বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কলম্বিয়ায় ১২১ আরোহী নিয়ে সামরিক বিমান বিধ্বস্ত, ৮০ লাশ উদ্ধার

কলম্বিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ১২১ আরোহী নিয়ে একটি সামরিক পরিবহন বিমান উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরেই বিধ্বস্ত হয়েছে। আরোহীদের বেশিরভাগই ছিলেন সৈন্য। সোমবারের (২৩ মার্চ) এ দুর্ঘটনায় অন্তত ৮০জন নিহত এবং বেশ কয়েকজনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী পেড্রো সানচেজ এক্সে জানিয়েছেন, এই ‘মর্মান্তিক দুর্ঘটনা’ আমাজনীয় প্রদেশ পুতুমায়োর একটি প্রত্যন্ত পৌরসভা পুয়ের্তো লেগুইজামোতে ঘটেছে। এলাকাটি প্রতিবেশী দেশ পেরু এবং ইকুয়েডর সীমান্তের কাছে অবস্থিত।

কলম্বিয়ার সংবাদমাধ্যমগুলো অনলাইনে কিছু ছবি শেয়ার করেছে যেখানে দেখা যাচ্ছে, বিমানটি যেখানে বিধ্বস্ত হয়েছে সেই মাঠ থেকে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠছে এবং একদল সৈন্য ট্রাক নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলের দিকে ছুটছেন।

বিমানবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, উদ্ধার অভিযান চলাকালীন দুর্ঘটনাস্থল থেকে অন্তত ৭৭ জনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর শেয়ার করা সামরিক কমান্ডের বিবৃতিতে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিমানবাহিনী আরও জানিয়েছে, হারকিউলিস সি-১৩০ বিমানটিতে ১১০ সৈন্য এবং ১১ জন ক্রুসহ মোট ১২১ আরোহী ছিলেন। বিমানটি সৈন্যদের পুতুমায়ো প্রদেশের অন্য একটি শহরে নিয়ে যাচ্ছিল। এর আগে কর্মকর্তারা ১২৫ আরোহীর কথা জানিয়েছিলেন।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম এমন কিছু ভিডিও প্রকাশ করেছে যেখানে দেখা যাচ্ছে, স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের মোটরসাইকেলে করে আহত সৈন্যদের দ্রুত দুর্ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নিচ্ছেন।

কলম্বিয়ার বিমানবাহিনীর কমান্ডার কার্লোস ফার্নান্দো সিলভা বলেছেন যে দুর্ঘটনার বিস্তারিত এখনও জানা যায়নি, ‘তবে শুধু এটুকুই জানা গেছে যে বিমানটিতে সমস্যা দেখা দিয়েছিল এবং সেটি বিমানবন্দর থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে বিধ্বস্ত হয়।’

বিমানবাহিনী কমান্ডার আরও যোগ করেন যে, আহতদের রাজধানী বোগোটা এবং অন্যান্য স্থানের হাসপাতালে স্থানান্তরের জন্য ৭৪টি বেড সংবলিত দুটি বিমান ওই এলাকায় পাঠানো হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট পেত্রো এই দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশের সামরিক বাহিনীর বিমান ও অন্যান্য সরঞ্জাম আধুনিকীকরণের দীর্ঘদিনের দাবির কথা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন যে, এই প্রচেষ্টাগুলো ‘আমলাতান্ত্রিক জটিলতার’ কারণে বাধাগ্রস্ত হয়েছে এবং তিনি ইঙ্গিত দেন যে এর জন্য কিছু কর্মকর্তাদের জবাবদিহি করতে হবে।

পেত্রো বলেন, যদি বেসামরিক বা সামরিক প্রশাসনিক কর্মকর্তারা এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম না হন, তবে তাদের পদ থেকে সরিয়ে দিতে হবে।

সানচেজ লিখেছেন যে, এই দুর্ঘটনা দেশের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক। আমরা আশা করি, আমাদের প্রার্থনা এই শোক কিছুটা লাঘব করতে সাহায্য করবে।

 

সূত্র: যুগান্তর

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

কলম্বিয়ায় ১২১ আরোহী নিয়ে সামরিক বিমান বিধ্বস্ত, ৮০ লাশ উদ্ধার

প্রকাশিত সময় : ০৩:২৭:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬

কলম্বিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ১২১ আরোহী নিয়ে একটি সামরিক পরিবহন বিমান উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরেই বিধ্বস্ত হয়েছে। আরোহীদের বেশিরভাগই ছিলেন সৈন্য। সোমবারের (২৩ মার্চ) এ দুর্ঘটনায় অন্তত ৮০জন নিহত এবং বেশ কয়েকজনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী পেড্রো সানচেজ এক্সে জানিয়েছেন, এই ‘মর্মান্তিক দুর্ঘটনা’ আমাজনীয় প্রদেশ পুতুমায়োর একটি প্রত্যন্ত পৌরসভা পুয়ের্তো লেগুইজামোতে ঘটেছে। এলাকাটি প্রতিবেশী দেশ পেরু এবং ইকুয়েডর সীমান্তের কাছে অবস্থিত।

কলম্বিয়ার সংবাদমাধ্যমগুলো অনলাইনে কিছু ছবি শেয়ার করেছে যেখানে দেখা যাচ্ছে, বিমানটি যেখানে বিধ্বস্ত হয়েছে সেই মাঠ থেকে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠছে এবং একদল সৈন্য ট্রাক নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলের দিকে ছুটছেন।

বিমানবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, উদ্ধার অভিযান চলাকালীন দুর্ঘটনাস্থল থেকে অন্তত ৭৭ জনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর শেয়ার করা সামরিক কমান্ডের বিবৃতিতে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিমানবাহিনী আরও জানিয়েছে, হারকিউলিস সি-১৩০ বিমানটিতে ১১০ সৈন্য এবং ১১ জন ক্রুসহ মোট ১২১ আরোহী ছিলেন। বিমানটি সৈন্যদের পুতুমায়ো প্রদেশের অন্য একটি শহরে নিয়ে যাচ্ছিল। এর আগে কর্মকর্তারা ১২৫ আরোহীর কথা জানিয়েছিলেন।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম এমন কিছু ভিডিও প্রকাশ করেছে যেখানে দেখা যাচ্ছে, স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের মোটরসাইকেলে করে আহত সৈন্যদের দ্রুত দুর্ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নিচ্ছেন।

কলম্বিয়ার বিমানবাহিনীর কমান্ডার কার্লোস ফার্নান্দো সিলভা বলেছেন যে দুর্ঘটনার বিস্তারিত এখনও জানা যায়নি, ‘তবে শুধু এটুকুই জানা গেছে যে বিমানটিতে সমস্যা দেখা দিয়েছিল এবং সেটি বিমানবন্দর থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে বিধ্বস্ত হয়।’

বিমানবাহিনী কমান্ডার আরও যোগ করেন যে, আহতদের রাজধানী বোগোটা এবং অন্যান্য স্থানের হাসপাতালে স্থানান্তরের জন্য ৭৪টি বেড সংবলিত দুটি বিমান ওই এলাকায় পাঠানো হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট পেত্রো এই দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশের সামরিক বাহিনীর বিমান ও অন্যান্য সরঞ্জাম আধুনিকীকরণের দীর্ঘদিনের দাবির কথা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন যে, এই প্রচেষ্টাগুলো ‘আমলাতান্ত্রিক জটিলতার’ কারণে বাধাগ্রস্ত হয়েছে এবং তিনি ইঙ্গিত দেন যে এর জন্য কিছু কর্মকর্তাদের জবাবদিহি করতে হবে।

পেত্রো বলেন, যদি বেসামরিক বা সামরিক প্রশাসনিক কর্মকর্তারা এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম না হন, তবে তাদের পদ থেকে সরিয়ে দিতে হবে।

সানচেজ লিখেছেন যে, এই দুর্ঘটনা দেশের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক। আমরা আশা করি, আমাদের প্রার্থনা এই শোক কিছুটা লাঘব করতে সাহায্য করবে।

 

সূত্র: যুগান্তর