক অবস্থান বজায় রাখতে চায়। এটি তেহরান ও ওয়াশিংটন উভয়ের জন্যই ইতিবাচক বার্তা বহন করতে পারে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান